ডাঃ চন্দন কুমার দাসঃ প্রকাশ- ৮ অক্টোবর ২০১৬।

ওঁ কালী তারা মহা বিদ্যা ষোঢ়শী ভুবনেশ্বরী ভৈরবী ছিন্ন মস্তা-চ বিদ্যা ধুমাবতীস্তথা, বগলা সিদ্দ বিদ্যা-চ মাতঙ্গী কমলাত্নীকা এতাদশ মহাবিদ্যা সিদ্দ বিদ্যা প্রফীর্ত্তিকা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যে দুর্গা পুজা করেন সেই দুর্গা শব্দের অর্থ দৈত্য, বিগ্ন, রোগ, পাপ, ও ভয়। অথবা দুর্গা শব্দটি দৈত্য বাচক ও অা’ কার নাশক বাচক, দুর্গা নামক অসুরকে যিনি নাশ করেন, তিনিই দুর্গা নামে প্রফীত্তিকা, অাবার দুর্গা শব্দটি দ্বিপক্তি বাচক ও অ’ নাশবাচক, যিনি বিপতারনী তাকে জ্ঞানজনেরা দুর্গানামে অবহিত করেন। দেবী দুর্গা সিংহ বাহনা, তামসিক পশু শক্তির অধিপতি সিংহ, যা দেব কার্যে সহায়তা করে তাইতো সিংহ দেবীর পক্ষে মহিষাসুরকে অাক্রমন করতে সহজ হয়।
দুর্গা পুজার সময় দেখা যায়, দুর্গার সাথে অারো অন্যান্য দেবতার স্বহবস্থান অাছে। দেবী দুর্গা যখন মহিষাসুরের সাথে যুদ্ধ করেন তখন অন্যান্য দেবতা তাহার সাথে যুদ্ধে একাত্নতা বোধ করেন। তারা হলেন, কার্তিক, গনেশ, স্বরস্বতী ও লক্ষী।
কার্তিকঃ শ্রী শ্রী মদ্ভাগবদগীতায় দশম অধ্যায়ে বিভুতি যোগে বলিয়াছেন আমি সেনানীদের মধ্যে কার্তিক। তাই কার্তিক হলেন শিরের পুত্র, সেনানীদের মধ্যে শ্রেষ্ট, ক্ষাত্রশক্তি ও কর্ম শক্তির প্রতিক যা দেবী দুর্গার অসুদের সাথে যুদ্ধে আক্রমন করতে সহজ হয়।
গনেশঃ গনেশ হলেন গন দেবতা, যাকে সিদ্ধিদাতা বলা হয়। আবার গনেশ অসুরদের সাথে যুদ্ধে সহায়তা করে দেবীকে জয়লাভ করতে সহজ করে।
লক্ষীঃ লক্ষী ধন সম্পদের দেবী। মহিষাসুর যুদ্ধের সময় দেবী দুর্গা কে সহায়তা করেন। তাই দুর্গা পুজার সময় দেবী লক্ষী চরনে আরাধনা করেন, ধন সম্পদ পাবার অাশায়।
স্বরস্বতীঃ স্বরস্বতীকে বিদ্যার দেবী বলা হয়। আবার স্বর অর্থ কন্ঠ আর স্বতী অর্থ সত্য, অর্থাৎ কন্ঠের মধ্য দিয়ে ভগবানের সত্যনাম উচ্চারিত তার নাম স্বরস্বতী। তাই দুর্গা পুজার সময় জ্ঞানের আলো লাভ করার জন্য দেবী স্বরস্বতী আরাধনা করা হয়।
অতএব, সনাতন বা হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দেবী দুর্গা পুজা করে বিপদকে তাড়ানোর জন্য সিদ্ধি লাভের জন্য, ধন সম্পদের জন্য এবং ক্ষাত্রশক্তি বা কর্মশক্তি অর্জন করার জন্য।
লেখক – সভাপতি : হিন্দু -বৌদ্দ -খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ, চর ছান্দিয়া শাখা।
সভাপতি- মহাদেব বৈঞ্চব বাড়ী তপবন অাশ্রম দুর্গা মন্দির।।
