Tuesday, January 13সোনাগাজীর প্রথম অনলাইন পএিকা
Shadow

২৬ মামলার ফেরারী আসামিকে নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে খালেদার বৈঠক, সর্বত্র তোলপাড়!

 

 

 

fb_img_1476547652894

অক্টোবর ১৫, ২০১৬

সোনাগাজীর আলো ডেস্ক:-নাশকতাসহ ২৬টি মামলার ফেরারী আসামিকে নিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকের ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীসহ সর্বত্র  তোলপাড় শুরু হয়েছে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠকে নিজের ব্যক্তিগত সহকারী শিমুল বিশ্বাসকে নিয়ে যান খালেদা। বৈঠকে ২৬ মামলার আসামি শিমুল বিশ্বাসের উপস্থিতি নিয়ে দলের হাইকমান্ডও বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে।

একইসঙ্গে এ পলাতক আসামিকে সামনে পেয়েও পুলিশ কেন গ্রেফতার করলো না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অথচ ওই বৈঠক নির্ধারণে দলের কূটনৈতিক কোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ড. মঈন খান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাকে নিয়ে যাননি খালেদা জিয়া। এ নিয়ে বিএনপির খোদ স্থায়ী কমিটির এক সদস্য পূর্বপশ্চিমের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিএনপিতে শিমুল বিশ্বাসের প্রভাব ও দলের হাইকমান্ডের অদূরদর্শিতা নিয়ে কথা হচ্ছে। অন্যদিকে শিমুলকে সরকারের গুপ্তচর বলেও সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে। এছাড়া বিএনপির কূটনৈতিক শাখায় দায়িত্বশীল নেতা ড. মঈন খানকে বৈঠকে না নেওয়ায় খোদ চেয়ারপারসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীরা এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বিএনপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা।

দলে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারলে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত থাকা যায়, তা নিয়ে কথা উঠেছে। শিমুল বিশ্বাস বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও দেখা যায়নি অরেক ফেরারি আসামি খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলকে।

বিএনপির এক নেতা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এতদিন জানতাম শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত সহকারী। মানে স্টাফ। ভুল জানতাম। আজকে চায়না প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ছবি দেখে সেই ভুল ভাঙল। দলটির চেয়ারপারসনের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিনিধি দলে ছিলেন মহাসচিব, তিনজন স্থায়ী কমিটির সদস্য, একজনকে বুঝতে পারছি না আর আরেক জন শিমুল বিশ্বাস। তার মানে উনিও স্থায়ী কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্যই হবেন। না হলে স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, মঈন খান নিদেন পক্ষে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খানও বৈঠকে থাকতে পারতেন। ওনাদের চেয়ে হয়তো যোগ্য বলেই মি. বিশ্বাস দলটির জন্য এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। নয়কি?”

শিমুল বিশ্বাশ বিএনপির কোন পদ পদবিতে না থেকেও ২৬ মামলার ফেরারী হয়ে খালেদা জিয়া কিভাবে এবং কোন যুক্তিতে তাকে একজন আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী রাষ্ট্রপতির বৈঠকে নিয়ে যায় তাহা নিয়ে সর্বত্র প্রশ্ন উঠেছে।অনেকে বলছেন এটা বিএনপির কুটরাজনীতির কৌশল হতে পারে।কারন হিসেবে তারা বলছে বিএনপি ধরে নিয়েছে ফেরারী আসামীকে নিয়ে বৈঠকে গেলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করবে।তখন বিএনপি চীনা প্রেসিডেন্টের কাছে বিষয়টি তুলে ধরে তাদের নেতাকর্মীদের উপর সরকার নির্যাতন করছে যাহা এতদিন বলে আসছে তাহা প্রমানের চেষ্টা করবে।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সরকার বিএনপির সে টোপে পা না দিয়ে তাকে গ্রেফতার না করে বিএনপিকে চাপে পেলেছে।

শুক্রবার ২২ ঘণ্টার সফরে ঢাকা আসেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ওইদিন বিকেলে হোটেল লা-মেরিডিয়ানে চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার সঙ্গে ছিল সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল। আর ওই দলেই শিমুল বিশ্বাসকে দেখা গেছে। চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একই টেবিলে বসে বৈঠকও করেছেন তিনি।সুত্র-পুর্বপশ্চিম বিডি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *