Friday, January 16সোনাগাজীর প্রথম অনলাইন পএিকা
Shadow

ফেনীতে নিষিদ্ধ ইজিবাইকে সয়লাব।। প্রভাবশালীরা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা

20160807_171825-1

সোনাগাজীর অালো  ডেস্ক ঃ নিষিদ্ধ তবুও চলছে। ফেনীসদর ও জেলার ৫টি উপজেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে ইজিবাইকের সংখ্যা। বাড়তে বাড়তে কোনো কোনো এলাকায় এমন অবস্থা হয়েছে যে, রাস্তার চেয়ে এসব ইজিবাইক জোড়া দিলে বেশি লম্বা হবে। অর্থাৎ রাস্তায় হাঁটা বা চলাচলের কোনো জায়গা খালি নেই। মধ্যরাতের আগে খালি থাকে না কখনো। এ অবস্থয় পায়ে হেটে চলা সবচেয়ে বেশি কঠিন। জেলা শহরের প্রতিটি এলাকায় অলিগলি এখন ইজিবাইক সয়লাব। যদিও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি ও প্রশাসনের কঠোর এবং কঠিন প্রদক্ষেপের ফলে শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কিছুদিন যাবত এসব ইজিবাইক ঢুকতে পারছেনা। যদিও নেপথ্যে আছে ¯’স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। নতুন গাড়ি নামলে বা চাকা ঘুরলেই যাকে নিদিষ্ট অঙ্কের মাসোহারা দিতে হয়। শুধু ফেনী শহরে রয়েছে প্রায় ১ হাজার থেকে ১২শ ইজিবাইক। এসব ইজিবাইক চলছে চোরাই বিদ্যুৎ দিয়ে। এতে করে বিদ্যুৎ বিভাগের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তারা লাভবান হ”েছ। আর ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, পরশুরাম ও সোনাগাজীসহ জেলার ৫টি উপজেলায় রয়েছে প্রায় ২সহস্রাধিক ইজিবাইক।  সারাদেশে পাঁচ লাখেরও বেশি ইজিবাইক চার্জের জন্য জাতীয় গ্রিড থেকে প্রতিদিন অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে।   ফেনীতে লোডশেডিংয়ের অন্যতম প্রধান কারণ এসব ব্যাটারিচালিত যান বলে অভিযোগ করেন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। দুর্ঘটনা কমাতে সারাদেশে মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত এসব যানবহন চলাচল নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। গত বছর এই আদেশ জারি হওয়ার পর কিছুদিন এসব চলাচল বন্ধ ছিল। এরপর আবার আগের মতোই চলাচল শুরু হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বহুবার এসব অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মন্ত্রীর নির্দেশের পর কিছুটা সক্রিয় হয় বিআরটিএ। চলে অভিযান ধরপাকড়। কিন্তু সেটি আর স্থায়ী হয় না রহস্যজন কারণে। ফেনী শহরের নাজির রোডের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ইজিবাইকের ভিড়ে রাস্তায় হাঁটা যায়না। সকালে বাচ্চাকে স্কুলে দিতে গিয়ে ভীষণ অসুবিধায় পড়তে হয়। এসব ইজিবাইকের কারণে প্রতিদিনই কোন না কোন দুর্ঘটনা ঘটছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইজিবাইকের এক চালক জানান, প্রশাসন এসব ইজিবাইক থেকে কোন টাকা না নিলেও একাধিক স্ট্যান্ডে প্রতিটি ইজিবাইকের ১০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয় চাঁদাবাজদের। প্রতি মাসে এসব ইজিবাইক থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। মাসে নির্দিষ্ট পরিমান কোন চাঁদা না থাকলেও প্রতিদিন ইজিবাইক চালকদের ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। কয়েকটি পৌরসভায় টোল অাদায়ের জন্য স্ট্যান্ড ইজারা দিয়েছে। আর এসব ইজিবাইক চার্জ দেয়ার জন্য রয়েছে অসংখ্যা গ্যারেজ। কিছু দোকানেও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে ইজিবাইক গুলো চার্জ দেয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে এই ইজিবাইকগুলো যে শুধু বিদ্যুতের অপচয় করছে তা নয়, এগুলো পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। সাধারণত একটি ইজিবাইকের জন্য ৪ থেকে ৫টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারী প্রয়োজন। আর প্রতি সেট ব্যাটারী চার্জের জন্য গড়ে ৮০০ থেকে ১১০০ ওয়াট হিসেবে ৫-৬ ইউনিট (দিনে বা রাতে কমপক্ষে ৫-৬ ঘন্টা) বিদ্যুৎ খরচ হয়। আর চুরি করে ও লুকিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে তা রিচার্জ করায় সরকার মোটা অংকের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

সম্পাদনা/এসএমএ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *