
আবুল হোসেন রিপন, ০৫ এপ্রিল ১৭।। ০৫:০৭:২৯ অপরাহ্ন
আজ ৫ এপ্রিল বুধবার ফাগুনের দিনটার আকাশে রোদের পলক নেই।সকালের দিকে আকাশের অবস্থা ভালো থাকলেও বিকালে অন্ধকার আকাশে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।সাত বছর পূর্বে সোমবারের দিনটা কিন্তু আজকের মতো ছিলোনা।সেদিন আকাশে রোদ ছিলো,ফাগুনের সুন্দর পরিবেশ।সেই সুন্দর পরিবেশে পৃথিবীতে এসেছিলো আমাদের ঐশী।সেদিন সকালে ঐশীর মায়ের প্রসব বেদনা শুরু হলে আমার শাশুড়ি কাছেই ছিলো।আমি হাসপাতাল নিতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমার শাশুড়ি নরমাল ডেলিবারির পক্ষে তাই ঐশীর মাকে বাসায় রাখতে হলো। বিবাড়িয়া কারাগার কোয়ার্টারের দোতালা সেই বাসাটিতে বিকাল ৪:৫১ মিনিটে ঐশীর জম্ম হয়।আমি ও আমার শ্যালক কাউসার বাসার নিছে ছিলাম।ঐশীর প্রথম কান্নার শব্দটা পেয়ে আমরা দৌড়ে বাসায় যায়।সত্যিই সে সময়টার অনুভুতি আমি কখনো ভুলতে পারবোনা।আমার জীবনের সুখ স্মৃতিগুলোর মধ্যে ঐশীর জম্মের স্মৃতিটা কখনো ভুলতে পারবোনা।সময়টাতে যদি আমার মা থাকতো তবে স্মৃতি ব্যাপকতা আরও সুদৃঢ় হতো। ঐশৈীকে প্রথম দেখেই আমার মায়ের চেহারাটা স্মৃতিপটে ভেসে আসলো।ঐশী যেন আমার মায়ের কার্বন কপি।সে সুখ স্মৃতির সময়টায় আমি অনেকক্ষন কেঁদেছি।আমার কোল থেকে ঐশী তার মামার কোলে,তার মামার কোল থেকে ঐশী তার নানুর কোলে।খবর পেয়ে বাসা বাড়ীর লোকজন আমাদের বাসায় এলো। সবাই মিষ্টি খেতে চাইলে আমার শ্যালক বিবাড়িয়ার সবচেয়ে ভালো মিষ্টি সবাই কে খাওয়ালো।কষ্টের স্মৃতিও রয়েছে সেই দিনটিকে ঘিরে।ঐশীর জম্মের সময়টায় কিন্তু আমার বাড়ীর লোক কেউ ছিলোনা।এক অর্থে বলতে গেলে সে রকম মানুষের অভাব আমার জীবনে সবসময় ছিলো।যাকগে সেসব কথা।সেদিনের সে ঐশী আজ সাত বছরে পা দিয়েছে।এখন সে স্কুলে পড়ে,আমাকে শাষন করে।রাত জেগে কাজ করতে দেখলে ঘুমাতে বলে,দেরীতে খেতে গেলে বকা দেয়,সিগারেট খেতে দেখলে চোখ লাল করে বলে এসব খেয়োনা। ঠিক যেন আমার মায়ের শাষন।

ঐশীর জম্মদিনটা ভালোভাবে পালন করার ইচ্ছা ছিলো কিন্তু আমার শাশুড়ির অনুপস্থিতির কারনে জম্মদিন পালনটা একেবারে সাদামাটা করতে হলো।আমার শাশুড়ি ঐশীকে কখনো তার দাদা দাদীর অভাব বুজতে দেয়নি। এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয় ঐশী রিমন কে লালন পালন টা আমার শাশুড়ি করেছে ,এখনো করছে যদি সুস্থ্য শরীরে বেঁছে থাকে করবে।আমি জানিনা কোন মা তার মেয়ে ও নাতি নাতনির জন্য এতটা করেছে কিনা ? যতটুকু আমার শাশুড়ি করেছে।এরকম একজন মানুষের অনুপস্থিতিতে ঐশীর জম্মদিনটা না পালন করা আমার কাছে অনেকটা যুক্তিযুক্ত।
এ সাত বছরে ঐশীকে কখনো আমাদের ঊচ্চস্বরে কথা বলতে হয়নি।শিশু হলেও যেভাবে বলেছি সেভাবে সে চলেছে।নিজ থেকে স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরী হয়,নিজ থেকে সে খেলাধুলা,খাওয়া,পরা করে থাকে।

ঐশীর জম্মটা আমার কাছে আমার মরহুমা মায়ের ফিরে আসার মতো অলৌকিক ঘটনা।সপ্তম জম্মদিনে তাহসিন নাহার ঐশীর জন্য পিতা হিসেবে তার জন্য অনেক শুভ কামনা,হ্নদয় নিংড়ানো আদর ও ভালোবাসা।মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার ঐশীকে ভালো রাখে,সুস্থ্য রাখে।
