
২৬ সেপ্টেম্বর ১৬
সোনাগাজীর আলো ডেস্ক:মৃত্যুর ৩৩ পর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার (এমএন লারমা) ওপর শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতীয় সংসদ। রবিবার দশম জাতীয় সংসদে দ্বাদশ অধিবেশনের প্রথম দিনের শুরুতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সাবেক এই সংসদ সদস্যের শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করলে তা গৃহীত হয়।
শোক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার খেদারছড়ার থুম এলাকায় ‘বিভেদপন্থী গিরি-প্রকাশ-দেবেন-দেবেন-পলাশ চক্র’নামের একটি সশস্ত্র গ্রুপের আক্রমণে নিহত হন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৪। স্বতন্ত্র হিসেবে তিনি ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের এবং ১৯৭৩ সালে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এম এন লামরা জনসংহতির বর্তমান নেতা সন্তু লারমার বড় ভাই।
৩৩ বছরে পরে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করার কারণ সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখার পরিচালক মোতাহের হোসেন বলেন, ‘রেওয়াজ অনুযায়ী কোনেও এমপি মারা গেলে, তা সংসদের পরের অধিবেশনের প্রথম দিনে শোকপ্রস্তাব আকারে গ্রহণ করা হয়। কিন্ত এমএন লারমা মারা যাওয়ার পর কোনেও শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। যে কারণে তার মৃত্যুর বিষয়টি সংসদের নথিতে নেই। রাঙামাটির স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার একটি ডিও লেটার দিয়ে বিষয়টি সংসদের নজরে আনলে এই অধিবেশনে তার মৃত্যুর বিষয়টি শোকপ্রস্তাব আকারে গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।’
শোকপ্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘এম এন লারমা ১৯৩৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার ননিয়ারচর থানার মহাপূরমে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৮ সালে রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৬০ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে আইএ, ১৯৬৫ সালে একই কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি বিএড এবং ১৯৬৯ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার আগে ১৯৬৬ সালে তিনি দিঘিনালা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৮ সালে তিনি চট্টগ্রাম রেলওয়ে কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৬৯ সালে আইনজীবী হিসেবে চট্টগ্রাম বার অ্যাসোসিয়েশনে যোগ দেন।
এম এন লারমার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৬৫ সালে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে। ১৯৫৮ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। ১৯৬২ সালে তার উদ্যোগে পাহাড়ি ছাত্র সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গঠন করে এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি এই সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন ১৯৭৩ সালে। এরপর এম এন লারমা ১৯৭৫ সালে বাকশালে যোগ দেন। তবে ১৯৭৭ ও ১৯৮২ সালে তিনি জনসংহতি সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন।
রেওয়াজ অনুযায়ী শোকপ্রস্তাবের একটি অনুলিপি এম এন লারমার পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানো হবে।
