নিজস্ব প্রতিবেদক,২৮ নভেম্বর ১৬।।০৫:৫০:২১
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি হুমায়ুন কবির অসুস্থ্য হয়ে ঢাকা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি রয়েছেন।পিতার অসুস্থতায় ছেলে রায়হান কবির সোমবার বিকালে তার ফেসবুক আইডিতে আবেগময়ী স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
পাঠকের সৌজন্য স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো:-
২৫শে নভেম্বর রাত প্রায় ১২টা থেকে কিছু সময় পূর্ব পর্যন্ত আমি আমার জীবনের সবচেয়ে বিভীষিকা এবং সংকাময় মুহূর্তগুলো পার করেছি।
সেদিন আমি সিলেট ছিলাম। রাত ১২টার দিকে কল আসলো, আমার ছোট ভাই অনেকটা সংকুচিত গলায় জানাল সে আব্বুকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছে।
২৬ তারিখ আমার পরীক্ষা তাই আব্বুর হার্ট অ্যাটাক কে আমার কাছে রেকেট খেলতে গিয়ে হাটুর ব্যাথা বলে চালিয়ে দিলো।
আমিও উনাদের সত্য ভেবে ঘুমিয়ে পরলাম আগামিকাল পরীক্ষা দিব বলে।
কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠার পর কাকা জানালেন আব্বু কে ঢাকা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এ শিফট করা হয়েছে…
বুঝার বাকি থাকার কথা না..!
ঢাকা যাওয়ার পথে অনেক আজগুবি চিন্তারা মাথার চুল ছেড়ার মতো অবস্থা করে দিছিলো।
হসপিটালে গিয়ে আম্মু আর ছোট ভাইটার চোখে যেন সহস্র আধার দেখেছিলাম।
আব্বু CCU তে অ্যাডমিট, অনেক কষ্টে ভিতরে গেলাম।
গিয়ে দেখি আব্বু নিত্য ভাবেই ডান কাধ হয়ে শুয়ে আছেন।
আব্বুর চেহারায় নজর দিয়ে যেন আমার প্রানের এক সিন্ধু জল অর্ধ পলকে শুকিয়ে খাঁ খাঁ করে উঠলো.!
ডাক্তার প্রত্যেকটা ছোট ছোট সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আমাকে জিজ্ঞেস করতেছিলেন। যদিও আমি একেবারেই অপ্রস্তুত।
অবশেষে যখন বললেন যে আপনি আপনার বাবাকে নিজের ঝুকিতে নিয়ে যাচ্ছেন….!! তখন সবকিছু চলতেছিল শুধু আমার কয়েকটা হার্টবিট ছাড়া.!
ঢাকা আসার পথে শুধু আব্বুকে নিয়েই ভাবতেছিলাম….
আমি ছোট থাকতে আম্মু একবার বলেছিলেন আব্বুকে “বাবা” ডাকলে নাকি উনার অনেক ভাল লাগে।
আমি আব্বুকে বাবা ডাকার আগেই কী…..!!
নাহ..! ভুলেও যেন না হয় খোদা…!
কিছু ভাবতেও পারছিলাম না, বাবাকে ছাড়া আমি,আমরা কিছুই না।
বাবা আমার মাথার উপর আকাশের মতো ছায়া। যে ছায়ার উপরেই বিকট প্রখর সূর্য, যার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হতে পারে আমার মস্তিষ্ক..!
বাবা নাকি সর্বদা আমাদের নিয়ে ভাবেন তাইলে উনি কেন বুঝেন না যে উনাকে ছাড়া আমরা কিছুই না যদি আমাদের খেয়াল রাখতে চান তাইলে উনাকে নিজের খেয়াল রাখতে হবে সবচেয়ে বেশি।
গতকাল এনজিওগ্রাম করারা পর উনার হার্ট এ ছোট একটা ব্লক পাওয়া গেছে যেটা ঘুরতর না হলেও চিন্তার বিষয়।
এখন আপনি চাইলেই সবকিছু করতে পারবেন না, যদি আমাদের ভালবাসেন তাইলে নিজের খেয়াল রাখবেন।
বাবা আপনি আমার ভবিষ্যৎ, আপনি আমার আদর্শ।
এত তাড়াতাড়ি কিচ্ছু হতে দিব না।
আল্লাহ্ র রহমত আর সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়ায় আব্বু আজ একটা হাসি দিয়েছেন।
যারা এই দুঃসময়ে পাশে ছিলেন তাদের কে আজীবন মনে থাকবে।আমি আমার পরিবারের পক্ষ থেকে চির কৃতজ্ঞতা সীকার করছি।
বিশেষ করে বাবার কর্মস্থল সোনাগাজির(ফেনী) সাধারন মানুষ এবং বাবার সাথে কর্মরত সবার প্রতি।
