Friday, January 16সোনাগাজীর প্রথম অনলাইন পএিকা
Shadow

প্রসঙ্গ- বাংলামেইল,সরকারেরর বিপক্ষে থাকলে ভালো,পক্ষে থাকলে যত সমস্য!

 

Banglamail-news-1-

আবুল হোসেন রিপন: আমার আশংকাটি শেষ পর্যন্ত সত্য হলো।দেশার প্রথম সারির জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল banglamail24.com এর নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।একই সাথে নিউজ পোর্টালটির সব সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করা হয়েছে বলে সরকারী তথ্য বিবরনীতে জানানো হয়েছে।যে সংবাদের সুত্র ধরে সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাহা কতটা যুক্তিযুক্ত এবং আইনসম্মত প্রশ্ন করার মত যথেষ্ট আইনী দুর্বলতা রয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি।০৭ আগষ্ট বাংলামেইলে প্রচ্চদে আমি যখন সংবাদটা দেখি তখন কেন জানি মন বলছিলো খড়গটা চলে আসলো।আমি যদিও বাংলামেইলে কাজ করিনা তথাপি পোর্টালটির সব সংবাদ দৈনিক কয়েকবার পড়ি।আমি এবি নিউজের সোনাগাজী প্রতিনিধি ও প্রেস নিউজের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োজিত রয়েছি।তারপরও বাংলামেইলের নিউজ রুমে ফোন দিয়ে সংবাদটির বিষয়ে আশংকার কথা জানিয়েছি।কিন্তু তারা যে যুক্তি দেখালো তাহা আইনিভাবে সঠিক।সারকথা হলো সংবাদ মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে অবগত করবে।দেশবাসী ঠিকই সঠিক তথ্যটি পেয়েছে কিন্তু নিউজ পোর্টালটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শাহাদাত উল্যা খান,নির্বাহী সম্পাদক মাকচুদুল হায়দার ছৌধুরী ও সহ সম্পাদক প্রশান্ত পলাশ কে ০৭ আগষ্ট র্যাব তাদের কার্যালয় থেকে আটক করে।সর্বশেষ খবর হলো তাদের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে আইসিটি এ্যাক্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে।প্রিয় পাঠক শিরোনাম টা এবার বলি।নিউজবাংলা৭১ নামের ঠিকানা বিহীন একটি ওয়েব থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে এমন শিরোনামে ০৬ আগষ্ট মধ্যরাতে একটি সংবাদ প্রচার করে।আওয়ামী বিরোধী শক্তি ও স্বাধীনতা বিরোধী দুর্বৃত্তরা সংবাদটি ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করে।এতে করে দেশ বিদেশে যথেষ্ট উদ্রেক,উৎকন্ঠা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।আমি যখন সংবাদটি ০৬ আগষ্ট রাতে আমার ফেসবুক আইডিতে দেখি তখন উদ্রেক উৎকন্ঠার সাথে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ি।নিউজবাংলা৭১ ওয়েবটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করে বুজতে পারি বিষয়টি পুরোপুরি গুজব।সেই মুহেত্ব জনাব জয়ের পেজবুক এ্যাক্টিব দেখে আমি নিশ্চিন্ত হই দুর্বৃত্তরা গুজব সৃষ্টি করে হয়তো দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পায়তারা করেছে।০৭ তারিক দুপুরেও জনাব জয়কে নিয়ে সংবাদটি যে গুজব তাহা সরকার বা আওয়ামীলীগের তরফ থেকে কোন বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।তারপর বাংলামেইলের সংবাদে গুজবের বিষয়ে দেশবাসী অবহিত হয়।বাংলামেইল তাদের সংবাদে ভুয়া ওয়েব নিউজবাংলা৭১ এর সংবাদটি যে গুজব ছিলো তাহা প্রচার করে।অথচ বিষয়টি ভুয়া ও গুজব দেশবাসীকে জানানোর কারনে বাংলামেইলের বন্দ হলো।গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ০৩ জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হলো।আমরা কোন আজব দেশে বসবাস করছি।যে ভুয়া ওয়েব জনাব জয়ের মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করেছে সেটি বন্দ হয়নি অথচ সেই সংবাদটি গুজব ছিলো যারা প্রচার করে দেশবাসীকে সঠিক তথ্যটা দিলো সেই বাংলামেইল বন্দ করে দেওয়া হলো।এ বিষয়ে আমি একটা গল্পের কথা মনে পড়লো।দুই বছর পুর্বে সোনাগাজী আওয়ামীলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে মসিমেলা নামের একটি ফেসবুক ফেইজে কুৎসা রটানো পোষ্ট করা হলো।সেই নেতা পোষ্টটি দেখে আমাকে ফোন করে দুইজনের নামে বিচার দিলো।আমি সেই দুইজনকে নেতার কাছে নিয়ে গেলাম।দুইজনের একজন অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে পোষ্টিটি মুচে দিয়ে পত্রিকায় প্রতিবাদ ছাপিয়ে দিতে সম্মত হয়।প্রিয় পাঠক তখন নেতাটি কি বলছিলো জানেন? নেতা বল্লো থাক মুচে দিলে হবে আর প্রতিবাদ দিতে হবেনা।বেশী মানুষ জনেনি প্রতিবাদ দিলে সবাই জানবে।আমার মনে হচ্চে বাংলামেইল সে অপরাধটি করেছে।সরকার হয়তো মনে করেছে ভুয়া ওয়েব জনাব জয়কে নিয়ে যে গুজব ছড়িয়েছে সেটা বেশী মানুষ দেখেনি কিন্তু বাংলামেইল ব্যাপক জনপ্রিয় হওয়ার কারনে গুজবের সংবাদটি যে গুজব ছিলো দেশের সবাই জেনে গেছে।এখন বলেন সাংবাদিকেরা মানুষের উপকার করবেনা অপকার করবে? আরেকটি বিষয় লিখলে আরো পরিস্কার ধারনা পাওয়া যাবে।২০১৩ সালে জামাত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাইদি চাঁদে চলে গেছে তার দলের লোকেরা পরিকল্পিত উপায়ে ফেসবুকে প্রচার করে দেশে ভয়াভহ তান্ডব ও নাশকতা চালিয়েছিলো।সাইদির চাঁদে যাওয়ার ঘঠনাটি যে স্রেফ গুজব সেটা দেশের কোটি কোটি ফেসবুক ব্যাবহারকারী তাদের ফেসবুকে প্রচার করে জামাতের নাশকতা ও তান্ডব বন্দ করার চেষ্টা করেছে।বাংলামেইল জনাব জয়কে নিয়ে নিউজবাংলা৭১ যে গুজব ছড়িয়েছিলো তাহা যে শুধুমাত্র  গুজব ছিলো তাহা প্রচার করে দেশের মানুষ কে অবগত করেছে।বাংলামেইলের বিষয়ে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিলো একই কারনেতো যারা সাইদি চাঁদে চলে গেছে বিষয়টি মিথ্যা গুজব প্রচার করে দেশকে জামাতের সহিংসতা থেকে বাঁচাতে চেয়েছে তাদের সবাইকে কারাগারে নেওয়া উচিত।দেশের প্রথম অনলাইন পোর্টাল bdnews24.com তাদের সংবাদে লিখেছে বাংলামেইল তাদের সংবাদটি প্রচারের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উংয়ের এক কর্মকর্তা ফোনে সংবাদটি মুছে ফেলার অনুরোধ করেছিলো কিন্তু বাংলামেইল তাহা করেনি।আমি ধারনা করছি বলার ধরনটি হয়তো সৌজন্যতা ছাড়িয়েছিলো তাই বোধহয় বাংলামেইল সংবাদটি মুছেনি।এরপর রাতেই তাদের উপর খড়গ নেমে এলো।এ বাংলামেইল তাদের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচারে আপোষহীন ছিলো।আমার অভিজ্ঞতায় সেটা জোরেশোরে বলতে পারি। তাহলে কি রাষ্ট্রের উপকার করার কারনে বাংলামেইল বন্দ হলো?কি নিষ্ঠুর পরিনতি।গুজব ছড়ানোর জন্য বাংলামেইলে কে বন্দ করা হলো।সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হলো যারা জনাব জয়ের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার সংবাদটি যে স্রেফ গুজব সেটা সংবাদ আকারে প্রচার করে দেশের মানুষকে গুজবের বিষয়টি অবহিত করে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোথায় যেন ভুল হচ্ছে।জাতীর জনকের দৌহিত্র সজিব ওয়াজেদ জয় দেশের কোটি কোটি মানুষের হ্নদয়ে মিশে আছে।আমার মনে হচ্ছে কারা যেন উনাকে নিরাপরাধ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নিয়ে যাচ্ছে।খন্দকার মোসতাকদের কারনে আমরা আমাদের জাতীর জনককে হারিয়েছি।সেই ক্ষত বাঙ্গালীরা কখনো পুষাতে পারবেনা।সর্বশেষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আকুল আবেদন জানাবো যেন বাংলামেইলের সংবাদ কর্মীদের মুক্তির ব্যাবস্থা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *