ফেনী সদর প্রতিনিধি :প্রকাশ- ১ ডিসেম্বর ২০১৬।
ফেনীতে রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন ২ একর জায়গায় সমযোতার ভিত্তিতে জবরদখলের অংশ হিসেবে রেলওয়ের পরিত্যাক্ত পুকুর ও কবরস্থানে মাটি ভরাট করে চারপাশে ইটের বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ করে গত তিনমাস আগে প্রভাবশালী মহল। ওই জবর দখলকৃত স্থাপনা বুধবার গুড়িয়ে গেলো অা’লীগের স্নায়ুযুদ্ধের কারনে। এতে স্থানীয় নিরিহ জনগনকে কৌশলে ব্যাবহার করে উচ্ছেদের ঘটনা ভিন্ন রুপ দেয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, রেলওয়ের পরিত্যাক্ত প্রায় ২শ শতক জায়গা দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় বাসিন্দারা লিজ নিয়ে ভোগ দখল করে আসছিল। স্থানীয়দের মধ্যে আবদুল আহাদ পাটোয়ারী ১.৫৫ একর ভূমি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছেন। এছাড়া নুরুল হক, নুরুল আমিন, আবদুল হক, ফিরোজ মিয়া, নবাব আলী, ওহাব আলী, মানিক গংসহ আরো অনেকে ইজারা নিয়ে ভোগ দখলের মাধ্যমে উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। কিন্তু মাস তিনেক আগে সরকার দলীয় প্রভাবশালী চক্র জবরদখলের অংশ হিসেবে রেলওয়ের পরিত্যাক্ত পুকুর ও কবরস্থানে মাটি ভরাট করে চারপাশে ইটের বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ কাজ শুরু করে এসময় এলাকাবাসী বাঁধা দিলে প্রভাবশালী মহল তাদেরকে মামলা হামলা ও পুলিশ দিয়ে হয়রানী করার ভয় দেখায়। এনিয়ে এলাকাবাসী ক্ষুদ্ব হয়ে উঠলেও তারা ছিল অসহায়। অবশেষে গতকাল বুধবার সকালে বিভিন্ন বয়সী শত শত নারী পুরুষ একত্রিত হয়ে ভূমিদস্যূ চক্রের জবরদখলকৃত জায়গায় নির্মাণ করা বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

স্থানীয় প্রবীন বাসিন্দা আবদুল হক জানান, রেলওয়ের পরিত্যাক্ত এই জায়গাটি দীর্ঘদিন এলাকাবাসী ভোগ করে আসছিল। মাস কয়েক আগে প্রভাবশালী ভূমিদস্যূ চক্র কয়েক শ কোটি টাকা মূল্যের এই সম্পত্তিতে কুদৃষ্টি পড়ে। তারা এটি বিভিন্ন ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জবর দখল করে নেয়। এবিষয়ে বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় আবদুল গফুর জানান, রেলওয়ের পুকুরের পাড়ে স্থানীয় ও অজ্ঞাতনামা লাশের কবর দেওয়া হতো। কিন্তু ভূমিদস্যুরা কবরস্থানের জায়গাটিও মাটি ভরাট করে দখল করে নেয়।
ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
