
৩১ আগষ্ট ২০১৬
আবুল হোসেন রিপন:-আদালত কর্তৃক সাজা প্রাপ্ত হওয়ার পর অপরাধীকে কারাগারে যেতে হয়।কারাগারে বন্দিকে কারা বিধি অনুযায়ী চলতে হয়।বন্দি নিম্ম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে।অবশ্য কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জেল আপিল করা যায়।আপিলে মুক্তি পেলেতো ভালো কথা।আর যদি সাজা বহাল থাকে তবে তাকে কারাগার থেকে রেয়াত প্রথার ভিত্তিতে বন্দিকে মুক্তি পেতে হয়।কারাগারে কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে বন্দিকে তার আচরনের উপর রেয়াত বা মার্কা প্রদান করে।যেমন সাধারন শাখা (জিডি)রেয়াত ও উৎপাদন শাখা (এমডি)রেয়াত,ডিআইজি রেয়াত,আইজি রেয়াত।সাধারন শাখায় একজন বন্দি প্রতি ৩ মাসে ২১ দিন,উৎপাদন শাখায় ১৮ দিন রেয়াত প্রদান করা হয়।এক বছর কারাগারে কোন অপরাধের সাথে জড়িত না থাকলে ১৫ দিনের ডিআইজি রেয়াত ও পর পর ৩ বছর কোন অপরাধে জড়িত না হলে ৬০ দিনের বিশেষ রেয়াত প্রদান করা হয়।কোন বন্দি প্রাপ্ত সাজার ৪ ভাগের ১ ভাগ ভোগ করলে কারা কর্তৃপক্ষ বন্দিকে পাহারা ও অর্ধেক ভোগ করলে ম্যাট( convict oversisr) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।এ ক্ষেত্রে প্রতি ৩ মাস অন্তর প্রদানকৃত রেয়াত ২/১ দিন বৃদ্ধি পায়।এ প্রক্রিয়া ছাড়াও বন্দি কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে স্বেচ্চায় রক্ত প্রদানের মাধ্যমে রেয়াত পেতে পারে।কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দি কি প্রক্রিয়ায় রক্তদান করে এবং কত দিন রেয়াত পেতে পারে এ বিষয়ে কারা সুত্র জানায়, যে কোন ব্লাড ব্যাংক বন্দিদের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন বরাবর আবেদন করে।সিভিল সার্জন সে আবেদন সংশ্লিষ্ট কারাগারের সুপার বরাবর প্রেরন করে।জেল সুপার ব্লাড ব্যাংকের সে আবেদন কারাগারের সহকারী সার্জনের নিকট প্রেরন করে।তারপর কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপক্ষে ব্লাড ব্যাংকের লোকজন কারাভ্যান্তরে কারা হাসপাতালে প্রবেশ করে।সে সময় কারাভ্যান্তরে দায়িত্বরত কারা হাবিলদার রক্তদানে ইচ্চুক সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের রক্ত প্রদানের জন্য কারা হাসপাতালে কয়েদী টিকেট সহ যাওয়ার আহবান করে।রক্তদানে ইচ্চুক সাজাপ্রাপ্ত বন্দি কারা হাসপাতালে গেলে সহকারী সার্জন ও ব্লাড ব্যাংকের লোকজন জনপ্রতি সর্বোচ্চ ১ পাউন্ড রক্ত সংগ্রহ করে।এরপর স্বেচ্চায় রক্তদানকারী সেই বন্দির টিকেটে ও কারা হাসপাতালের মিনিট রেজিষ্টারে নোট দিয়ে সহকারী সার্জন স্বাক্ষর করে কারা কতৃপক্ষের নিকট প্রেরন করে।কারা কর্তৃপক্ষ জেল কোডের বিধান মোতাবেক একবার স্বেচ্চায় রক্তদানের জন্য বন্দি কে প্রথম বার ৩০ দিনের রেয়াত প্রদান করে।এ রেয়াত সাজাপ্রাপ্ত বন্দির জন্য প্রচলিত এমডি/জিডি রেয়াতের সাথে যোগ করা হয়।রক্ত প্রদানের মাধ্যমে প্রাপ্ত রেয়াতের সব প্রমানাধি কারা কর্তৃপক্ষের নিকট সংরক্ষিত থাকবে।কোন অবস্থায় সেটা বন্দির হস্তগত হবেনা।তবে বন্দির টিকেটে তাহা লাল কালিতে লিপিবদ্ধ থাকবে।কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দির রক্ত প্রদানের মাধ্যমে রেয়াত পাওয়ার বিষয়ে জানতে মুঠো ফোনে চট্রগ্রাম বিভাগের উপ মহা কারা পরিদর্শক পার্থ গোপাল বনিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,৪ বছর ধরে সাজা প্রাপ্ত বন্দির রক্ত প্রদানের মাধ্যমে রেয়াত প্রদান প্রথা বন্দ রয়েছে মানে এ প্রথাটা বর্তমানে প্রযোজ্য নহে।কিন্তু যখন রক্ত প্রদানের মাধ্যমে রেয়াত প্রদানের প্রথা চালু ছিলো তখন মৃত্যুদন্ড বাদে যে কোন মেয়াদের একজন সাজা প্রাপ্ত বন্দি সাজা ভোগের সময় ৩(তিন) বারের অধীক স্বেচ্চায় রক্তদান করার বিধান ছিলোনা।অথ্যাৎ বন্দি যে কোন মেয়াদের সাজা ভোগের সময় তিন বারের অধীক রক্ত প্রদান করতে পারবেনা।বন্দি প্রথম বার রক্ত প্রদানের মাধ্যমে ৩০ দিন, দ্বীতিয় বার ৩২ দিন,তৃতীয় বার ৩৪ দিন রেয়াত কারা ভাষায় মার্কা পাবে।
