Wednesday, January 14সোনাগাজীর প্রথম অনলাইন পএিকা
Shadow

কি হবে তাকে বন্ধু রেখে?

FB_IMG_1473182690237

২৪ সেপ্টেম্বর ১৬

আবুল হোসেন রিপন:-সেতো আর কখনো ফেসবুকে আসবেনা।ফোন না ধরলে ফেসবুকে মেসেজ দিয়ে বলতো সাংবাদিক ফোনটা ধর।এখন আর ফোনও করেনা,মেসেজও দেয়না।সেতো চলে গেছে না ফেরার দেশে।কত কথা হয়েছে তার সাথে অথচ জ্যান্ত সেই মানুষটি আমাদের মাঝে নেই ভাবতে হ্নদয় ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়।প্রায় আমাকে বলতো রিপন জীবনের হুমকিতে আছি,আমার জন্য একটা নিউজ কর।আমি তাকে বলতাম রাজনৈতিক বিষয় রাজনীতি দিয়ে সমাধান করতে হয় নিউজ করে লাভ কি হবে?মৃত্যুর দুই দিন পূর্বে ৪ সেপ্টেম্বর তার সাথে ফোনে অনেকক্ষন কথা হয়েছিলো।সে অনেক কথা যাহা আমার মৃত্যু অবদি মনে থাকবে।মৃত্যুর ৪/৫ ঘন্টা পূর্বে আমাকে ফোন দিয়ে বল্লো রিপন রাতে একটা অনুষ্ঠান আছে শহরে থাকলে অবশ্যই আসবি।যেতে পারিনি কিন্তু সেই পারিবারীক অনুষ্ঠান শেষে আমার সাথে ট্রাংক রোড়ে দেখা হয়েছিল।তাকে তখন খুব অস্থীর লাগছিলো।অনেকটা জোর করে চা,সিগারেট খেলাম।আমি তাকে বলেছি আমাকে লালপোল পর্যন্ত দিয়ে বাড়ীতে যেতে।সে বল্ল তুই চলে যা,মহিপালে একটু কাজ আছে।সে যখন হোন্দা স্টার্ট দিলো আমি আবার তাকে বল্লাম তিনটা বাচ্চার দিকে তাকিয়ে রাজনীতিটা ছেড়ে দেয়,এসব করে কোন লাভ নেই।তোর কিছু হলে তিনটা বাচ্চা এতিম হয়ে যাবে।আবার দুইজনে জীবনের শেষ চা একত্রে খেলাম।তারপর হোন্দা চালিয়ে চলে গেলো মহিপালের দিকে, আর আমি সিএনজি যোগে সোনাগাজী রওয়ানা হলাম।বাড়ীতে এসে পরনের প্যান্টাও খুলিনি। মোবাইলে ফেসবুকের নোটিফিকেশনের শব্দ পেলাম।খুজে দেখি এস.এ টিভির মাইনুল রাশেলের পোষ্ট ফেনীর বালিগাঁও এর জয়নাল মেম্বার কে কুপিয়ে হত্যা,সাথে হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে থাকা তার নিথর দেহের ছবি।জ্ঞান হারিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে গেলাম।কিছুক্ষন পর যখন একটু স্বাভাবিক হয়ে তার নম্বরে ফোন দিয়ে সেটা বন্দ পেলাম।সহকর্মী নুরুল্যা কায়সার ও হানিফ কিরন ভাই কে ফোন দিয়ে নিশ্চিত হলাম।এইতো ২ ঘন্টা পূর্বে যার সাথে শেষ দেখা হয়েছে সে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে।হ্যাঁ বন্দুরা আমি এতক্ষন ফেনীর বালিগাঁও এর জয়নাল মেম্বারের কথা লিখেছি।তার সাথে আমার পরিচয় ৯৬ সালে।তৎকালিন বিএনপি সরকারের বিতর্কিত ১৫ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন প্রতিরোধের সময়ে লালপোলে জয়নাল মেম্বার ও শাহ আলম ভাইয়ের সাথে দেখা।লালপোলে আমি ও মামাতো ভাই বসর সোনাগাজীর গাড়ীর জন্য অপেক্ষা করছিলাম।জয়নাল মেম্বার আমাদের দেখে বল্ল ভাই আপনারা এখান থেকে চলে যান পুলিশ আসলে বিপদে পড়বেন।তার সঙ্গে তখন প্রায় ৩০/৪০ জন সঙ্গী ছিলো।বুঝতে পেরেছি তারা পিকেটিংয়ের জন্য দাড়িয়েছিলো।সেই থেকে পরিচয়।তারপরের ইতিহাস অনেক লম্বা।লিখে শেষ করা যাবেনা।জয়নাল মেম্বার কারাগারের যাওয়ার পর তার প্রথম স্ত্রীর ডিপোর্স লেটার পাওয়ার পর তার সেদিনের কান্না কখনো ভুলতে পারবোনা।২০০১ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় না আসার খবরে দাউদপুর ছৌধুরী বাড়ীর মরহুম পিন্টু ভাইকে জড়িয়ে জয়নাল মেম্বারের কান্না হ্নদয়ে এখনো গেথে আছে।২০০৩ সালে কুমিল্লা কারাগার থেকে কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তরের সময় তাকে একটা লাল গেঞ্জি ও ৭০ টাকা দিয়েছিলাম।আমি পারিবারীক চাপে রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে অনেকটা নি:সঙ্গ জীবন যাপন শুরু করলাম।জয়নাল যখন কারাগার থেকে বের হলেন তখন তাকে অনেক অনুরোধ করেছি রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার জন্য কিন্তু আমার কথা শুনেনি।তার দ্বীতিয় বিয়ের সময় অনেকটা জোর করে অনুষ্ঠানে নিয়েছিলো।কত স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে তার সাথে।স্বেচ্চাসেবক দল নেতা মনির হত্যার সাথে সম্পৃক্ততার কথা শুনে আমি জয়নালের সাথে সব রকমের যোগাযোগ বন্দ করে দিয়েছিলাম।তাকে গ্রেফতারের দিন ভাংচুরের যে নাটক করেছিলো তারই খুনিরা ভাবতে সত্যিই অবাক লাগে।কাকতলীয়ভাবে সেদিনও আমি লালপোলে অনেকের সাথে আটকা পড়েছিলাম।ভাংচুরের কারনে সব যান চলাচল বন্দ, খবর নিয়ে জানতে পারি মনির হত্যার আসামী হিসেবে পুলিশ জয়নাল কে গ্রেফতার করেছে।পরে অবশ্যই জেনেছি অবাধ্য হওয়ার কারনে জয়নাল কে মনির হত্যা মামলায় জয়নাল কে ফাসানো হয়েছে।যাক সেসব কথা।জয়নাল মেম্বারের সাথে ২০ বচরের সুখ দু:খের স্মৃতি কখনো ভুলা যাবেনা।আওয়ামীল আওয়ামীলীগ করে জীবনা শেষ করেছে।শেষে সেই আওয়ামীলীগের হাতে তাকে প্রান দিতে হয়েছে।আওয়ামীলীগের জন্য জয়নাল মেম্বারের অবদান কোন কিছু দিয়ে আওয়ামীলীগ তাহা পুরন করতে পারবেনা।এ আওয়ামীলীগের জন্য সে দুই লাইফ সাজা নিয়েছে।তার জীবনের সোনালী সময়টা আওয়ামীলীগের জন্য ব্যায় করেছ।অথচ সে আওয়ামীলীগের হাইব্রীড নেতৃত্ব তার জন্য একটু শোকও প্রকাশ করেনি।হত্যাকারীকে রক্ষা করার জন্য মহা ক্ষমতাধর ব্যাক্তিটি জয়নালের পিতা কে ফোনে ডেকে নিয়ে বলে আমি জয়নালের পরিবার কে দেখবো,হাতে কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলে যান ওমুককে বাদ দিয়ে থানায় মামলা দেন।সেই মহা ক্ষমতাধর ব্যাক্তিটিকে পিচনে হাত বাধা ও চোখ বাধা দেখে ক্ষুব্ধ জয়নাল মেম্বার জেল পুলিশের সাথে তর্কে জড়িয়ে বেদম পিটুনি খেয়েছে।অনেক অজানা কথা,কোন দিন জানাতে পারবোনা,আর জানানোর চেষ্টাও করবোনা।তার কথা মনে পড়লে সন্ধ্যাকাশের দিকে তাকিয়ে দুইফোটা অশ্রু বিসর্জন দিয়ে বলবো জয়নাল তোকে কখনো ভুলবোনা রে।পায়ে ব্যাথা পাস বলে আমাকে বলতি রিপন ডান্ডােবেরীটা আনফিট করার ব্যাবস্থা করনা,আর পারছিনা।আমি ডাক্তার আবুল হাসেম আনাচারিকে কে বলে ৬ মাসের জন্য ডান্ডাবেরী আনফিট করিয়ে দিয়েছিলাম।তোর সেই পা গুলোকে এমনভাবে ক্ষত বিক্ষত করলো তারা।২১ আগষ্ট ২০০৪ শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলার খবর পেয়ে সে আমাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে একটা চিঠি লিখেছিলো,শেখ হাসিনার প্রতি জয়নালের অন্ধ আনুগত্য কতটা প্রবল ছিল সেই চিঠি পড়ে আমি বুঝেছিলাম।  হত্যাকারীরা যে আল্লাহর বিচার থেকে রক্ষা পাবেনা সেটা নিশ্চিত।পৃথিবীতে সেই বিচার দেখার অপেক্ষায় থাকলাম।জয়নাল কে ফেসবুক থেকে আনফেন্ড করেদিলাম।যে ফেসবুকে সে আর কখনো আসবেনা।কি হবে তাকে ফেসবুকে বন্দু রেখে? সেতো আর ফিরে আসবেনা আমাদের মাঝে।সম্পাদক-সোনাগাজীর আলো ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *