প্রকাশ- ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ বৃহষ্পতিবার ০৮:০০

শাখাওয়াত হোসেন : ফুলগাজীতে অজত্নে অবহেলায় পড়ে রয়েছে কীর্তি নারায়ণ চৌধুরীর চারশত বছরের পুরোনো সেই ঢোল মন্দিরটি। উপজেলার সদর ইউনিয়েনের বাসুড়া গ্রামে জোড়া দীঘির মাঝখানেই এই ঢোল মন্দিরের অবস্থান।
ফুলগাজীর এই ঐতিহ্যেবাহী ঢোল মন্দিরকে ঘিরে শত বছর পুর্বেও হত নানান আয়োজন। তবে কীর্তি নারায়ণ চৌধুরীর এই ঢোল মন্দিরে তৎকালীন ভারত হইতেও আসতেন হিন্দুরা মহাদেব পুজো করা জন্য। মানস করা হতো জীবিত ছাগল। ঢেলে দিতেন মন্দিরে কোথায় যেত তা আর কেউ জানতেন না।
স্হানীয় বাসিন্দা বাসুড়া গ্রামের নারায়ণ দে (৮৫) সোনাগাজীর অালোকে বলেন, আর্তিক অনটনের অভাবে তখনকার সময়ে চৌধুরীরীরা ছাড়া আর কেউ পুজা দেওয়ার ক্ষমতা ছিলনা। ৭৫ বছর আগেও আমরা দেখছি এখানে মহাদেব পুজো করার জন্য দেশি বিদেশী হিন্দুরা ভীড় জমাতেন।
কীর্তি নারায়ণের বহুত পরের বংশধর ছিলেন পরেশ চৌধুরি। এই পরেশ চৌধুরীর নামে আছেন ফুলগাজী জোড় দীঘি (পুর্ব) অর্থাৎ ফুলগাজী সরকারি কলেজের সামনের দীঘিটি। জানতে চাইলে এই ঢোল দীঘির বয়স কত হবে। ৮৫ বছরের বয়োজস্ট বৃদ্ধ অকপটে জানিয়ে দিলেন যে তিনি ও শুনেছেন চারশত বছরের কম হবেনা।
বারু শংকর চৌধুরী (৬৬) কীর্তি নারায়ণ চৌধুরীর আরেক বংশধর পরেশ চৌধুরীর ভাতিজা। তিনি ফুলগাজী সরকারি কলেজের একজন এমএলএসএস (অফিস পিয়ন) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বলেন, কীর্তি নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন আমাদের হিজার হিজা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্হানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যিনি ফুলগাজী সরকারি কলেজের নামে জমি দান করে এত বড় মহৎ কাজ করেছেন।অথচ তাঁর একখান ছবি শোভা পেলোনা ফুলগাজী সরকারি কলেজের অফিসে কক্ষে।
তবে এলাকাবাসী দাবি করেন সরকারের প্রত্নতত্ন বিভাগের সংলিস্টরা দৃষ্টি দিলে চারশত বছরের পুরোনো ঢোল মন্দিরটির সংস্কার করে এবং আশপাশের মন্দিরে যাওয়ার আসা ব্যবস্হা করলে একদিকে যেমন ফিরে পাবে চারশত বছরের পুরোনো সেই ঐতিহ্যে আর অন্য দিকে দর্শনীয় স্হান হিসেবে গড়ে উঠবে ফুলগাজীর সেই বাসুডার ঢোল মন্দির।
সম্পাদনা/সৈয়দ মনির।
