
০৬ অক্টোবর ১৬
সিলেট MC কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগমের উপর হামলার নিন্দা জানাই এবং শাস্তি চাই। ক’দিন ধরে এ নিয়ে টক শো সহ প্রচার মাধ্যমে প্রচন্ড মাতামাতি দেখছি। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একটা বিষয়ে পরিস্কার হতে পারছি না। এর সাথে ছাত্রলীগের সম্পর্ক কি। অপরাধি আদালতে বলেছে,এবং তার আগে পত্রপত্রিকাও লিখেছে প্রেমেপ্রত্যাখাত হয়ে সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রেমে পড়া, প্রেমকরা, প্রেমে প্রত্যাখাত হওয়া এ সবই স্বাভাবিক এবং একান্তভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়ের ঘটনা। আর প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে এ ধরনের একান্ত ব্যক্তি পর্যায়ের পশুশুলভ আচরনের সাথে কোন পরিবার, গোষ্ঠি বা দলের সংশ্লিষঠতা থাকার কোন কারন নই। এক্ষেত্রে পারিবারিক শিক্ষা সংস্ক্রিতির প্রশ্ন আসলেও আসতে পারে কিন্তু কোনভাবেই দলীয় কিংবা গোষ্ঠিগত নয়। আর ছাত্রলীগ কেন দুনিয়ার কোন সংগঠনের পক্ষেই এ পর্যায়ের ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়। যে কোন সংগঠনের লক্ষ লক্ষ কর্মি-সমর্থকের ব্যক্তি পর্যায়ের মনোজাগতিক অবস্হা বিশ্লেষন করে অগ্রিম ব্যবস্হা নেয়া এ পর্যন্ত দুনিয়ার কোন রাজনৈতিক-সামাজিক- সাস্কক্রিতিক সংগঠনের পক্ষে সম্ভব হয় নাই, ভবিষ্যতেও হবে না। কথা হচ্ছে ছাত্রলীগ ঘটনার প্রশ্রয় দিয়েছে কিনা বা তাকে বাচানোর চেষ্টা করেছে কিনা। আমরা দেখেছি তা করেনি। ছাত্রলীগ বা ছাত্রদল ধোয়ো তুলশিপাতা নয়। দলের প্রভাব খাটিয়ে কেউ অন্যায় কিছু করলে এবং সরকার বা দল তার বির্রুদ্ধে কোন ব্যবস্হা না নিলে বলুন, লিখুন সমালোচনা করুন। তাতে সংগঠন এবং রাজনীতি শ়ুদ্ধ হবে। তা না করে সংগঠনের সাথে অপ্রাসংগিক প্রত্যেক ঘটনার পর এ ধরনের রাজনৈতিক প্রলেপ দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বিতর্কিত করা কিছু সংবাদমাধ্যম, বুদ্ধিজীবি আর টকশোজীবিদের ফ্যশানে পরিনত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশকে বিরাজনীতিকরনের সেই পুরানো খেলা আবার শুরু হচ্ছে কিনা তা ভেবে দেখা দরকার।
