
ফেনী প্রতিনিধি:-ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যা মামলায় আরও তিনজন সাক্ষী বিচারিক আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ২৩ আগস্ট ধার্য করেছেন আদালত ।
বুধবার বিচারিক আদালতে বিচারক জেলা ও দায়রা জজ দেওয়ান মো. সফিউল্লাহর আদালতে নিহত চেয়ারম্যান একরামুল হকের ছোট ভাই মো. এহছানুল হক ও একরামের গাড়ির চালক আনোয়ার হোসেন এবং বেলাল হোসেন সাক্ষ্য দেন। এই পযন্ত এই মামলায় ১৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিলেন।
বিচারিক আদালতের পিপি হাফেজ আহাম্মদ এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, একরাম হত্যা মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত ৫৬ জন আসামির মধ্যে এ পর্যন্ত ৪৪ জন আসামি গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন জামিনে রয়েছেন। বুধবার ফেনী কারাগারে থাকা ৩৩ জন ও কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা ছয়জন আসামিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়। এ ছাড়া জামিনে থাকা পাঁচ আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্র জানান, গত ১৫ মার্চ ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৫৬ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। আদালতে আজ সাক্ষীদের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুল হাসান, মেজবাহ উদ্দিন, আহসান কবীর বেঙ্গল, সাহাব উদ্দিন ও সাইফুল্লাহ রাসেল।
সূত্র আরও জানান, চেয়ারম্যান একরাম হত্যার ঘটনায় গত বছর ২৮ আগস্ট ৫৬ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলার ৪৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫ জন হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
মামলার বাকি ১২ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।৫৬ আসামির মধ্যে একমাত্র বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মিনার চৌধুরী ছাড়া অন্যরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী।
২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী শহরের একাডেমি সড়কে বিলাসী সিনেমা হলের কাছে প্রকাশ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হককে (৪৭) গুলি করে ও পুড়িয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান একরামুল হকের ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মিনার চৌধুরীসহ অজ্ঞাত ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে ফেনী সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
