
বিশেষ প্রতিনিধিঃ ০১ নভেম্বর, ২০১৬: সোনাগাজীর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওয়েবসাইট তৈরি করার নামে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই কর্মকর্তা ডেভলোপার প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বাধ্য করছে।
সূত্র মতে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রত্যেকটি নিম্ম মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও মাদ্রাসাকে নিজস্ব অর্থায়নে বিটিসিএল থেকে ডোমেইন নিবন্ধন পূর্বক দেশের খ্যাতনামা হোস্টিং কোম্পানির মাধ্যমে ওয়েবসাইট তৈরি করার নির্দেশনা জারি করে। এ নির্দেশনা পেয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ ডোমেইন নিবন্ধনের জন্য বিটিসিএল বরাবরে আবেদন করার প্রস্তুতি নেয়। এ সময় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বাধ্যতামূলক প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ওয়েবসাইট তৈরির নামে ২০ হাজার টাকা আদায় করে।
ওই সূত্র মতে, আর এ কাজটি বাস্তবায়নের জন্য দু সপ্তাহে বিভিন্ন প্রোগ্রামের নামে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দফায় দফায় প্রধান শিক্ষক ও কম্পিউটার শিক্ষকদের নিয়ে মতবিনিময় করেন। যা এতো মতবিনিময় এর আগে কোন কালেও হয়নি। ওই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত শিক্ষকদের হাতে লিফলেট তুলে দিয়ে ধমকের সাথে যোগাযোগ করার কথা বলেছিলেন শিক্ষা অফিসার।
ওয়েবসাইট তৈরীতে সহযোগিতাকারী মনির হোসাইন (বিএস টেকনলোজী) সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক’জন শিক্ষক জানান, তাদের কাছে ওয়েবসাইট তৈরি না করলে আমাদের প্রতিষ্ঠানের অবস্থা ভালো থাকবে না বলে হুমকি দেয়। তাই বাধ্য হয়ে তাদের হাতে চাহিদা মতো টাকা তুলে দিয়েছি। ওই শিক্ষকগণ জানান, বিএস টেকনলোজী আমাদের প্রতিষ্ঠানের নামে ডোমেইন নিবন্ধন না করে তাদের সাব ডোমেইন এ প্রতিষ্ঠানের নাম ও কয়টি ছবি দিয়ে সাইট তৈরি করে দিয়েছে, আমরা পরবর্তি কোন কাজ করার মত অপশন নেই, আমাদের প্রতিষ্ঠান গুলো ওয়েবসাইট নিয়ে অন্ধ হয়ে বসে আছে। শিক্ষা অফিসার এমন করাতে আমরা ওয়েবসাইটে আপডেট দিতে পারি না, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ডাটাবেস, এসএমসির সদস্য ও প্রাক্তণ প্রধান শিক্ষকদের বিবরনী, প্রতিষ্ঠান পরিচিতি, কন্টেইন ডাউনলোডসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র মোতাবেক ওয়েবসাইট তৈরিতে প্রথমেই প্রায় এক গিগাবাইটের (জিবি) প্রয়োজন। কিন্তু শিক্ষা অফিসের এ সিন্ডেকেট মাত্র এক জিবি দিয়ে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অথচ অনেক প্রতিষ্ঠিত কোম্পানী ৫-১০ জিবি পর্যন্ত ১২-১৫ হাজার টাকায় শর্ত সাপেক্ষে ওয়েবসাইট তৈরি করে দিতে যোগাযোগ করছে। কোম্পানীগুলোর দেয়া শর্ত মোতাবেক তাৎক্ষণিক পাওয়া যাবে কিন্তু শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাগাদা দিলে উল্টো বিপদে পড়তে হবে। শিক্ষা অফিসারের সাথে ফোনে কথা হলে, তিনি প্রথমেই জানতে চান আপনি কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি মোবাইল কেটে দেন। পরে ফোনটি সর্বদা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে পূনরায় একাদিক বার তার ব্যবহারিত মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।
