Wednesday, January 14সোনাগাজীর প্রথম অনলাইন পএিকা
Shadow

ভারতে ‘গরুর মাংস খাওয়ার অজুহাতে’ দুই মুসলিম নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

 

a8da72b5cbbaf1652eb2dcab912a6d2a-57d684b9a5ffc

১৬:২৮, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৬

সোনাগাজীর আলো ডেস্ক:-ভারতে হরিয়ানা রাজ্যের মেওয়াটে দুই মুসলিম নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দুই সপ্তাহ পর এক নারী অভিযোগ করেছেন, গরুর মাংস খাওয়ার অজুহাতে তাকে এবং তার ১৪ বছরের কিশোরী চাচাতো বোনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে ২০ বছর বয়সী ওই নারী এসব কথা জানিয়েছন।

বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী শবনম হাশমির উপস্থিতিতে দিল্লিতে ওই নারী বলেন, ‘তারা জিজ্ঞেস করলো, আমরা গরুর মাংস খাই কিনা, আমরা গরুর মাংস খাই না বলে জানালাম। কিন্তু তারা তা বিশ্বাস করতে চায়নি।’

তিনি আরও জানান, ২৪ আগস্ট চার অভিযুক্ত বাড়িতে ঢুকে তার চাচা-চাচিকে বেঁধে ফেলে। এরপর দুই বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। প্রতিবাদ করায় তার চাচা-চাচিকে পিটিয়ে হত্যা করে ওই দুষ্কৃতিকারীরা।

ওই নারী আরও বলেন, “এ ঘটনার পরও তারা আমাকে ও আমার পরিবারকে খুন করার হুমকি দিয়েছে। তারা বলেছিল, এটাই গরুর মাংস খাওয়ার ‘শাস্তি’।”

তিনি তাদের ভয়ে এতোদিন মুখ খোলেননি বলেও জানিয়েছেন। পরে  মানবাধিকার কর্মী শবনম হাশমির সংবাদমাধ্যমের সামনে তাদের উপর হওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দেন ওই নারী।

সংবাদ সম্মেলনের পর পুলিশ ওই চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই অভিযুক্তরা গো-রক্ষক কমিটির সঙ্গেও জড়িত না। তারা এলাকার চিহ্নিত অপরাধী। তাদের প্রথমে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার করা হলেও, পরে হত্যা মামলায়ও গ্রেফতার দেখানো হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সেদিন সকালে তারা মদ্যপান করে গোমাংস খাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ আরোপ করে ওই বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নির্যাতিতরা আগে কোনও অভিযোগ না করায় এতোদিন অপরাধীদের গ্রেফতার করা যায়নি।

আরও অনেক রাজ্যের মতো হারিয়ানাতেও গরু জবাই, গোমাংস খাওয়া, পরিবহন এবং বিক্রয় নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজা এবং এক থেকে পাঁচ লাখ রুপি অর্থদণ্ডেরও বিধান রয়েছে। ওই আইনের ফলে সংখ্যালঘুদের উপর মিথ্যা অভিযোগ আরোপ এবং তাদের আক্রমণ করার বেশকিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *