Sunday, January 11সোনাগাজীর প্রথম অনলাইন পএিকা
Shadow

পর্যটনের নতুন দিগন্ত কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক

 

সোনাগাজীর আলো ডেস্ক, ০৮ মে ১৭।।১১:৩৭:১২ অপরাহ্ন

দীর্ঘ ১৪ বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ সড়কের যাত্রা শুরু হয়েছে। ৬ই মে কক্সবাজার উখিয়া উপজেলায় ইনানী বিচের এই মেরিন ড্রাইভ সড়ক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমুদ্র সৈকত বেষ্টিত এই মেরিন ড্রাইভ সড়কের মাধ্যমে খুলে গেল অপার সম্ভাবনার পর্যটনের অবারিত দুয়ার। এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো এশিয়া মহাদেশের অহংকার। এতে করে কক্সবাজারের পর্যটনশিল্প এগিয়ে গেলো আরও কয়েক ধাপ। এর মাধ্যমে পর্যটন খাতের আয় কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মান করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কে এম মেহেদী হাসান জানান, এটি বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ (সাগরপারের সড়ক), যেটির দৈর্ঘ্য ৮০ কিলোমিটার।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছে এই সড়ক। প্রথম ধাপে ২৪ কিলোমিটার, দ্বিতীয় ধাপে ২৪ কিলোমিটার ও তৃতীয় ধাপে ৩২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। মেরিন ড্রাইভ সড়কে ১৭টি ব্রিজ, ১০৮টি কালর্ভাট, তিন হাজার মিটার সসার ড্রেন, ৫০ হাজার মিটার সিসি ব্লক এবং জিও ট্যাক্সটাই থাকছে। সড়কের দুই পাশে যুক্ত হয়েছে ওয়াকওয়ে, পর্যটকদের সুবিধার্থে সড়কজুড়ে ফ্লেক্সিবল পেভম্যান, শেড, গাড়ি পার্কিং ও মহিলা পর্যটকদের চেঞ্জিং রুমসহ অনেক সুবিধা। যেখানে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা।

মেরিন ড্রাইভ সড়ক অর্থাৎ সাগরপারের সড়ক। এর এক পাশে থাকছে নীল সমুদ্রের হাতছানি, অন্য পাশে থাকছে সবুজে ঘেরা বন-বনানী ও পাহাড়। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই সড়কটি যথেষ্ট আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হয়েছে। পর্যটকরা যাতে সহজে কক্সবাজারে পৌঁছতে পারেন, সে জন্য এক হাজার ১৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এখন সুপরিসর বোয়িং বিমানও সেখানে ওঠানামা করতে পারবে।

কক্সবাজার সদর রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল জানান, মেরিন ড্রাইভটি একদিকে সাগরের তীরে বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। অন্যদিকে বিস্তৃীর্ণ জায়গা-জমি ও ফসল রক্ষা পাবে সাগরের ভাঙন থেকে। একই সঙ্গে পর্যটনশিল্পেও যোগ হবে নতুন মাত্রা। বিদেশী পর্যটকেরে আগমন বেড়ে যাবে। অর্থনীতিবিদরা বলেন, এক দিকে পাহাড় আর অন্য দিকে সাগর, আর মধ্য ভাগে এ সড়ক। বাংলাদেশে পর্যটনের দুয়ার খুলে দিল এই সড়ক। একই সঙ্গে সড়কের কারণে বদলে যাবে এই এলাকার মানুষের জীবন মানও।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, এই প্রকল্পটি দেশের পর্যটন খাতের মেরুদণ্ড। মুম্বাইয়ের ‘কুইন্স নেকলেস’ প্রকল্পকেও হার মানাবে বাংলাদেশের এই মেরিন ড্রাইভওয়ে। এর মধ্য দিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা নতুন পরিবেশে দেখবেন সাগর, পাহাড় আর সড়কের অনন্য রূপ, পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার স্বচ্ছ জলরাশি, পাথুরে ইনানী সৈকত, পাটোয়ার টেকের পাথরে স্তূপের শোভা ও সড়কপাশের বিস্তীর্ণ উপকূলের ঝাউ বাগানের সৌন্দর্য। পর্যটকদের আকর্ষণের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে মেরিন ড্রাইভ সড়কটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *