মন্তব্য প্রতিবেদন,আবুল হোসেন রিপন।।২৭ নভেম্বর ১৬।।০৬:৩৫:২৮
মুক্তিযোদ্ধারা জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান এ কথাটি আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি।কিন্তু শনিবার সন্ধ্যা থেকে এ কথাটা আসলে সত্য কিনা তাহা নিয়ে অনেক ভেবেও কোন উত্তর পাইনি।আমি বিশ্বাস করি স্বাধীনতার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাষনামলে মুক্তিযোদ্ধারা সবচেয়ে বেশী সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে এবং সম্মান পাচ্ছে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিচ্ছে সে ক্ষেত্রে তার দলের নেতা কর্মীরা কি মুক্তিযোদ্ধাদের তাদের প্রাপ্যটা দিচ্ছে? বাস্তবতায় বলা যায় দিচ্ছেনা।এইতো গত সপ্তাহে ঝিনাইদহ জেলায় একজন মুক্তিযোদ্ধা কে আওয়ামীলীগের সাংসদ আব্দুল হাই এর নির্দেশে ছাত্রলীগ যুবলীগের নেতারা পিটিয়ে হাত পা ভেঙ্গে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।যাহা ভিডিও চিত্রে সারা দেশের মানুষ দেখেছে।সেই মুক্তিযোদ্ধার অপরাধ তিনি সাংসদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অনলাইন টেন্ডারে অংশ নিয়েছে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসার ভার নিয়েছে।খুবই ভালো কথা কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই মুক্তিযোদ্ধার উপর হামলার পৃষ্টপোষক সাংসদ কে বিচারের আওতায় আনতে আমরা কোন পদক্ষেপ দেখিনি।এটা সত্যিই লজ্জার।এভাবে সারা দেশে কম বেশী মুক্তিযোদ্ধরা সরকার সমর্থকদের রোষানলে পড়ছে।মুল প্রসঙ্গে আসি।ঐ যে বল্লাম সন্ধ্যা থেকে চিন্তায় আছি তার কারনটা কিন্তু ভিন্ন।যখন জানতে পারলাম জেলা পরিষধ নির্বাচনে সদস্য প্রার্থী হয়েও সোনাগাজী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার ইসমাইল আওয়ামীলীগের সমর্থন পাইনি তখন অনেক প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।বলবো কাকে?বলার পরিবেশও নেই আবার মুক্তিযোদ্ধা বান্ধব কোন নেতাও নেই।যে লোকটি ইপিআরের চাকুরীর মায়া না করে ৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে পাক হানাদার ও তাদের দোশর রাজাকার আলবদরের বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে সেই লোকটি সামান্য জেলা পরিষদের সদস্যের জন্য আওয়ামীলীগের সমর্থন পাইনা।যে নির্বোধ নির্লোভ মুক্তিসেনা স্বাধীন বাংলাদেশে একটু সময়ের জন্য জাতীর জনকের আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হয়নি সে নাকি যোগ্য না।৭৫ পরবর্তী কঠিন সময়েও আওয়ামীলীগের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে সে একবুক দির্ঘশ্বাস ছেড়ে বাড়ীতে ফিরে আপনারা যদি মনে করেন তার দির্ঘশ্বাস কোন প্রতিউত্তর করবেনা তবে সেটা মস্ত বড় ভুল।আর কিছুদিন পর আমরা কোন জীবিত মুক্তিযোদ্ধাকে দেখতে পাবোনা কারন প্রকৃতির চিরাচরিত নিয়মে সবাই পরপারে চলে যাবে।তাদেরকে আমরা জানবো ইতিহাস পড়ে।আফসোস করবো ইস যদি কোন মুক্তিসেনাকে জীবিত পেতাম তবে তাকে মাথায় তুলে রাখতাম।মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইলেরা দেশের সম্পদ,আওয়ামীলীগের জন্য পাহাড়।আমার নানার বাড়ী দারোগাহাটে হওয়ার কারনে খুব ছোট বেলা থেকে মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল কে চিনতাম।দেশে যখন আওয়ামীলীগ করা নিষিদ্ধ ছিলো তখন দেখতাম ইসমাইল মিয়া দোর্দন্ড প্রতাপের সাথে আওয়ামীলীগ করেছে।নানার বাড়ীর সবাই আওয়ামীলীগ করার কারনে দেখতাম কিভাবে ইসমাইল মিয়া কঠিন সময়ে ১৫ আগষ্ট পালন করতেন।যখন বড় হয়েছি তখন দেখেছি মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল একটা আপাদমস্তক গোয়ার যে সুরেশ সরিষার তৈল মাখতে জানেনা তখন বুঝেছি তার রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া উচিত।সোনাগাজীর রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে যারা তাকে কুপরামর্শ দিয়ে গ্রুপে ভাগিয়ে নিয়ে ফায়দা লুটেছে তারা কি একবার বলেছে জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে ইসমাইল যোগ্য, ত্যাগী ও পরিক্ষিত প্রার্থী।বলেনি কারন ইসমাইল জানেনা ফেনীতে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগ কে বহু পূর্বে ঘুনে খেয়ে ফেলেছে।সামান্য জেলা পরিষদের সদস্যের জন্য মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল কে শুনতে হয় আপনার সামনে আরো সময় আছে।সেসময় হতাশ ইসমাইলের জন্য কেউ সুপারিশ করেনা তখন তার মনে পড়ে ৭১ সালের কথা।বঙ্গবন্ধুকে না দেখেও তার আহবানে সাড়া দিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছে এই লোকগুলো কি তার আদর্শের আওয়ামীলীগ?হায় আওয়ামীলীগ তুমি কাকে দায়িত্ব দিয়েছে ট্রেড মার্ক মারার জন্য?হায় সোনার বাংলা একি তোমার হাল।রাজাকার পুত্র অট্র হাসি মারে মুক্তিযোদ্ধার হতাশ চেহারা দেখে।আওয়ামীলীগ কে পুঁজি করে দুর্বুত্তরা যখন রাজাকার পুত্রের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করে।আমরা তাদোর কঠিন সময়টা দেখার অপেক্ষা করছি।যাক গে সেসব কথা।আমি ব্যাক্তিগতভাবে মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইলকে অনুরোধ করবো এসবের পিচনে আর না দৌড়ে চুপচাপ বাকি জীবনটা পার করার।কারন এতে করে সম্মান নিয়ে মরতে পারবেন।একজন মুক্তিসেনার নির্মম অপমান দেখে মনে প্রশ্ন জাগে মুক্তিযোদ্ধরা কি আসলে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান?বি:দ্র:- এ লিখাটা সম্পুর্ন আমার ব্যাক্তিগত অনুভুতি।কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে দু:খ প্রকাশ করছি।
