

সৈয়দ মনির আহমদ >>>
শনিবার (৭ মে) ৪র্থ দফায় অনুষ্ঠিত ফেনী সদরের ৪টি ইউনিয়ন ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে পুলিশের উপপরিদর্শক মোঃ ইয়াছিনসহ অন্তত ১২জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ অর্ধশত আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন অভিযোগে পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে ২৫ জনকে আটক করেছে। এছাড়া নির্বাচনে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সোহেল জাল ভোট ও নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অপরাধে দুইজনকে একমাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ ইসমাইল ও লেমুয়ায় একই দলের মনোনীত প্রার্থী একরামুল হক ভূঞা ও ধলিয়ায় বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকের হোসেন জসিম। সকাল কেন্দ্রদখল ও জালভোটের অভিযোগে ভোটবর্জন করে পুনঃনির্বাচন দাবি করেছে।
শনিবার ভোটগ্রহণের শুরুতে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের জগন্নাথ সোনাপুর ভোটকেন্দ্রে আওয়ামীলীগ ও বিদ্রোহ প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন গুলিবিদ্ধ হয়। তারা হচ্ছেন- মোঃ শাহজাহান, শাহাদাত হোসেন, জয়নাল আবেদীন, আমান উল্যাহ। একই উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সতের কেন্দ্রে দুই ইউপি সদস্যের মধ্যে সংঘর্ষে ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তারা হচ্ছেন- কাজী রাসেল, রফিকুল ইসলাম খোকন, বাবলু, আরাফাত, কবির মাস্টার, মুসা মিঞা।
দুপুর সাড়ে ১১টায় ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের অলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা কেন্দ্র দখল করতে চাইলে পুলিশে বাধা দিলে এসময় তারা গুলি ছোড়ে। এতে পুলিশ উপরিদর্শক মো. ইয়াছিন গুলিবিদ্ধ হয়ে। আহত হয় প্রায় ১০ জন। আহত পুলিশ সদস্যকে ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এদিকে ছাগলানইয়া উপজেলার গোপাল ইউনিয়নের দক্ষিণ নিজকুঞ্জরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র জুলফিকার আলী ও মুহুরীগঞ্জ কেন্দ্রে সফিকুল ইসলাম নামে ২জনকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা দুইজনের প্রত্যেককে একমাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
দুপুর সাড়ে ১১টায় ধলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জন করেন। এদিকে, একই উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুল হকের উপর হামলা চালায় সরকার দলীয় সমর্থকরা। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। ওই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ৩০০টি জালভোট বাতিল করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য ডাঃ কর্মকর্তা মাইনুল হক জানান, সকাল থেকে ১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসারত রয়েছেন। এছাড়াও বেশকিছু শারীরীকভাবে আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
ছাগলনাইয়া উপজেলা রিটার্নিং অফিসার মাইনুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কেন্দ্রের ভেতরে কোন সমস্যা হয়নি। কেন্দ্রের বাইরে সমস্যা হতে পারে। তা দেখার দায়িত্ব আইন শৃংখলা বাহিনীর। জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুম আটকের সঠিক সংখ্যা জানাতে না পারলেও বিভিন্ন কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে দুইটি উপজেলায় কমপক্ষে ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
এ দুই উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ফেনী সদর উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়ন, ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নে দুইজন চেয়ারম্যান ও ৩৫ জন সদস্য প্রার্থী একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেনন। বাকি ৮টি ইউনিয়নের ৩১ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও প্রায় ৩ শতাধিক সদস্য পদপ্রার্থীর মধ্যে ভোটগ্রহণ চলছে। বিকাল ৪টায় শেষ হবে ভোটগ্রহন। এরপর শুরু হবে ভোট গগনা। অপরদিকে ছাগলানইয়ার লাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নে নির্বাচন বাতিলের দাবীতে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় জনতা।
