Tuesday, January 13সোনাগাজীর প্রথম অনলাইন পএিকা
Shadow

স্কুলপড়ুয়া ছেলের জন্য চট্রগ্রামের মেয়র ক্রয় করলেন কোটি টাকার গাড়ি

 

 

নভেম্বর ৭, ২০১৬

সোনাগাজীর আলো ডেস্ক।।ছেলেটা ক্লাস সেভেনে পড়ে। আবদার করেছে গাড়ির। কার ছেলে দেখতে হবে তো! চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন নিজ ছেলের জন্য দেড় কোটি টাকার গাড়ি কিনেছেন। জাপান থেকে আসা সাদা রঙের টয়োটার বিলাসবহুল লেক্সাস ব্র্যান্ডের গাড়িটি এখন চট্টগ্রাম বন্দরে।

শনিবার বন্দরের ৪ নম্বর শেডে গিয়ে মেয়র নিজে গাড়িটি দেখেও আসেন। ছেলের শখ পূরণে এই গাড়ি কিনেছেন বলে গণমাধ্যমকে খোলাখুলিই জানালেন মেয়র। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ১৫ মাসের মাথায় গাড়িটি কিনলেও এটি কেনার প্রক্রিয়া মেয়র হওয়ার আগেই শুরু করেছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে এত দামি গাড়ি উপহার দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে নগরবাসীর মাঝে।

গাড়ি ব্যবসায়ী এনএসি অটো মোবাইলসের স্বত্বাধিকারী নুরুল আবসার চৌধুরী জানান, ২০১৬ সালে তৈরি লেক্সাস ব্র্যান্ডের অত্যাধুনিক গাড়ির দাম শুল্কসহ প্রায় দেড় কোটি টাকা। এ ধরনের গাড়ি ছাড় করাতে চট্টগ্রাম কাস্টমসে ক্রয়মূল্যের চেয়ে ২০০ থেকে ৪০০ গুণ শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হয়।

জাপানে তৈরি এই গাড়িটির আমদানিকারক চট্টগ্রামের গাড়ি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কে কে অটোমোবাইলস। মেয়রের গাড়ি পরিদর্শনের সময় তাদের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকলেও গণমাধ্যমের কাছে কোনো তথ্য সরবরাহ করছে না প্রতিষ্ঠানটি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরপরই আ জ ম নাছির জাপান থেকে টয়োটা আলফার্ড ব্র্যান্ডের কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একটি বিলাসবহুল মাইক্রোবাস আমদানি করতে চেয়েছিলেন।

মেয়রের জন্য এই গাড়িটি আমদানি করার কথা ছিল আগ্রাবাদের ফোর হুইলার্স লিমিটেড নামের একটি গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের। এক কোটি ১৮ লাখ টাকা মূল্যের এই গাড়িটি কিনতে তিনি ২০ লাখ টাকা অগ্রিম পরিশোধও করেন। তখন এ নিয়ে আগেভাগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় গাড়ি কেনা থেকে পিছু হটেছিলেন মেয়র।

চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে আবু সাঈদ মো. তানবীরের শখ পূরণ করতে সময় নেন ১৫ মাস। এবার আরো বেশি দামের গাড়ি আনলেন মেয়র।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অধ্যাপক সিকান্দার খান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার ১৫ মাসের মাথায় গাড়ি তিনি কিনতেই পারেন। তবে সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া সন্তানকে এত দামি গাড়ি উপহার দেওয়াটা দৃষ্টিকটু। ওনার ভালো আয় থাকতে পারে। কিন্তু মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে তো এত দামি গাড়ি ব্যবহার করেননি।

তবে টিআইবি’র চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে মেয়র তার পরিবারের প্রত্যাশা পূরণে দামি গাড়ি কিনতেই পারেন। এতে বিষয়টি নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা করার সুযোগ নেই। এছাড়া গাড়ি ক্রয়ের সঙ্গে যদি সিটি করপোরেশনের কোনো দুর্নীতির বিষয় জড়িত না থাকে তাহলে এটি নিয়ে এত মাতামাতির প্রশ্ন আসে না। মেয়রের ব্যক্তিগত ব্যবসা রয়েছে। এছাড়া তিনি অর্থশালী পরিবারের সন্তানও বটে।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া হলফনামায় বিভিন্ন ব্যাংক-বীমায় নাছির ৮ কোটি ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ৩ কোটি ৬২ লাখ ৩২ হাজার টাকা।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় আয়ের উৎস হিসেবে আ জ ম নাছির প্রধানত দেখিয়েছেন ব্যবসা খাতকে। শুধু এ খাত থেকেই তার বার্ষিক আয় হয় ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। এছাড়া কোম্পানি থেকে পরিচালক ভাতা হিসেবে ৪২ লাখ টাকা, ওয়াকফ বেনিফিশিয়ারি হিসেবে সম্মানি ৩ হাজার টাকা, অন্যান্য খাত থেকে ২৫ হাজার টাকা এবং ব্যাংক ইন্টারেস্ট বাবদ চার হাজার ৭৪৪ টাকা বছরে আয় আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।সুত্র-পূর্বপশ্চিম বিডি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *