অাবদুল্যাহ রিয়েল, প্রকাশ- ১৮ অক্টোবর ২০১৬
পরশুরামে প্রতারনা আর মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এক ব্যবসায়ী।ব্যবসায়িক মহাজনের অব্যাহত হুমকীর কারনে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন তিনি। মানুষের দেনা পরিশোধ করতে বিক্রি করে দিয়েছেন নিজের বসত বাড়ি। আর্থিক অনটনে বন্ধ হয়ে গেছে একমাত্র ছেলের বিএসসি ইন্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা।
ভূক্তভোগী সূত্র জানায়,পরশুরাম বাজারে আবদুল্লাহ শাহ ট্রেডার্স নামে চালের আড়তের মালিক ছিলেন জালাল উদ্দিন দুলাল ফকির।তার মহাজন ছিলেন ফেনীর ইসলাম পুর রোডের ব্যবসায়ী বিপুল কুমার সাহা।তার কাছ থেকে পাইকারি দরে চাল এনে বিক্রি করতেন জালাল উদ্দিন ফকির।
জালাল উদ্দিন দুলাল ফকির জানান,বিপুল কুমার সাহার সাথে সম্পর্ক ছিল পৌরসভার অনন্তপুর গ্রামের মৃত অনীল নাথের ছেলে রবীন্দ্র কুমার নাথ ওরফে রবির।পরশুরাম উত্তর বাজারে দোকান ছিল রবির। বিপুল কুমার সাহা জালাল উদ্দিন ফকিরের কাছে ব্যবসায়ী রবিকে বাকীতে চাল দেয়ার জন্য বললে তিনি বাকীতে চাল বিক্রি করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তখন বিপুল কুমার সাহা ও তার স্ত্রীসহ দুলাল ফকিরের বাসায় গিয়ে তাকে অনুরোধ করে বলেন,আপনি আমাকে বিশ্বাস করুন।সব রিস্ক আমার।তখন জালাল উদ্দিন ফকির রবিকে প্রায় ৪০লাখ টাকার চাল বাকীতে বিক্রি করেন।কিন্তুু ব্যবসায়ী রবি পরশুরামের বিভিন্ন ব্যাক্তি,এনজিও ও ব্যাংক থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা নিয়ে ২০১২ সালের ৬ মার্চে ভারতে পালিয়ে যান। এতগুলো টাকা খুইয়ে দুলাল ফকির সর্বশান্ত হয়ে পড়েন।অনন্তপুর মৌজায় রবীন্দ্র কুমার নাথ ওরফে রবির কাছ থেকে ২০১২ সালের ৭ জানুয়ারি ১৬ শতক জায়গা কিনলেও স্থানীয় হিরালাল নাথসহ আরও কয়েকজনের মামলার কারনে জায়গায় যেতে পারছেন না দুলাল ফকির।
এদিকে খাতা পত্রের হিসেবে বিপুল কুমার সাহা দুলাল ফকিরের কাছে ৪ লাখ টাকা পাওনা থাকলেও অতিরিক্ত টাকা পেতে মিথ্যা অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে ফেনী জর্জ কোর্টে মামলা দায়ের করেন। দুলাল ফকিরের আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মোকদ্দমা হিসেবে শুনানির জন্য অপেক্ষমান রয়েছে।
দুলাল ফকির বলেন, বিপুল সাহার দায়ের করা মিথ্যা মামলায় আমি কোর্টে হাজিরা দেয়ার জন্য ফেনী গেলে বিপুল কুমার সাহা ও অঙ্গাতনামা সন্ত্রাসীরা আমাকে হুমকী-ধমকি দিয়ে মাইক্রোবাসে করে অপহরনের চেষ্টা করে।সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমাকে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে। আমি আমার জীবন ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত।তিনি আদালতের কাছে ন্যায় বিচার চান।
