
নিজস্ব প্রতিবেদক,১৩ নবেম্বর ১৬।।১০:৪৫
সোনাগাজীর চরছান্দিয়া গ্রামে জ্বীনের বাদশা সেজে স্বর্নের পাতিলের লোভ দেখিয়ে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ২ ব্যাক্তিকে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।শনিবার রাতে টাকা নিতে এসে তারা এলাকাবাসীর হাতে আটক হয় বলে জানান স্থানীয়রা।স্থানীয় সমাজপতি আব্দুল খালেক জানায়,খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার বাসিন্দা স্বপন দত্ত গত কয়েক মাস পূর্বে নিজেকে জীনের বাদশা পরিচয় দিয়ে মোবাইলে চরছান্দিয়ার সওদাগরহাট সংলগ্ন নুর নবী মিতালি নামের স্থানীয় ব্যাক্তিকে জানায় তার বাড়ীতে স্বর্নের পাতিল রয়েছে।কথিত জ্বীনের বাদশার কথায় লোভে পড়ে নুর নবী মিতালি তাকে যে কোন উপায়ে স্বর্নের পাতিল খুঁজে দেওয়ার অনুরোধ করে।এ সুযোগে জ্বীনের বাদশা নামধারী স্বপন দত্ত বিভিন্ন কৌশলে নুর নবীর কাছে বিকাশের মাধ্যমে ৬ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় বলে নুর নবী জানায়।টাকা নেওয়ার পরও জ্বীনের বাদশা স্বর্নের পাতিলের সন্ধান না দেওয়ার কারনে নুর নবী মিতালীর সন্দেহ হয়।শনিবারে মিতালি জ্বীনের বাদশা পরিচয়ধারী স্বপন দত্তকে টাকা নেওয়ার জন্য এলাকায় আসতে বলে।বিকালে জ্বীনের বাদশা তার স্থানীয় সহযোগী চরছান্দিয়ার ইসলামপুরের বাসিন্দা হানিফ কে সাথে নিয়ে নুর নবী মিতালির বাড়ীতে যায়।এসময় নুর নবী তার লোকজনকে সাথে নিয়ে তাদের দুইজনকে ঘরে আটক রেখে পুলিশে খবর দেয়।খবর পেয়ে সোনাগাজী মডেল থানার পুলিশ তাদের দুইজনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।তবে স্বপন দত্ত জানায়,সে কোন প্রতারনা করেনি।কারো কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, জ্বীনের আছর নামাতে ফোন করে তারা আমাকে এলাকায় এনেছে।তাহলে আপনি কি করেন প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে সে জানায়,তাবিজ,তুমার দিয়ে থাকি আমি।তবে এলাকার অনেকে নুর নবী মিতালির বিকাশে প্রায় ৭ টাকা দেওয়ার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।তারা যুক্তি হিসেবে জানান,মিতালি হয়তো স্বপন দত্ত কে দিয়ে কারো ক্ষতির জন্য তবিজ করিয়েছিলো।কাজ না হওয়াতে তাকে কৌশলে এনে পুলিশে দিয়েছে। জীনের বাদশা পরিচয়ধারী স্বপন দত্তকে এলাকায় তাবিজ প্রদানকারী হিসেবে অনেকে চিনেন বলে জানা গেছে।স্থানীয়রা প্রকৃত ঘটনাটি উদগাটনের জন্য পুলিশের প্রতি আহবান জানান।এদিকে নুরনবী মিতালির কাছে কোন বিকাশ নম্বরে ৭ লাখ টাকা দিয়েছে সে নম্বরটি চাইলে সে পরে দিবে বলে সটকে পড়ে।এরপর একাধীকবার ফোন করলেও সে ফোন রিসিব করেনি।সোনাগাজী মডেল থানার ওসি হুমায়ুন কবির এ বিষয়ে জানান,নুর নবী মিতালী তার কাছ থেকে প্রতারনা করে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।কিন্তু কোন বিকাশ নম্বরে টাকা প্রদান করেছে সে নম্বরটি না দেওয়া এবং অভিযুক্তরা ঘটনা অস্বীকার করায় সত্য উদগাটনে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্চে।
