
নিজস্ব প্রতিবেদক,২২ জানুয়ারী ১৭ জানুয়ারী ১৭।।০৪:৩০:৩২
কালাম মাঝি আওয়ামীলীগের একনিষ্ট কর্মী।জীবিকার তাগিদে নোয়াখালীর চরজব্বর থেকে সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউনিয়নের নবী উল্যাহ দোখান সংলগ্ন বসবাস করতে এসে জলদস্যু ভাগিনা কালাম বাহিনীর নৃশংসতায় এক পা হারিয়ে পঙ্গত্ব জীবন যাপন করছে।সে চরজব্বর থানার বেলায়েত হোসেনের ছেলে।২০০৩ সালে চরদরবেশ ইউনিয়নের আব্দুল খালেকের মেয়ের সাথে পরিনয় সুত্রে আবদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে ওই এলাকায় বসবাস করছে।স্থানীয়রা জানান,জীবিকার তাগিদে কালাম মাঝি ছোট ফেনী নদীতে মাছ ধরতো।ছোট ফেনী নদীর ওই এলাকা হয়ে জলদস্যু কমান্ডার ভাগিনা কালাম বাহিনী ট্রলারযোগে ডাকাতি করতো।তারা কয়েকবার জোর করে কালাম মাঝির নৌকা নিয়ে উড়িরচর ও সন্ধিপে ডাকাতি করতে যায়।কালাম মাঝি প্রতিবাদ করলে তার উপর নৃশংসতা নেমে আসে।প্রথমে ভাগিনা কালাম তার কাছে চাঁদা দাবী করে।সে দিতে অস্বীকার করলে ২০০৭ সালের মার্চ মাসে ভাগিনা কালাম তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরন করে জলদস্যু ঘাটি ইটালি মার্কেটে নিয়ে যায়।চাঁদা আদায়ে ব্যার্থ হয়ে তারা তার এক পা কেটে ফেলে আটক রাখে।কালাম মাঝির স্ত্রী ২০ হাজার টাকা দিয়ে কাকুতি মিনতি করে তাকে চিকিৎসার জন্য সোনাগাজী হাসপাতালে ভর্তি করায়।সুত্র জানায়,গুরতর আহত কালাম মাঝিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভাগিনা কালামের পৃষ্টপোষকেরা বাঁধা প্রদান করে।ভাগিনা কালামের পৃষ্টপোষকেরা ওই সময় সোনাগাজীতে ১/১১অন্যতম নায়ক জেনারেল মাসুদের ভাই হারুন ছৌধুরীর চত্রছায়ায় বেপরোয়া।রাতের অন্ধকারে আহত কালাম মাঝিকে তার স্ত্রী গোপনে সোনাগাজী হাসপাতাল থেকে চট্রগ্রাম নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করায়।কালাম মাঝির স্ত্রী বলেন,মামলা করার সোনাগাজী থানায় গেলে তৎকালীন ওসি মোহাম্মদ আলী মামলা না নিয়ে উল্টো আমাকে লকাপে রাখার হুমকি দেয়।ওসি মোহাম্মদ আলী হারুন ছৌধুরীর আর্শিবাদে থেকে সরাসরি ভাগিনা কালামের গড়ফাদারদের পৃষ্টপোষকতা করতেন।ঘটনা সেখানে শেষ হয়ে যায়নি।কালাম মাঝির স্ত্রী জানান,তার স্বামীর পা কেটে ফেলার পর রাতে সেই কাটা পা ভাগিনা কালাম তাদের ঘরের দরজায় রেখে আসে।১/১১ পর সারাদেশে বিএনপি জোটের নেতাকর্মীরা গাঢাকা দিলেও সোনাগাজী ছিলো তার ব্যাতিক্রম।পা কেটে ফেলার পরও দির্ঘ তিন বছর কালাম মাঝি এলাকায় আসতে পারেনি জলদস্যু ভাগিনা কালামের হুমকিতে।২০১২ সালে ভাগিনা কালামের খালাতো ভাই যুবদল নেতা সন্ধিপি মানিক যুবলীগ ক্যাডার মিন্টু বাহিনীর হাতে নিহত হলে কালাম মাঝি এলাকায় ফিরে আসে।পঙ্গু অবস্থায় কালাম মাঝি জীবন চালাতে মুদির দোখান খোলে।কিন্তু সেখানেও শান্তি নেই।কালাম মাঝি জানায়,রাতের অন্ধকারে দশবার দোখান লুট করে ভাগিনা কালাম বাহিনী।তারপর থেকে আর দোখান খুলেননি তিনি।স্থানীয়রা জানান,বর্তমানে কালাম মাঝি মাতবেতর জীবন যাপন করছে।শ্বশুর ও শ্যালকদের সহায়তায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে কোন রকমে বেঁচে আছে।এত কষ্টের মাঝেও আওয়ামীলীগ পাগল কালাম মাঝি বঙ্গবন্দুর মৃত্যু দিবসসহ আওয়ামীলীগের যেকোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকে।ক্রসফায়ারে ভাগিনা কালাম নিহত হয়েছে প্রতিবেদক জানালে কালাম মাঝি দির্ঘশ্বাস ফেলে বলেন,আমাকেসহ বহু মানুষের জীবন নষ্ট করে সেও মরলো।তিনি আইনশৃংখলা বাহীনির প্রতি তার সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।
