
নিজস্ব প্রতিবেদক,৩০ নভেম্বর ১৬।।০৪:২৫:৩২
সোনাগাজী উপজেলার সর্বত্রই অবকাঠামো উন্নয়নের নামে কমিশন বানিজ্যের যাতাকালে চলছে হরিলুট।সুশাসন ও দুর্নীতি বন্ধের শ্লোগান দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় আসলেও উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রিয় বরাদ্ধের কমিশন বানিজ্য বন্ধের প্রদক্ষেপ নিতে কোন সরকারের সময় বাস্তবিক প্রদক্ষেপ নিতে দেখা যায়না।এতে করে কমিশন বানিজ্য অঘোষিত নিয়মে পরিনত হয়েছে।অনুসন্ধান বেরিয়ে আসে সরকারী যে কোন কাজের ৪০ শতাংশ কমিশন বানিজ্যের গ্যাড়াকলে খরছ হয়ে যায়।যার কারনে কোন কাজই ঠিক মত করা হয়না।কমিশন বানিজ্যের কারনে সোনাগাজীতে সদ্য নির্মিত কয়েকটি পাকা রাস্তা নির্মানের এক মাসের কম সময়ের মধ্যে বেহাল অবস্থায় উপনিত হয়েছে।
জানা যায়, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক এর আর্থিক সহযোগীতায় উপজেলার কারামতিয়া বাজার – ওলামা বাজার সড়কে মেরামতের জন্য ১.৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়।
মেসার্স দ্যা নিউ ট্রেড লিংক নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২০১৬ জানুয়ারীতে নির্মান কাজ শুরু করেন এবং তা সমাপ্ত হয় ১৫ অক্টোবর ২০১৬ ।

এলাকাবাসী জানান, সড়কটি নির্মানের সময় ময়লাযুক্ত বালি , অপরিষ্কার পাথর , নিম্মমানের বিটুমিন দিয়ে কাজ করার সময় স্থানীয়রা ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকৌশলীদের কে বার বার অভিযোগ করার পরও তারা কোন কর্নপাত করেনি। যার কারনে নির্মানের অল্প সময়ের মধ্যে সড়কের এই বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়।
বুধবার (৩০নভেম্বর)সরজমিনে দেখা যায়, ওলামাবাজার থেকে রসুলপুর পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে সড়কটির অংশ বিশেষ পাশ্ববর্তী পুকুর ও ফসলী জমিতে তলিয়ে যায় এবং বেশ কয়েকটি স্থানে সড়কে ফাটলের সৃষ্টি হয়। এদিকে সোনাগাজী – মুহুরী প্রজেক্ট সড়কে মেরামতের জন্য ৭৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয় । মাত্র ৩ মাস পুর্বে নির্মান কাজ শেষ হলেও বর্তমানে কয়েকটি স্থানে খানা খন্দকের সৃষ্টি হয়। যার কারনে প্রতিনিয়ত সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেই চলছে। চর সোনাপুরের ৭০ উর্ধ্ব বৃদ্ধ আবুল কালাম জানান, নির্মানের নামে এই হরিলুট আর কত দিন চলবে?
এ ব্যাপারে সোনাগাজী উপজেলা প্রকৌশলী মিনহাজ মোস্তফা বলেন, সড়ক গুলো ভেঙ্গে যাওয়ার খবর পেয়েছি। শীঘ্রই সরেজমিনে পরিদর্শনে যাবো। তিনি আরো বলেন, সড়ক গুলো নির্মানের ১বছরের মধ্যে যদি ভেঙ্গে যায় , বা গর্তের সৃষ্টি হয় বা ফেটে যায় , চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পুনঃনির্মান করতে বাধ্য।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধীকারী তাজুল ইসলাম জানান,কমিশন বানিজ্য, টেন্ডারবাজী , চাঁদাবাজী সহ টেবিলে টেবিলে পার্সেন্টেস দেয়ার কারনে সিডিউল অনুযায়ী মান বজায় রেখে কাজ করা সম্ভব হয়না।

