নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশ : অক্টোবর ২৬, ২০১৬ |
ফেনীতে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ টাকা মূল্যের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ওজনে কম দেয়া, খোলাবাজারে চাল বিক্রি করা, সচ্ছলদের নামে কার্ড বরাদ্দ দেয়া, নিম্নমানের চাল বিতরণ, দলীয় বিবেচনায় ডিলার নিয়োগ করা— এসব অভিযোগের মধ্যে অন্যতম। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানিয়েছেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইতিপুর্বে সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হুশিয়ারী উচ্চারন করে বলেছিলেন, গরীব, অসহায়দের জন্য সরকার নির্ধারিত ১০ টাকার চাল বিতরনে কোন অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
জানা যায়, গত ৭ আগস্ট থেকে ফেনীর ৬ উপজেলায় রেশন কার্ডের মাধ্যমে ১০ টাকা মূল্যের চাল বিক্রি শুরু হয়। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এ চাল বিক্রি হবে। এজন্য জেলাজুড়ে ১১ হাজার ৬১৬ জনকে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। জেলার প্রায় সব ডিলারই রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে কোনো কোনো ডিলার বস্তা পাল্টিয়ে কালো বাজারে চাল বিক্রি করে দিচ্ছেন। আবার অনেকে চাল পাল্টিয়ে কম মূল্যের চাল বিতরণ করছেন হতদরিদ্রদের মাঝে।
সরেজমিনে কয়েকটি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, চাল কিনতে স্থানীয় কার্ডধারীরা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। তবে দোকানের আশপাশে কোনো ব্যানার নেই। ট্যাগ অফিসারও অনুপস্থিত। অনেকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকার পরও প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
ডিলারদের অনিয়মের ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিকেএম এনামুল করিম জানান, উপজেলার ১২ জন ডিলারের নামে শুরুর দিকে কিছু কিছু অভিযোগ উঠেছিল। ডিলারদের সতর্ক করে দেয়ার পর আর কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
সোনাগাজীর প্রায় সব ডিলারদের বিরুদ্ধে ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েক জন ডিলার চেয়ারম্যানদের সাথে যোগসাজশে নাম সর্বস্ব কার্ড তৈরী করে কালোবাজারে বিক্রি করছে।
কয়েকজন ডিলার জানান, ট্যাগ অফিসার, খাদ্য গুদাম, পরিদর্শক থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে ঘুষ দিতে হয়। ইচ্চে থাকা স্বত্বেও ওজনে সঠিক পরিমান দেয়া যায়না।
ছাগলনাইয়া উপজেলায় সচ্ছল ব্যক্তিদের চালের কার্ড প্রদান করা হয়েছে। কার্ডধারীদের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আত্মীয়-স্বজনও রয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ জানানোর পর ইউএনও জেসমিন আক্তার পাঠাননগর ইউনিয়নে ১৩টি কার্ড বাতিল করেন।
চাল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে ফেনী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আবদুস সালাম জানান, ১০ টাকার চাল বিতরণে অনিয়ম নিয়ে কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
