
সোনাগাজীর আলো ডটকম ডেস্ক:-ভূটানকে বলা হয় সৌন্দর্যের নগরী । ভূটানে যেতে যেহেতু বাংলাদেশীদের ভিসা লাগে না তাই অসংখ্য পর্যটক প্রতিবছরই ভূটান পাড়ি জমায় । অনেকেই আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন যে কিভাবে ভূটান যেতে হয় বাই রোডে । আজকের আয়োজনটা থাকছে আপনাদের প্রশ্নগুলোকে কেন্দ্র করে । আশা করি এই লেখনির মাধ্যমে অনেকেই উপকৃত হবেন ।
বাবার মুখে যখন প্রথম শুনেছিলাম তখন মনে হয়েছিলো এ যেন এক স্বপ্নের দেশকিন্তু বাস্তব যখন সামনে এসে দাঁড়ালো তখন দেখলাম ভূটান একটি সাজানো গোছানো পরিচ্ছন্ন ছবির মতো চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য নিয়ে বসে আছে । ভূটানে বাই রোডে কিভাবে যাবেন তা তুলে ধরা হলো ।

স্বপ্নের লীলাভূমি ভূটানে যেতে প্রথমেই আপনার ট্রানজিট ভিসা লাগবে । ট্রানজিট ভিসা আপনি শুধুমাত্র ঢাকার গুলশান শাখা থেকেই করিয়ে নিতে পারবেন । ট্রানজিট ভিসার বিস্তারিত বিবরণ আপনি নিচের লিঙ্কটিতে পাবেন ।
(https://www.facebook.com/…/mai…/permalink/10153409845671790/
রাতে শ্যামলী এস আর বাসে উঠে পড়ুন । কল্যাণপুর থেকে রাত ৯ টায় এবং আরামবাগ থেকে রাত ৮ টায় ছাড়ে এই বাস । সকাল ৭-৮ টার মধ্যেই আপনি বুড়িমারি সীমান্তে পৌঁছে যাবেন । সকাল ৯ টায় ইমিগ্রেশনের অফিস খুলবে তখন আপনি ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সকল কার্যাদি সম্পন্ন করে ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন । দুই বর্ডারের প্রয়োজনীয় কাজ সমাপ্ত হলে আপনি নির্দিষ্ট বাসে উঠে পড়ুন ।
এবার ইন্ডিয়া থেকে ভূটান যাবার জন্য ময়নাগুড়ি নামক জায়গায় নেমে অন্য একটি বাসে আপনাকে উঠতে হবে । ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৩০ রুপি । ভূটান-ইন্ডিয়া বর্ডারের কাছাকাছি যাবার জন্য এবার আপনাকে সাফারি নামক গাড়িতে উঠে পড়তে হবে । এরপর ৭ টাকা ভাড়া দিয়ে আপনাকে অটোতে উঠে বসতে হবে । অটোটি আপনাকে জয়গাও ইন্ডিয়ান ইমিগ্রশন অফিসে নামিয়ে দেবে । ইমিগ্রশন অফিসে এক্সিট সীল লাগিয়ে আপনি ভূটানে প্রবেশ করতে পারবেন । মনে রাখবেন কোন প্রকার ভূল তথ্য দেয়া যাবে না ।

কোন সমস্যাই হয় না ভূটান-ইন্ডিয়া বর্ডার পার হতে । ইমিগ্রশন পর্ব শেষ করেই সোজা চলে যাওয়া যায় ভূটানে । খাওয়া দাওয়াটাও চাইলে আপনি এখানেই সেরে নিতে পারেন, আমারমতে সেটাই ভালো হবে । তারপর আপনি আপনার নিজের ইচ্ছামতো পছন্দের শহরে চলে যেতে পারবেন ।
এখানে ঘুরে দেখার মতো রয়েছে থিম্পু, পারু, পোখারা এবং পুনাখা শহর ।
খরচাপাতি :
জনপ্রতি আপনার খরচ পড়বে ১৫-১৬ হাজার টাকা (শপিং ছাড়া)।
মনে রাখা ভালো, সময় স্বল্পতার জন্য আপনি হয়তো হাভেলি ও বুম্থাং-এর মতো আকর্ষণীয় জায়গায় যেতে পারেননি। হাভেলি, বুম্থাং ঘুরলে খরচ কিছুটা বাড়বে।
আর সব কিছুতে ট্যাক্সি বাদ দিয়ে পাবলিক বাসে ঘুরলে খরচ কিছু কম পড়বে কিন্তু সময় বেশি লাগবে।
কিছু লক্ষণীয়
১. ভারতীয় ভিসাসহ পাসপোর্টের ফটোকপির কয়েক কপি, আর পাসপোর্ট সাইজের ছবি সঙ্গে রাখবেন।
২. ন্যাশনাল আইডি কার্ডের দু-তিনটি ফটোকপি।
৩. চাকরিজীবী হলে NOC (No Objection Certificate) ও স্টুডেন্ট হলে আইডি কার্ডের দু-এক ফটোকপি।
৪. ভুটানে সরকারি ছুটি অনেক বেশি, তাই সরকারি ছুটির লিস্ট দেখে ভ্রমণ প্লান করলে ভালো।
৫. ভুটানে কোথাও কোনো মসজিদ ও মুসলিম রেস্টুরেন্ট আপনার চোখে পড়বে না। ভুটানিজ ভাত, ডাল, সবজি খুবই মজার। তারপরও আপনার প্রয়োজন মনে হলে, বাংলাদেশ থেকেই কিছু, আচার, চাটনি, বিস্কুট নিয়ে যেতে পারেন।
৬. ও হ্যাঁ, আরেকটা কথা, ভুটান শতভাগ ধূমপানমুক্ত দেশ। কিন্তু সবার জন্যই খোলা। কোথাও কোনো সিগারেট কিনতে পাবেন না, ধূমপানের মতো বদভ্যাস থাকলে সিগারেট সঙ্গে করে নিয়ে নেবেন। পরবর্তী সময়ে তা বারে (smoking zone), হোটেলে অথবা পাহাড়ে ধূমপান করতে পারবেন, কিন্তু ধরা পড়লে কোনো কথা নেই, নগদ মোটা অঙ্কের জরিমানা। তবে ধূমপান না করাই ভালো।
৭. নিজস্ব প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র বাংলাদেশ থেকেই নিয়ে গেলে ভালো।
