Tuesday, January 13সোনাগাজীর প্রথম অনলাইন পএিকা
Shadow

ওবায়দুল কাদের তৃনমুল থেকে উঠে আসা আওয়ামী নেতার নাম

 

obaidul_kader

১১ অক্টোবর ১৬

মহিবল ইজদানী খান ডাবলু:-বাংলাদেশে সকলের কাছেই আজ সুপরিচিত মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরl পত্র পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রায়ই দেখা যায় তাকে রাস্তায়, বাসে এখানে সেখানে জনগণের মাঝেl সম্প্রতি তিনি বাসের সাধারণ যাত্রী হয়ে অফিসও করেছেন একদিনl অন্যান্য মন্ত্রীদের বেলায় এধরণের উদহারণ দেখা গেছে বলে আমার জানা নাইl তবে সুইডেন সহ ইউরোপের মন্ত্রী এমপিরা সময়ই পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত করে থাকেনl এভাবে মাঝে মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের মতো অন্নান্য মন্ত্রীরা যাতায়াত করলে হয়তো ধীরে ধীরে সকলেই এই পথে আসতে বাধ্য হবেনl প্রয়োজনে বাই সাইকেলও বেবহার করা যেতে পারেl পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বড় উত্তম পন্থাl মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে অনেকে অনেক নামে সম্মোধন করে থাকেনl তার মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীরা কখন কি হয়, কি ঘটে যায় এনিয়ে নাকি সবসময় ভয়ের মধ্যে থাকেনl ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে কাজে গরমিলের কারণে অনেককে নাকি তাদের চাকুরী পর্যন্ত হারাতে হয়েছেl মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এধরণের কার্যকলাপে তার পক্ষে ও বিপক্ষে রয়েছে আলোচনা সমালোচনাl ওবায়দুল কাদেরের দোষ কোথায়? তিনি কি দুর্নীতিতে জড়িত? নাকি ক্ষমতার অপবেবহার করছেন? কিংবা অন্য কিছু যা জনগণ ও রাষ্ট্রের বিপক্ষে? যদি তা না হয়ে থাকে তাহলে কেন আসবে ভিত্তিহীন সমালোচনা?

স্বাধীনতার পর পর এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক এম এ রশিদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন দফতর সম্পাদকl ঢাকা বিশ্ববিদ্দালয়ের বাংলার ছাত্র হিসেবে লেখার হাত ছিল তুখোড়l সম্ভবত এই কারণেই ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক পদটি পেয়েছিলেন তিনিl ৩০ নাম্বার মিরপুর রোডের দুইতালায় অবস্থিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় অফিসের একটি রুমে বসে গভীর রাত পর্যন্ত পত্র পত্রিকায় প্রেস রিলিজ পাঠাতেন ওবায়দুল কাদেরl মধ্যে রাতে অফিসের সকল চলে গেলে তারপর যেতেন তিনিl এই সময় ঢাকা কলেজের ওপর পার্শে চিটাগাং রেস্টুরেন্ট সহ কয়েকটি হোটেলে বসে কখনো কখনো রাতের খাবার খেয়েছেন ছাত্রলীগের কর্মী ও নেতাদের সাথে নিয়েl খাওয়ার পরে রেস্টুরেন্টের বাহিরে ঝুলিয়ে থাকা আগুন লাগানো দড়ি থেকে সিগারেট ধরিয়ে ধূমপান করতেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরl ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হওয়া সত্বেও চলেন একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেl ক্ষমতার অপবেবহার, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি তার আসে পাশে কখনো স্থান পায়নিl কর্মীদের প্রতি তার সবসময়ই রয়েছে অত্যন্ত স্নেহ মমতাl

চুয়াত্তর পঁচাত্তরে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের বিভিন্ন কলেজ ও আঞ্চলিক শাখার সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে অত্যন্ত আবেগ ও জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়ে সকলকে জাগিয়ে তুলতেন ওবায়দুল কাদেরl বাংলায় দখল থাকাতে অনর্গল পরিষ্কারভাবে দীর্ঘক্ষণ ভাষণ দিয়ে যেতেনl মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাষণ আর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নূরে আলম সিদ্দিকীর ভাষণ একই রকম মনে হতোl এই দুইজনই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্দালয়ে বাংলার ছাত্রl ছাত্রলীগ ৭৪-৭৫ কেন্দ্রীয় কমিটিতেও তিনি তিনি ছিলেন সম্পাদক মন্ডলীর সদস্যl সেই সময় কলেজ সংগঠনগুলোর সভায় ছাত্রলীগ নেতা ইসমত কাদির গামা, রবিউল আলম মুক্তাদির চৌধুরী, তাজুল ইসলাম, মমতাজ হোসেন, মহানগর সভাপতি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা খ ম জাহাঙ্গীর ও ওবায়দুল কাদের সহ অন্নান্য নেতাদের অতিথি করা হতোl এভাবেই আজকের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেনl ছাত্রলীগের মনোয়নে ডাকসুর নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেনl

৭৫ জানুয়ারীতে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাকশাল প্রতিষ্ঠা হলে নুতন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা নূতনভাবে শুরু হয়l মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এইসময় ছিলেন সক্রিয়l ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হলে যারা সেদিন ঢাকায় গোপনে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যকলাপ চালিয়ে গিয়েছিলেন তাদের মধ্যেও সক্রিয় ছিলেন ওবায়দুল কাদেরl গোপনে বিভিন্ন স্থানে সভা করে খন্দকার মোস্তাকের ডাকা সংসদ অধিবেশনে যোগদান না করার হুমকি চিঠি, ৪ নভেম্বরের মৌন মিছিল সহ সকল কাজে জড়িত ছিলেন ওবায়দুল কাদেরl তিনি কখনো কোন সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে পিছ পা হননিl ১৯৭৭ সালের জানুয়ারীর প্রথম সাপ্তাহ সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে ঢাকার সোবানব্যাগ কলোনীর ছাদের উপরে অনুষ্ঠিত গোপন সভায়ও তার উপস্থিতি ছিলl এই সভায় চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ নেতা এস এম ইউসুফ, রবিউল আলম মুক্তাদির চৌধুরী এম পি, মমতাজ হোসেন সাবেক রাষ্ট্রদূত, মানিকগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহিউদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা মুকুল বোস, মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডিং কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমত কাদির গামা, বিএনপি নেতা শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর সহ আরো কয়েকজন উপস্থিত ছিলেনl

দীর্ঘ ২১ বৎসর পর ৯৬ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ওবায়দুল কাদের প্রথমবারের মতো মন্ত্রী পদ লাভ করেনl তিনি তার এই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন বলে বলা হয়ে থাকেl ২০০৬ ডক্টর ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী সরকারের আমলে সম্পূর্ণ বিনা কারণে তাকে গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হয়েছিলl এই সময় কারাগারে বসে তিনি একটি বই লিখেছিলেন যা পরবর্তীতে প্রকাশিত হয়েছেl নির্যাতনে নির্যাতিত হওয়া সত্বেও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন তিনিl সামরিক বাহিনী সমর্থিত ডক্টর ফখরুদ্দিন আহমেদের অস্থায়ী সরকারের নেতৃত্বে ২০০৮ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে দ্বিতীয় বারের মতো যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেl তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নুতন মন্ত্রী পরিষদে তাকে নেওয়া হয়নি দেখে অনেকেই অবাক হয়েছিলেনl বিলম্বে হলেও পরে তাকে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য করা হয়l সরকার গঠনে প্রথমদিকে ওবায়দুল কাদেরকে কেন মন্ত্রিত্বে নেওয়া হয়নি কারণটি একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাই বলতে পারবেনl

এখন পুনরায় মিডিয়ায় আসছে তার নামl সৈয়দ আশরাফ যদি সত্যি সত্যি তার পদ থেকে সরে দাঁড়ান তাহলে ওবায়দুল কাদের একমাত্র বেক্তি যে এই পদে আসার সব ধরণের যোগ্যতা রাখেনl যদিও তিনি ইতিমধ্যে পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক না হওয়ার কথা জানিয়েছেনl তবুও মিডিয়ার কাছে বার বার আসছে তারই নামl সবকিছুই নির্ভর করছে দলীয় সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উপরl সৈয়দ আশরাফ তার কাছে যেমন বিশ্বস্থ ও কাছের মানুষ বলে আপন ছিলেন ওবায়দুল কাদের কি পারবেন সে স্থান পূরণ করতে? তবে একথা সত্য যে ওবায়দুল কাদের একজন পরীক্ষিত নেতাl আওয়ামী লীগের বর্তমান মন্ত্রী পরিষদে যে কয়েকজন জনপ্রিয় আওয়ামী লীগের মন্ত্রী রয়েছেন তাদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের হলেন একজনl অন্যদিকে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হিসেবে এই মুহূর্তে সৈয়দ আশরাফের অপশন ওবায়দুল কাদেরl এখন সকলেই তাকিয়ে আছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার দিকেl আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিবর্তন করা এখন জরুরী হয়ে পড়েছেl দলের সাংগঠনিক তৎপরতার কথা চিন্তা করে খুব সম্ভবত আসছে কাউন্সিল অধিবেশনে সাধারণ সম্পাদক পদে নুতন মুখ উপহার দেওয়ার সম্ভবনা রয়েছেl সেই নুতন মুখ কে হবেন? ওবায়দুল কাদের, রবিউল আলম মুক্তাদির চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম? না কি অন্য দল থেকে ছুটে আসা কোনো নেতার হাতে? আশাকরি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ভুল করবেন নাl লেখক: ইলেকটেড কাউন্টি কাউন্সিলার স্টকহোল্ম কাউন্টি কাউন্সিল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *