মেহেরাব হোসেন মেহেদীঃ ৫ অক্টোবর ২০১৬।

ফেনীতে ব্যাংকের ছাতার মত গড়ে ওঠেছে ড্রাগ লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসি। ফলে হাজার হাজার টাকা রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও ড্রাগ সুপার দূনীর্তির কারণে ফেনী সদর, সোনাগাজী, দাগনভূঁঞা ও ফুলগাজী উপজেলা সদর সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠেছে অশিক্ষিত প্রশিক্ষণ বিহীন ফার্মেসী আর তাদের ব্যবসা জমজমাট হয়ে ওঠছে যেন দেখার কেউ নেই। উপজেলা গুলোর দরিদ্র ও অসহায় প্রত্যন্ত এলাকার জনসাধারণ অতিরিক্ত ভিজিটের ভয়ে, যোগাযোগ ব্যবস্থার খারাপ থাকাই সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডাক্তার বা রেজিষ্টার্ট চিকিৎসার দুর্বস্থা দিয়ে ওষুধ নেয় আর সেই সুযোগে ওষুধ ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় স্বল্প মাত্রার ওষুধ না দিয়ে বেশি দামের উচ্চ মাত্রার এন্টিবায়োটিক ওষুধ প্রদান করে। উপজেলার প্রতিটি বাজারে রয়েছে ১০-১৫টি ফার্মেসী। একজন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ফার্মাসিষ্ট দ্বারা একটি ফার্মেসী খোলা থাকে। বন্ধ করার নিয়ম থাকলেও এখানে সেই নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেনা। ফলে অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত ব্যক্তিরাই ফার্মেসী পরিচালনা করছে এবং ভুয়া ডাঃ সাইনবোর্ড টানিয়ে ডাক্তারী করতেছে। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় এলাকারবাসীর। এই সব অবৈধ ওষুধ ব্যবসীয়ারা ড্রাগ সুপারকে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে অবাধে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বৈধ ফার্মেসীর মালিকগণ অভিযোগ করেন। তথ্য নিয়ে জানা যায়, ওষুধ বিক্রয় ও প্রর্দশনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিককে অবশ্যই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে এবং ড্রাগ লাইসেন্স করার আগে ফার্মাসিষ্ট প্রশিক্ষণ নিতে হবে। যদি কেউ ড্রাগ লাইসেন্স ও ফার্মাসিষ্ট প্রশিক্ষণ ছাড়া ওষুধ বিক্রি করে তাহলে ১৯৪০ ও ১৯৪১ সালের ড্রাগ লাইসেন্স আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের বিধান রয়েছে। সদর হাসপাতালের গেটসহ প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের মুদিরদোকানের মালিকরা ড্রাগ লাইসেন্স ও ফার্মাসিষ্ট প্রশিক্ষণ ছাড়ায় হাজার হাজার টাকার নিম্ন মানের ভেজাল ও মেয়াদহীন ওষুধ বিক্রি করছে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর সচেতন মহল মনে করেন ড্রাগ সুপারগণ যারা যাচাই বাচাই করার জন্য আসেন, তারা সঠিক ভাবে কাজ না করে অপকর্ম করছে, তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ আইন শৃ্খংলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এ ব্যাপারে বৈধ ফার্মেসীর মালিকগণ বলেন উপজেলা গুলোর হাতে গনা কিছু সংখ্যক ফার্মেসী ছাড়া বেশির ভাগ ফার্মেসীয় কোন বৈধ কাগজপত্র নাই। এইসব অবৈধ ফার্মেসীদের দাপটের কারনে টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়ছে। ফেনী সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার পি.কে. এনামুল হক বলেন, ফার্মেসী একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এখানে একজন দক্ষ ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ব্যক্তির সর্বক্ষনিক থাকা ও ড্রাগ লাইসেন্স থাকা প্রয়োজন। তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বিকম জানান, প্রত্যেকটি বাজারে ফার্মেসী আছে। জনসাধারনের উপকারের জন্য কিন্তু ফার্মেসীর ড্রাগ লাইসেন্স আছে কিনা ও মালিক এবং তাদের কর্মচারীদের ফার্মাসিষ্টের প্রশিক্ষণ আছে কিনা তা তদারকী করা প্রয়োজন।
