নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রকাশ- ২৮ নভেম্বর১৬।
ফেনী-২ আসনের সাংসদ ও জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক নিজাম হাজারীর পুরোনো মামলার তথ্য জানতে চায় আদালত।জানা গেছে ১৯৯১ সালের ২৪ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় দায়ের করা মামলার সর্বশেষ তথ্য জানতে চেয়েছে বিচারক। সোমবার দুপুর ২ টার পর আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে প্রথমে রিটকারী শাখাওয়াত হোসেনের আইনজীবি কামরুল হাসান সিদ্দিকি তার যুক্তি তুলে ধরেন।তিনি আদালত কে জানান কারাবিধি অনুযায়ী নিজাম হাজারীর ১৩ ব্যাগ রক্ত দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।তিনি এ সময় কারাবিধি ও সরকারী সার্কুলারের তথ্য উপস্থাপন করেন।এরপর সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারীর পক্ষে তার আইনজীবি সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমদ রিটকারীর আইনজীবির বক্তব্য খন্ডন করে আদালত কে জানান রেয়াত পেয়ে পুর্ন সাজা ভোগ করে আমার মক্কেল মুক্তি পেয়েছে।ঐ সময় আদালতের বিচারক বলেন সব কিছু বিবেচনায় নিলেও আপনার মক্কেলের সাজাভোগ পুর্ন হয়নি।এরপর আবার রিটকারীর আইনজীবি আদালত কে জানান কারা ইতিহাসে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কোন বন্দির কারাবিধি ও সরকারী সার্কুলার অনুযায়ী রেয়াত পাওয়া সাপক্ষে ৫ বছর ৮ মাস ১৯ দিনে মুক্তি পাওয়ার নজীর নেই।নিজাম হাজারীর ৪ মাস ১৬ দিন হাজতবাস ১০ বছরের সাজা থেকে কর্তন করার পরও কারাবিধি অনুযায়ি কোন অবস্থাতে মুক্তি পেতে পারেনা।তিনি কারা কর্তৃপক্ষের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী ২ বছর ৬ মাস ১৬ কারাভোগ না করে মুক্তি পেয়েছেন। ব্যারিষ্টার শফিক আহমদ আদালত কে জানান তার মক্কেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিলো।তখন আদালতের বিচারকেরা কয়েক মিনিট নিজেদের মধ্যে কথা বলে নিজাম হাজারীর মু্ক্তির সময় নিয়ে আদালতের নথিতে দুরকম তথ্য রয়েছে জানিয়ে তার( নিজাম হাজারীর) সাজাপ্রাপ্ত মামলার(১৯৯১সালে চট্রগ্রামের ডবলমুরিং থানার অস্ত্র মামলার) সর্বশেষ তথ্য ০১ ডিসেম্বরের মধ্যে জানাতে কারা কর্তৃপক্ষকে আদেশ দিয়ে রিট মামলার শুনানী মুলতবি করেন।আদালতে নিজাম হাজারীর পক্ষে ব্যারিষ্টার শফিক আহামদ ছাড়াও এডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন এমপি ও রিটকারীর পক্ষে এডভোকেট কামরুল হাসান সিদ্দিকি ছাড়াও সত্যে রঞ্জন দত্ত উপস্থিত ছিলেন।রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন সহকারী আ্যর্টনি জেনারেল আমিনুর রহমান ছৌধুরী।ফেনী পৌরসভার প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী আদালত কক্ষে উভয় পক্ষের শুনানী প্রত্যক্ষ করেন।
বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার (২৮ নভেম্বর) এ আদেশ দেন। নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দাখিল করা রিট আবেদনের ওপর শুনানিকালে এ আদেশ দিয়েছেন।গত ৩০ আগষ্ট রায় ঘোষনা শুরু হলেও এ নিয়ে ষষ্ঠ বারের মত পিচানো হলো।
প্রসঙ্গত; নিজাম হাজারীর কারাভোগ নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে ২০১৪ সালে ‘সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সাংসদ’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট আবেদন দাখিল করা হয়। অস্ত্র মামলায় সাজা কম খাটার অভিযোগ এনে নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা শাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া।
