Monday, January 12সোনাগাজীর প্রথম অনলাইন পএিকা
Shadow

প্রসঙ্গ-ফুলগাজীর দুর্ঘম সিমান্তে রাতে  মাদক বিরোধী অভিযান–? অনাকাংখিত ঘটনার দায় কার?

 

আবুল হোসেন রিপন, ১০ মার্চ ১৭।।০৬:৪৩:৩২ অপরাহ্ন

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার দুর্ঘম বদরপুর সিমান্তে মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে বুধবার রাতে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সোহেল রানা।খবরে প্রকাশ ওই সময় মাদক কারবারীদের সাথে ভ্রাম্যমান আদালতের সংঘর্ঘে এক আনসার কমান্ডার নিহত,ম্যাজিষ্ট্রেট সোহেল রানা সহ কয়েকজন আহত এবং সুমন নামের কথিত সোর্স ভারতীয় সিমান্ত রক্ষীদের হাতে বেআইনি অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেফতার হয়।নিহত আনসার কমান্ডারের মৃতদেহও ভারতীয় সিমান্ত রক্ষীদের কাছে হেফাজতে ছিলো।বৃহস্পতিবার বিকালে ভারতীয় সিমান্ত রক্ষীরা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে মৃতদেহ দেহ হস্তান্তর করে।সংঘর্ষের সময় কোন মাদক কারবারী আহত বা নিহত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ গনমাধ্যম কে কিছু জানায়নি।

সংঘর্ষের স্থান পর্যবেক্ষন ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, যে স্থানে ভ্রাম্যমান আদালত অভাযান চালিয়েছে সেটা মানচিত্রে বাংলাদেশের মধ্যে অবস্থান হলেও ভুখন্ডটি ভারতীয় সিমানার মধ্যে অবস্থিত।এমনও দেখা গেছে একটা ঘরের অর্ধেক বাংলাদেশ ভুখন্ডে অর্ধেক ভারতীয় ভুখন্ডে পড়েছে।

স্বাভাবিক প্রশ্ন আসে এ রকম একটি দুর্ঘম স্থানে আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় জনবল না নিয়ে অভিযান চালানো কতটুকু যুক্তিযুক্ত?

অভিযানের সময় ভ্রাম্যমান আদালতের উপর হামলার ঘটনার পর এটা পরিস্কার যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছিলো সে গোয়েন্দা তথ্য  পুর্নাঙ্গ ছিলোনা।

অভিযানের পূর্বে বিশ্লেষন করার প্রয়োজন ছিলো ঘটনাস্থলে মাদক কারবারীদের সংখ্যা কত এবং তাদের আশ্রয়দাতা কারা?

বিএসএফ আনসার সদস্যদের মৃতদেহ ও জীবিত একজনকে নিয়ে গেলো অথচ বিজিবি কিছুই করতে পারলোনা।এতে  প্রমানিত হয় অভিযানের সময় বিজিবি ঘটনাস্থলে ছিলোনা অথ্যাৎ তাদের অভিযানের বিষয়টি জানানো হয়নি! সংঘর্ষ শুরু হলে কি বিজিবি ঘটনাস্থলে যায়?

দুর্ঘম সিমান্তে বিজিবির সাপোর্ট ছাড়া অভিযান চালানোর পরিনতি কি হতে পারে সেটা অভিযানের পূর্বে বিশ্লেষন করা খুবই গুরত্বপুর্ন ছিলো।

গোয়েন্দা সুত্র থেকে জানা যায়,বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট সোহেল রানা যেখানে অভিযান চালিয়েছে সেটা ভারতীয় ভুখন্ড।সুতরাং এ অবস্থায় বিএসএফ যদি এ্যাকশনে যেতো উদ্ভুত পরিস্থিতি দায় কে নিতো?

সবশেষে বড় বিষয় হলো সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে সন্ধ্যার পর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করার কোন এখতিয়ার আইনে নেই।

এমনিবস্থায় বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট সোহেল রানা কি জেলা প্রশাসনের  অনুমতি নিয়ে অভিযান চালিয়েছে?

ওইদিন যদি গোলাগোলির আওয়াজে বিএসএফ ব্রাশ ফায়ার শুরু করতো তাহলে আমাদের কেউ প্রানে বাঁচার সম্ভবনা ছিলোনা।

ঘটনাস্থলটি ফেনীর ট্রাংক রোড় বা ভিতরের বাজার নয় যে কয়েকজন আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য নিয়ে অভিযান চালিয়ে নিরাপদে ফিরে আসা যাবে।

সবচেয়ে গুরত্বপুর্ন বিষয় হলো অভিযানে প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব টা বেশী পরিলক্ষিত হয়েছে।

অভিযানের সময় চোরাকারবারীরা হামলা করলো উপস্থিত আইনশৃংখলা বাহিনী ১৪ রাউন্ড গুলি বর্ষন করলো কিন্তু একজন চোরাকারবারীও আহত নিহত হলোনা বিষয়টির তাৎপর্য কি দাড়ালো?

আওয়ামীলীগ ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর ৯৮ সালে রৌমারি সীমান্ত বিডিআরের তৎকালীন প্রধান খলিলুর রহমানের  যড়যন্ত্রে বদরপুরের মতো সমন্বয়হীন অভিযানের কারনে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিলো।ওই সময় বিডিআর বিএসএফের ১৮ জন জওয়ান কে হত্যা করে মৃতদেহ বাশে বেঁধে লটকিয়ে এনেছিলো।তৎকালীন ভারতের বিজেপি সরকার পিলখানায় বিডিআরের সদর দপ্তরে হামলার হুমকি দিয়েছিলো।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুব ধৈর্য্য সহকারে সে পরিস্থিতি সামাল দেয়।খলিলুর রহমানের অবসরের পর বিভিন্ন টকশোতে তার কথা বার্তায় প্রমান হয়েছে তিনি আওয়ামীলীগ সরকার কে বেকায়দায় ফেলতে ইচ্চাকৃত ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

মাদক আমাদের বড় সমস্যার মধ্যে একটি।যেকোন ভাবে মাদক নির্মুল করতে হবে।বর্তমান সরকার মাদক নির্মুলে বদ্ধপরিকর।

সুতরাং সীমান্তে মাদক নির্মুল অভিযানে রাষ্ট্রিয় যন্ত্রের সব কিছু ব্যাবহার  করলে অনাকাংখিত প্রানহানী ঘটবেনা।শত মাদক কারবারী নিহত আহত হোক কিন্তু আমাদের আইনশৃংখলা বাহিনী ও প্রশাসনের কারো যেন সামান্য শারীরিক ক্ষতি না সেদিকে লক্ষ্য রাখা খুবই জরুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *