
১৬ অক্টোবর ২০১৬:>>>
এ যেন হীরক রাজার দেশ। প্রকাশ্যে প্রশাসনের নাকের ডগায় অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে দৈনিক লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ফেনী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক রেজাউল ইসলাম। কেউ বলার নেই, দেখার নেই। অবস্থা দেখে মনে হচ্চে রেজাউলই ফেনীর নব্য রাজা। সরকারী যে সংস্থা অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে কার্যকর রয়েছে তারাই অজ্ঞাত কারনে একদম চুপ। যারাই সমাজের অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরবে তারাই (সংবাদকর্মী) বুক(ম্যানেজ)। দুর্নীতি দমন কমিশনে রেজাউলের বিরুদ্ধে একাধীক অভিযোগ দিয়েও তার অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধ করতে না পেরে ভুক্তভোগীরা কোথায় গেলে প্রতিকার পাবে তাহা নিয়ে ভাবছে। সরকারের একজন মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে রেজাউল এতটাই বেপরোয়া হয়েছে যে তার অপকর্মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন মিড়িয়া কর্মী হেনস্থার শিকার হয়েছে। তবে আশার খবর হলো ভুক্তভোগী ও কয়েকজন মিড়িয়া কর্মী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি প্রদানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। রেজাউলের অনিয়ম ও দর্নীতির বিষয়ে অনলাইন পোর্টাল সোনাগাজীর আলো ৫ টি অনুসন্ধানি প্রতিবেদন পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করবে।
(১ম পর্ব)
আবুল হোসেন রিপন:- ফেনীর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক রেজাউল হকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্ণীতির অভিযোগ এনে প্রতিকার চেয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন এক ভুক্তভোগী। লিখিত অভিযোগের অনুলিপি পেয়ে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে ও অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ফেনী আঞ্চলিক পাসর্পোট অফিস যেন দুর্ণীতির আখড়া। সকল অভিযোগ উপ-পরিচালক রেজাউল হক ও তার পোষ্যদের বিরুদ্ধে। তিনি প্রতি আবেদনে সম্পুর্ণ বেআইনী ও এখতিয়ার বহিভূতভাবে আদায় করছে ১১০০ শত টাকা। এতে পাসর্পোট আবেদনকারীগন চরম ভাবে আর্থিক ক্ষতি গ্রস্ত ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। তাহার রয়েছে বিশাল পোষ্য বাহিনী। টাকা আদায়ের জন্য ফেনীর বিভিন্ন ট্রাভেলস এজেন্সী গুলোকে দিয়াছে এক একটি সাংকেতিক চিহ্ন। সেই সাংকেতিক চিহ্নের হিসাবে মতে এজেন্সী থেকে কয়টি বই দৈনিক জমা হয়েছে তার হিসাবে প্রতিটি আবেদনে ১১০০ টাকা দেয়া হয় রেজাউল হককে। পাসর্পোট অফিসে ক্যাশিয়ারের কোন পদ না থাকলে রেজাউল হক ২২শত টাকা বেতনে অলিখিত ক্যাশিয়ার নিয়োগ দিয়েছে বলে জানা গেছে। পাসপোর্ট অফিস সূত্র জানায়, গড়ে প্রতিদিন আবেদন জমা হয় ১৫০ থেকে ২০০টি। সেই হিসেবে রেজাউল হকের দৈনিক অবৈধ আয় প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। সরকারের নির্ধারিত এম,আর,পি ডিজিটাল পাসপোর্টের নির্ধারিত ফিস সাধারণ ৩৪৫০, অতি জরুরী ফিস ৬৯০০ টাকা। কিন্তু একজন পাসপোর্ট আবেদনকারীকে গুনতে হচ্ছে ৬০০০ টাকা। অতিব জরুরী ১০ হাজার থেকে ১০৫০০ টাকা। এজেন্সীর বাইরে কোন আবেদনকারী তাহার আবেদন জমা দিতে গেলে সত্যায়িত ভূয়া বলে বিভিন্ন উচিলায় ফাইল ফিরিয়ে দেয়। আবেদনের সাথে রেজাউল হকের প্রদানকৃত সাংকেতিক চিহ্ন থাকলে আবেদন ফরমে ভূল থাকলেও সেই ফাইল গ্রহণ করার অভিযোগ রয়েছে। এই ভাবে প্রতিনিয়ত পাসপোর্ট আবেদনকারীরা চরমভাবে হয়রানরি শিকার হচ্ছে। তাছাড়া রেজাউল হকের পোষ্যরা পাসপোর্ট আবেদনকারীর মোবাইলে ফোন করে জানায় আপনার আবেদন ভূল হয়েছে এবং ঠিক করতে হলে ২/৩ হাজার টাকা লাগবে ও অফিসে যোগাযোগ করতে বলে। অফিসে আসলে তারা টাল বাহানা শুরু করে রেজাউল হকের সাথে দেখা করতে বলে। তার নিকটে গেলে সে অন্য অফিসারের কাছে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়। তখন আবেদন ফাইলে সমস্যার কথা বলে ১০০০ থেকে ১৫০০ হাজার টাকা আদায় করে নেয়। এইসব অভিযোগের বিষয়ে উপ-পরিচালক মোঃ রেজাউল হকের মোবাইলে ফোন করলে তিনি জানান, আপনার সাথে মোবাইলে কোন কথা বলবো না, সরাসরি অফিসে চা খেতে আসেন বলে ফোন কেটে দেয়।
