Friday, January 16সোনাগাজীর প্রথম অনলাইন পএিকা
Shadow

সোনাগাজী -মীরসরাই সমুদ্র উপকূলে সমুদ্র বন্দর নির্মান করা যাবে

SHAFBD_1470823163

অনলাইন ডেস্ক নিউজ

 

মীরসরাই ও সোনাগাজী সমুদ্র উপকূলে দেশের চতুর্থ সমুদ্র বন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উক্ত সমুদ্র উপকূলে সমুদ্র বন্দর নির্মাণ সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। সরকার দেশের অভ্যন্তরে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের মীরসরাই ও ফেনী জেলার কিছু অংশ নিয়ে বঙ্গোপসাগর সমুদ্র উপকূলে দেশের সর্ববৃহত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে। প্রায় ৩০ হাজার একর জমি নিয়ে এ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার

লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রাথমিক পর্যায়ে সাড়ে ৭ হাজার একর জমির উন্নয়ন কাজ শুরু করা হয়েছে। এই সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে বিধায় উক্ত স্থানে একটি সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা সম্ভব কি না তার ব্যাপারে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়স্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল অথরিটির (বেজা) পক্ষ থেকে মে মাসে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে এক পত্র দেওয়া হয়। পত্রের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্যকে (হারবার ও মেরিন) প্রধান করে ৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে কমিটির পক্ষ থেকে সমুদ্র উপকূলীয় ওই এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনসহ কয়েক বছরের উপকূলীয় পানির গভীরতা এবং

সার্বিক দিক পর্যালোচনা করা হয়। তাছাড়া সমুদ্র বন্দর হওয়ার সম্ভাব্য উপযোগিতা ও অবকাঠামোগত এবং হাইড্রোগ্রাফিক সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয় বলে জানা যায়। সকল সুবিধা ও অসুবিধা উল্লেখপূর্বক মীরসরাই-ফেনী অর্থনৈতিক অঞ্চল সংলগ্ন সমুদ্র উপকূলে সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা যেতে পারে বলে কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনৈতিক অঞ্চল সংলগ্ন সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় পানির গড় গভীরতা ৬/৭ মিটার। যা ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ৮/৯ মিটারে উন্নীত করার মাধ্যমে ওই মাত্রার ড্রাফটের জাহাজ সার্বক্ষণিক বার্থিং করা যাবে। তবে বহির্নোঙর থেকে প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত চ্যানেল ড্রেজিং করতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত বন্দর এলাকা ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন বিশিষ্ট মহাসড়কের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকায় যোগাযোগ খুবই সহজ হবে। তাছাড়া মহাসড়কের ৫০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ থাকায় সড়ক ও রেলপথে সারাদেশের সাথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ করা যাবে। উক্ত এলাকায় সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা হলে দেশীয় লাইটারেজ জাহাজ এবং বিদেশি বড় জাহাজ উক্ত এলাকায় বার্থিং করার ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের চাপ কমে যাবে। সমুদ্র বন্দর নির্মাণের ফলে পুরো এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন এবং কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত হবে এবং বেকারত্ব কমে যাবে। চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি প্রস্তাবিত সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা হলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাথে ট্রানজিট, ট্রান্সশিপমেন্ট এবং এশিয়ান হাইওয়ের সাথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ স্থাপন সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদনের ভূমিকায় বলা হয়, মীরসরাই-ফেনী অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ত্বরিত আমদানি-রপ্তানির স্বার্থে উক্ত এলাকায় একটি বন্দরের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য ১৯৮১ সালের তুলনায় ২০১০ সালে প্রায় ৩ দশমিক ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় ২০১২ জিডিপিতে রপ্তানি বাণিজ্যের অবদান ছিল ২০ দশমিক ৮০ শতাংশ। যা ২০২১ সালে প্রায় ২৬ শতাংশে উন্নীত হবে মর্মে মত প্রকাশ করা হয়। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য প্রণীত ৩০ বছরের মহাপরিকল্পনায় চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর এ চাপ হ্রাস করার জন্য হলেও মীরসরাই এলাকায় সমুদ্র উপকূলে সমুদ্র বন্দর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে ওই স্থানে সমুদ্র নির্মাণে সম্ভাব্য অসুবিধা ও তার সমাধানের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। মহাসড়ক পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ, বৈদ্যুতিক স্থাপনাসহ সকল অবকাঠামো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

(সুত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক)

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *