Friday, January 16সোনাগাজীর প্রথম অনলাইন পএিকা
Shadow

নিজাম হাজারীর জেল হাজতে থাকার তথ্য চেয়েছে হাইকোর্ট

IMG_20160803_103753
আগস্ট ১৭, ২০১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:-ফেনী-২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী বিচারিক আদালতের রায় ঘোষণার আগে কতদিন কারাবন্দি ছিলেন সেই হিসাব জানতে চায় হাইকোর্ট।বিষয়টি জানতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে এ মামলার বিচারিক রায়ের অনুলিপি সরবারোহ করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।একইসঙ্গে রায় ঘোষণার দিন পিছিয়ে আগামী ২৩ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।বুধবার বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্যপদ চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের রায় ঘোষণার জন্য আজ বুধবার দিন নির্ধারণ ছিল। বেলা ২টা ২৫ মিনিটে দুই বিচারপতি আদালতে আসন গ্রহণ করেন। আসন গ্রহণ করে আদালত নিজাম উদ্দিন হাজারী বিচারিক আদালতের রায় ঘোষণার আগে কত দিন কারাবন্দি ছিলেন সেই বিষয়টি আইনজীবীদের কাছে জানতে চান।আদালত বলেন, বিচারিক আদালতের রায়ের আগে তিনি কতদিন কারাবন্দি ছিলেন সেই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন কিনা? এ বিষয়ে আপনাদের কাছে (আইনজীবী) সার্টিফাইড কপি আছে কি? বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রায় ঘোষণা করা হবে নাকি বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে রায় ঘোষণা করা হবে বিষয়টি আইনজীবীদের কাছে জানতে চান।এসময় নিজাম হাজারীর আইনজীবী শফিক আহমেদ তাদের কাছে এ ধরের কোনো নথি নেই উল্লেখ করে তা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে আদালতকে জানায়।এরপর রায় ঘোষণার জন্য ২৩ আগস্ট দিন নির্ধারণ করে আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারকে এ মামলার রায়ের কপি সরবারোহ করতে নির্দেশ দেন আদালত।নিজাম হাজারীর পক্ষে আদালতে আরো উপস্থিত ছিলেন সাংসদ নরুল ইসলাম সুজন। রিট আবেদনকারী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী এবং সত্য রঞ্জন মণ্ডল।শফিক আহমেদ বলেন, নিজাম হাজারী বিচারিক আদালতে রায়ের পর্বে কত দিন জেল খেটেছেন বিষয়টি মামলার নথিতে উল্লেখ নেই। সেই বিষয়টি জানতে রায় ঘোষণার দিন পিছিয়ে দিয়েছেন আদালত। গত ৩ আগস্ট এ রিট আবেদনের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১৭ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেন আদালত। ‘সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সাংসদ’ শিরোনামে ২০১৪ সালের ১০ মে প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়৷ এতে বলা হয়, ২০০০ সালের ১৬ আগস্ট অস্ত্র আইনের এক মামলায় নিজাম হাজারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়। কিন্তু দুই বছর ১০ মাস কম সাজা খেটে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরে ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে নিজাম হাজারীর সাংসদ পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া।রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬(২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে। সে হিসেবে নিজাম হাজারী ২০১৫ সালের আগে সাংসদ হতে পারেন না।অথচ তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সাংসদ হয়েছেন।রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালের ৮ জুন হাইকোর্ট রুল দেন। তবে পরে হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চে এই রুল শুনানির জন্য কার্য তালিকায় উঠলেও বেঞ্চ দুটি শুনানিতে বিব্রতবোধ করেন। গত ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের এই বেঞ্চে রুল শুনানি শুরু হয়।এর আগে হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী কারা মহাপরিদর্শকের পাঠানো প্রতিবেদন ১৯ জুলাই আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, ১০ বছরের সাজার মধ্যে নিজাম হাজারী সাজা খেটেছেন ৫ বছর ৮ মাস ১৯ দিন। কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাজা রেয়াত পেয়েছেন ১ বছর ৮ মাস ২৫ (৬২৫ দিন)। রেয়াতসহ মোট সাজা ভোগ করেছেন ৭ বছর ৫ মাস ১৪ দিন। এখনো সাজা খাটা বাকি আছে ২ বছর ৬ মাস ১৬ দিন। তিনিমুক্তিপান ২০০৬ সালের ১ জুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *