সৈয়দ মনির আহমদ : আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম মুহুর্তে জামায়াত-বিএনপি অধ্যুষিত ফেনীতে ২০১২ সালের ১৭ জানুয়ারী সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হিসেবে যোগদান করেন সামছুল আলম সরকার। আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০১৫ সালের এপ্রিলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

শনিবার বিকালে তাঁর কার্যালয়ে একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ফেনীর আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে পেশাদারীত্বের সহিত কাজ করেছি, ২০১৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত সরকার বিরোধী আন্দোলনে ঢাকা- চট্টগ্রাম সড়কের কেন্দ্রবিন্দু ফেনীর অংশে নাশকতা মুক্ত রাখার চেষ্টা করেছি। একই ভাবে ২০১৫ সালের জানুয়ারী থেকে মার্চ পর্যন্ত লাগাতার হরতাল অবরোধেও ফেনীকে সন্ত্রাস , নাশকতা , জঙ্গিবাদ মুক্ত রাখার জন্য ফেনীর পুলিশ সুপার রেজাউল হক মহোদয়ের নেতৃত্বে কাজ করেছি। ২০১৫ সালের এপ্রিলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়ে ২৭ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে পুলিশ সদর দপ্তরে যোগদান করি। মাত্র ১৭দিন পর পুনরায় ফেনীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে যোগদান করি।
তিনি আরো বলেন , যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসির খবরে ট্রাংক রোড়ে সদর থানার ওসির গাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করেছিল জামায়াত -শিবির ক্যাডাররা। তখন সেই গাড়ীতে তিনি ছিলেন। ওই সময় আতœরক্ষার্থে তাঁর নেতৃত্বে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে শিবিরের ১ কর্মী নিহত হয়। ওই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকরের দিন মার্কেন্টাইল ব্যাংক ফেনী শাখায় অগ্নিসংযোগ করেছিল জামায়াত শিবির। সেখানে তাঁর নেতৃত্বে পুলিশ কম সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন। এছাড়া ফেনীতে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে কয়েকটি সফল অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামছুল আলম সরকার।
জানা যায়, ২৫ তম বিসিএস পাশ করে তিনি সহকারী পুলিশ সুপার পদে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। পুলিশকে জনবান্ধব করতে ওয়ার্ড পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি ,সাংবাদিক, সমাজসেবক , শিক্ষক, ইমাম মোয়াজ্জেম সহ তৃনমূলে সার্বক্ষনিক নিবিড় যোগাযোগ ছিল লক্ষনীয়। সম্প্রতি সামছুল আলম সরকারকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে শেরপুর জেলা পুলিশে বদলী করা হয়েছে। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।
