নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১২:০০

জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে মালয়েশিয়ায় আটকের পর বাংলাদেশে ফেরত শিবির নেতা পেয়ার আহমেদ আকাশ ফেনী কারাগারে জামাই আদরে রয়েছেন। ফেনী কারাগারে আটক জঙ্গি নেতার রাজকীয় আতিথেয়তা নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন জেলার জামায়াতের নায়েবে আমীর আবু ইউছুফ। তবে ইউছুফ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকার দলীয় প্রভাবশালী নেতাদের সাথে অাকাশের সুসম্পর্ক রয়েছে। তারাই জেল খানায় তদবির করেছে।
চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র থেকে ‘খোয়া যাওয়া কয়েকটি একে-৪৭ রাইফেল বিক্রির সময়’ র্যাবের হাতে আটক হয়েছিলেন শিবির নেতা পেয়ার আহমেদ আকাশ। পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। ১০ সেপ্টেম্বর তাকে ফেরত পাঠানো হয়। ১১ সেপ্টেম্বর বিকালে ফেনীর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দাগনভূঁঞা থানার ওসি জানান, ১০ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার মালিন্দ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আকাশকে দেশে পাঠানো হয়। এরপর তাকে দাগনভূঁঞা থানায় আনা হয়। ওসি বলেন, ১৯ আগস্ট মালয়েশিয়ার পুচংয়ের একটি বাসা থেকে আকাশকে আটক করে সে দেশের পুলিশ। এর আগে ২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর সন্ত্রাস ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগেও মালয়েশিয়ার পুলিশ তাকে একবার আটক করেছিল।
দাগনভূঁঞা থানায় দুটি অস্ত্র মামলায় পলাতক আসামি আকাশ। চট্টগ্রামে আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র থেকে খোয়া যাওয়া কয়েকটি একে-৪৭ রাইফেল বিক্রির সময় ২০০৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ফেনীতে র্যাবের হাতে ফেনীর মহিপাল আকাশ টেলিকম নামক তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আকাশসহ তিনজন আটক হন। পরে জামিন পেয়ে পালিয়ে মালয়েশিয়া যান। ওসি বলেন, ইন্টারপোলের হুলিয়া মাথায় নিয়ে মালয়েশিয়া গিয়ে আকাশ ‘জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতে’ যুক্ত। ফেনীর দাগনভূঁঞা উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামের বাসিন্দা আকাশ ১৯৯৩ সালে ফেনী জেলা জামায়াতের পরিচালিত রামপুর শাহীন একাডেমি থেকে এসএসসি পাস করেন বলে জানান ওসি আসলাম।
ফেনী জেলা কারাগারের জেলার শংকর মজুমদার সোনাগাজীর অালোকে জানান, আকাশকে সাধারণ কয়েদিদের মতো রাখা হয়েছে। তার জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা হয়নি। জেলার শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের বিভিন্ন অনুরোধ থাকলেও নিয়ম-নীতির বাইরে কোনো সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।
