Wednesday, January 14সোনাগাজীর প্রথম অনলাইন পএিকা
Shadow

বাংলাদেশ আ’লীগের সম্মেলন : আলোচনায় ফেনীর নাছিম ও লিপটন

 

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৮:০০:০০

lipton

অনলাইন ডেস্কঃ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছেন বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও বিতর্কিতরা। নতুন মুখ হিসেবে অভিজ্ঞদের প্রাধান্য দেয়া হবে। আসতে পারেন নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্য দেখিয়েছেন বা দেশ ও দলের মান বাড়িয়েছেন এমন অনেকে। তবে দলটির আসন্ন সম্মেলনে তরুণদের জন্য দ্বার খুলবে খুব কমই। আর যারা দলে ও সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েও দলীয় সভাপতির আস্থা ধরে রাখতে পারেননি তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকছেন না, পাবেনও না। এক্ষেত্রে বিবেচনা করা হবে ১/১১-তে ভূমিকা, সরকারে ও দলে দায়িত্ব পালনকারীদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ, দলে অবদান ও আনুগত্য এবং সাংগঠনিক, ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগ্যতা।

এ সম্মেলনের ভাবনায় থাকছে পরবর্তী নির্বাচন ও বর্তমান সরকারের শেষ সময়ের রাজনৈতিক ময়দান। সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি মাথায় রেখে সাজানো হবে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। সে অনুযায়ী শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে এবারের সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে ভিশন-২০৪১, পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা বন্দরসহ উল্লেখ থাকবে সরকারের গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরে প্রচারণা চলবে। নির্দেশনা থাকবে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে।

আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। ভেতরে ভেতরে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ ও জল্পনা-কল্পনা। কে কোন পদ পেতে যাচ্ছেন, কার পদোন্নতি হচ্ছে, কে বাদ পড়তে যাচ্ছেন- এ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।

২০০৯ সালের সম্মেলনের পর দলকে আমূল ঢেলে সাজান সভাপতি শেখ হাসিনা। অনেক দাপুটে নেতার স্থান হয় প্রেসিডিয়াম থেকে উপদেষ্টা পরিষদে। অনেকে দল থেকেও বাদ পড়েন। নেতৃত্বে আসে অনেক নতুন মুখ। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সম্মেলনেও। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের সূত্র জানায়, এবার বড় কোনো পরিবর্তন চান না দলীয় প্রধান। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা, দলীয় আনুগত্য এবং দায়িত্বের প্রতি নিষ্ঠা দেখিয়েছেন যারা এমন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে সুখবর।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিশ্ব রাজনীতির চমক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লিডারশিপকে নিয়ে দেশ-বিদেশে যারা কাজ করছেন, তাদের সামনে রেখেই দল সাজাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের সাধারণ সম্পাদক পরিবর্তন হচ্ছে না এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এ পদের জন্য অনেকে আগ্রহী হলেও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ‘রানিংমেট’ হিসেবে ‘দক্ষ ও বিশ্বস্ত’ আশরাফকেই চান। তবে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামে আসবে বেশ কিছু পরিবর্তন। বয়সসহ নানা কারণে বাদের তালিকায় আছেন অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সতীশ চন্দ্র রায়, নূহ-উল-আলম লেনিন প্রমুখ। প্রেসিডিয়ামে নতুন যোগ হবে ৩ থেকে ৪টি পদ। সেক্ষেত্রে এখানে যোগ হতে পারে ৬টি নতুন মুখ। এ তালিকায় আছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সিলেট অঞ্চল থেকে সাবেক চিফ হুইফ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহিদ অথবা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। যুগ্ম সম্পাদক পদের সংখ্যা ১ বা একাধিক বাড়তে পারে। সে বিবেচনায় এখানেও আসতে পারেন ৩ জন নতুন ব্যক্তি। ৭ সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে কয়েকজন বাদ এবং দু-একজনের পদোন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন এবং খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হককে নিয়ে রয়েছে বিস্তর সমালোচনা। আর বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ আরও দু’একজনের পদোন্নতির জোরালো আলোচনা রয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ সাতটি। ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ বাড়বে। এছাড়া ফরিদপুর ও কুমিল্লা বিভাগ হলে সাংগঠনিক পদ বাড়বে। নতুন এ সাংগঠনিক বিভাগের সাংগঠনিকের দৌড়ে এগিয়ে অাছেন উপ কমিটির সহ সম্পাদক জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন,  সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বর্তমান কমিটি থেকেই পদোন্নতি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে আছেন সাবেক ছাত্রনেতা শাহে আলম, ইসহাক আলী খান পান্না, পংকজ দেবনাথ এমপি প্রমুখ। খুলনা বিভাগের দায়িত্বে আসার আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন, সাইফুজ্জামান শিখর প্রমুখ।

চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম আমিন, সাবেক ছাত্রনেতা মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরীর মধ্য থেকে কেউ। রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে কিংবা কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য কোনো পদে আসতে পারেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, নওগাঁর এমপি ইসরাফিল আলম, নাটোরের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা শংকর গোবিন্দ চৌধুরীর মেয়ে উমা চৌধুরী। রংপুর বিভাগের দায়িত্বে আসতে পারেন মাহবুবা আক্তার গিনি অথবা মাহমুদ হাসান রিপন।

নতুন বিভাগ হলে ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেতে পারেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এনামুল হক শামীম, ইকবাল হোসেন অপু, বাহাদুর বেপারির মধ্যে থেকে কেউ। কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণার পর এর দায়িত্ব দেয়া হতে পারে সুজিত রায় নন্দী অথবা নতুন কাউকে। ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বে আসতে পারেন মির্জা আজম অথবা সাবেক কোনো ছাত্রনেতা। ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর নাম সর্বাগ্রে আলোচিত হচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসতে পারেন দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, রবিউল মুক্তাদির চৌধুরী, আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, দলের সহসম্পাদক অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবির কাওসার, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন প্রমুখ। পদোন্নতির তালিকায় আরও রয়েছেন আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) ফারুক খান, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ডাব্ল–, উপপ্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপদফতর সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস প্রমুখ। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা শাহে আলম, ইসহাক আলী খান পান্না, বাহাদুর বেপারি, মাহবুবুল হক শাকিল, লিয়াকত শিকদার, সাইফুজ্জামান শিখর, ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন, মাহমুদুল হাসান রিপন, বীরেন শিকদার, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, আবদুল মজিদ, প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, ডা. নুজহাত চৌধুরী, মনিরুজ্জামান মনির, প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি প্রমুখ।

স্বাভাবিকভাবেই এবার কমিটির আকারও বাড়তে যাচ্ছে। তবে তা কোনোভাবেই ৮১-এর বেশি হবে না। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে প্রশিক্ষণ সম্পাদক পদ যোগ হবে। কেন্দ্রের পাশাপাশি বাড়বে তৃণমূলের কমিটিরও আকার। মহল্লা কমিটি ৩১ সদস্য থেকে বাড়িয়ে ৪১ করার প্রস্তাব প্রস্তুত হচ্ছে। ইউনিট কমিটি (মহানগর) ৩৭ সদস্য থেকে বাড়িয়ে ৬৫ করার প্রস্তাব প্রস্তুত করা হচ্ছে। থানা কমিটিও বাড়ানোর প্রস্তাব আসছে। বর্তমানে থানা কমিটি ৬৭ সদস্যবিশিষ্ট। ওয়ার্ড, পৌর ও ইউনিয়নে বর্তমানে সহসভাপতি আছেন ৫ জন করে। তা বাড়িয়ে ৭ জন করা হবে। যুগ্ম ও সাংগঠনিক সম্পাদক আছেন ২ জন করে। তা একজন করে বাড়ানো হবে। সম্মেলনে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে বেশকিছু সংযোজন আসবে।

 

সম্পাদনা/সৈয়দ মনির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *