
২৯ আগষ্ট ২০১৬
সোনাগাজী প্রতিনিধি: ফেনীর সোনাগাজীর চরমজশিপুর ইউনিয়নে যুবলীগ নেতা ফারুকের পিস্তলের গুলিতে স্বেচ্চাসেবকলীগ নেতা সোহাগ খায়ের গুরতর আহত হয়েছে এমনটা জানিয়েছে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা।
রবিবার রাত ৯টার সময় আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে বদরপুর রাস্তার মাথায় ঘটনাটি ঘটে। বুকে গুলিবিদ্ধ গুরতর আহত সোহাগ খায়ের চট্রগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে বলে জানিয়েছেন তার ভাই ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আনোয়ার খায়ের। এ ঘটনার পর ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃংখলা অবনতির আশংকায় এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায় ,এলাকায় আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে গত ১ বছর যাবৎ ইউনিয়ন যুবলীগ সম্পাদক ফারুক হোসেনের সাথে সভাপতি আনোয়ার খায়েরের বিরোধ চলছে।সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচন কে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধ প্রকট আকার ধারন করে।সুত্র জানায়,নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রথমে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পান আনোয়ার খায়ের।কিন্তু জেলা আওয়ামীলীগের এ সিদ্ধান্ত বাতিল করে কেন্দ্রিয় আওয়ামীলীগ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এম.এ হোসেন কে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনিত করে।নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করে আনোয়ার খায়ের পরাজিত হয়।এ পরাজয়ের জন্য ফারুক কে দায়ী করে আনোয়ার খায়ের তার সাথে সরাসরি বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।গত ২৩ আগষ্ট মজলিশপুর ইউনিয়নে লক্ষীগঞ্জ গ্রামে গরু ব্যাবসায়ী মাইন উদ্দিনের ৮ টি গরু চুরি হয়।এ ঘটনায় ফারুক গরু চোর সন্দেহে আনোয়ার খায়েরের একজন সমর্থক সহ চার জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।তবে এলাকাবাসীর মতে আনোয়ার খায়েরের সেই সমর্থক গরু চুরি সাথে জড়িত না।এ ঘটনার পর এলাকায় দু গ্রুপের বিরোধ চরম আকার ধারন করে।এরই জেরে রবিবার রাতে স্বেচ্চাসেবকলীগ নেতা আমির খায়ের বদরপুর রাস্তার মাথার চা দোকানে আড্ডারত অবস্থায় ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে ৭/৮ জন সন্ত্রাসী তাকে গুলি করে। গুলিবদ্ধি হয়ে আমির খায়ের লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ফারুক কে ধাওয়া করে ধরে গনপিটুনি দেয়।কিন্তু তার সহযোগীরা এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজী করে জনতার কাছ থেকে ফারুক কে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। গুলিবদ্ধি আমির খায়ের কে চিকিৎসার জন্য প্রথমে ফেনীর আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হলে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাকে চট্রগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরন করে।ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার অসিম কুমার সাহা জানান,ভিকটিমের বুকের উপর ছোট অস্ত্রের গুলির চিহ্ন রয়েছে।সোনাগাজী মড়েল থানার ওসি হুমাযুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,অভিযুক্ত ফারুক ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।এদিকে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থানরত যুবলীগ নেতা আনোয়ার খায়ের মুঠোফোনে জানান,আমির খায়ের অপারেশন থিয়েটারে রয়েছে।ডাক্তার বলেছে তার অবস্থা আশংকাজনক।তিনি ঘটনার জন্য ফারুক কে দায়ী করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান।অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফারুকের মোবাইলে কয়েকবার ফোন দিয়েও তার বক্তব্য জানা যায়নি।
