
১৭ অক্টোবর ১৬
বিশেষ প্রতিনিধিঃফেনী জেলার অন্তগত সোনাগাজী উপজেলাধীন ৯নং নবাবপুর ইউনিয়নের বীরমুক্তিযোদ্ধা খাজা আহমদের পাঁচ ছেলের মধ্যে চতুর্থ ছেলে জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন। ১৯৮৮সালে আমিরাবাদ বি সি লা হা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেনিতে পড়ালেখা অবস্থায় এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকা পালনের মাধ্যমে আওয়ামী রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৮৯ সালে আমিরাবাদ বিসিলাহা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসিতে কুমিল্লা বোর্ডে আর্টস থেকে প্রথম বিভাগে উত্তির্ণ হন। ১৯৯০সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসিতে প্রথম বিভাগে পাশ করার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৯২-১৯৯৩ শিক্ষাবর্ষে সেই সময় থেকেই শিবিরের দুর্গ খ্যাত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌললবাদ জামাত বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে থাকেন, যার ফলে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমাতায় আসলে তার সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে ততকালীন শাজাহান-কলিম কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহি সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। এরপর সেই আমলেও মৌলবাদী জামাত বিরোধী আন্দোলনে অগ্রনী ভূমিকা পালনের কারনে একাধিকবার শিবিরের হামলায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর যখন সারাদেশে আওয়ামী লীগের চরম সংকটকাল চলছে তখন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী থাকাবস্থায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তাকে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন ততকালীন বিরোধী দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সারাদেশে ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটে বিশাল কর্মী বাহিনী গড়ে তোলেন।
এরপর ২০০৬ সালে ছাত্র রাজনীতির পাঠ শেষ করেও রাজনীতি থেকে একদিনের জন্যও দূরে থাকেন নি, সারাদেশেই তার সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন বিশেষ করে তার জন্মস্থান ফেনীতে প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় মানুষের সেবায় কাজ করে নিজেকে জনপ্রিয়তায় নিজেকে ফেনী-৩ আসনে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যান। যার ফলশ্রুতিতে তিনি ২০০৮, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলীয় সভানেত্রীর কাছে ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভুঞা) আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে নিষেধ করলে তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কখনোই সতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেননি। ইতিমিধ্যে তার দীর্ঘদিনের রাজনীতির অবদান স্বরূপ তাকে নেত্রী তার সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করার জন্য তাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ কমিটিতে সহ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করেন।
খবর নিয়ে জানা যায়, আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের আকার ৭৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১ করা হচ্ছে। জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির আকারও বাড়বে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রেসিডিয়ামে দুটি, সাংগঠনিকে তিনটি পদ বাড়ছে। প্রশিক্ষণ সম্পাদকের পদ নতুন সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিভাগ বেড়ে যাওয়ায় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদও বাড়বে।
বর্তমান গঠনতন্ত্রে আওয়ামী লীগের ৭৩ সদস্যের কার্যনির্বাহী সংসদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলে সভাপতিমন্ডলীর পদের সংখ্যা ১৫। সাধারণ সম্পাদকসহ দলের সম্পাদকমন্ডলীর পদ ৩২টি। এর মধ্যে তিনজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাতজন সাংগঠনিক সম্পাদক। দপ্তর-উপদপ্তর ও প্রচার-উপপ্রচার সম্পাদক চারজন। বাকি ১৭টি বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকের পদ। এর বাইরে একজন কোষাধ্যক্ষ ও ২৬টি সদস্যের পদ রয়েছে।
আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আলোচনায় এগিয়ে আছেন উপ কমিটির সহ সম্পাদক জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন। কেন্দ্রয়ি কমিটিতে গুরুত্ত্বপূর্ণ কোনো পদে আসছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে ফেনীসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। ফেনীর জনগন মনে করেন, জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটনকে কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক করা হলে কুমিল্লা বিভাগীয় সংগঠনের জন্য ভালো হবে। কারন লিপটন ১/১১-তে ভূমিকা, সরকারে ও দলে দায়িত্ব পালনকারীদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ, দলে অবদান ও আনুগত্য এবং সাংগঠনিক, ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগ্যতায় নিজেকে যোগ্য ব্যাক্তিত্ত্বে ফুটিয়ে তুলেছেন। লিপটন দলের একজন দক্ষ সংগঠক হিসাবে ইতিমধ্যে বেশ পরিচিত লাভ করেছেন। সারা দেশ থেকে ঢাকায় আসা আওয়ামী নেতা, কর্মী, সমথর্কদের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাতদেন এবং তাদের সুখ-দুঃখ বিনিময় করেন।
উল্লেখ্য আগামী ২২-২৩ অক্টোবর আওয়ামীলীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিল সফল করতে লিফটন বিভিন্ন কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাথে কাজ করে যাচ্চে।
