Tuesday, January 13সোনাগাজীর প্রথম অনলাইন পএিকা
Shadow

হাজার মাসের চেয়ে উত্তম লাইলাতুল কদর

 

সোনাগাজীর আলো ডেস্ক,২২ জুন ২০১৭।।১১:৪৫:৩৭ অপরাহ্ন

নবী করিম (সা.)-এর উপদেশ বাণী হল- যখন তোমরা লাইলাতুল কদরের সন্ধান পাবে, তখন এ দোয়াটি পাঠ করবে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি’- ‘হে আল্লাহ তুমি অবশ্যই ক্ষমাশীল। তুমি ক্ষমা করাকে পছন্দ কর, কাজেই তুমি আমাকে ক্ষমা করো’ (তিরমিজি)।

হেরা গুহায় ঝলকে উঠেছিল খোদার নুরানি বাণী।- ইকরা বিসমি রাব্বি কাল্লাজি খালাক, অর্থ ‘পড়ো তোমার মাবুদের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে প্রবহমান জলবিন্দু থেকে।’ সুফি দরবেশরা বলেন, রমজানের কদরের রাতেই ১৪শ’ বছর আগে এ গৌরবময় অধ্যায় সূচিত হয়েছিল প্রিয় নবীজির (সা.) জীবনে। সেই থেকে সুফি দরবেশদের মাধ্যমে দেশে দেশে মুমিন বান্দারা শবেকদর পালন করে আসছেন, যা আজও পালিত হচ্ছে।

ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায় শুধু ২৭-এর রাতকেই শবেকদর মনে করে এ রাতটি এবাদত-বন্দেগিতে কাটিয়ে দেন। এ রাতেই প্রতিটি মসজিদে খতম তারাবির সমাপ্তি হয়। আজ রাতভর মসজিদগুলো থাকবে এবাদতমুখর এবং কানায় কানায় ভরপুর মুসল্লিতে। চোখের জলের মোনাজাতে বুক ভাসাবে লাখো রোজাদার। সহি হাদিসগুলো থেকে জানা যায়, নবী (সা.) ২০ রমজানের পর থেকেই বেজোড় রাতগুলোয় শবেকদর খোঁজ করতে বলেছেন। যার তালাশে তিনি শেষ দশকে ইতেকাফে বসতেন মসজিদে নববীতে। যাতে বেজোড় রাতগুলোর আমলের মাধ্যমে শবেকদর খুঁজে পাওয়া যায়, এবং পরবর্তী সময়ে তার উম্মতরাও যেন একই রকম আমল করে মহিমান্বিত রাত শবেকদর পেয়ে ধন্য হয়।

মহান এ রাত সম্পর্কে আল্লাহপাক তার পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআনে বলেন, ‘এবং তোমাকে কিসে অবহিত করবে যে, লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হচ্ছে হাজার মাস থেকে উত্তম। ওই রাতে ফেরেশতারা এবং কামেল রুহ সব তাদের মাবুদের হুকুম অনুযায়ী যাবতীয় বিষয়সহ নাজিল হয়’ (সূরা কদর)। এ রাত কখন আসে, কীভাবে আসে এবং কেমন আরাধ্য আত্মার কাছে মহিমান্বিত এ রজনী ধরা দেয়, সে বিষয়ে জানতে আমাদের সাধনা করা জরুরি। হজরত রাসূলে পাক (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের জীবনে আগত প্রতিটি রমজানের শেষ দশকের কোনো এক বেজোড় রাতে এ সম্মানিত রজনীকে সন্ধান করো’ (বোখারি)। অর্থাৎ রমজানের ত্রিশটি দিবস অসম্ভব কঠোর সাধনায় অবিরাম আরাধনার পর এ মাসের প্রায় শেষ প্রান্তে এসেই কেবল একজন সায়েম সাধক তার কাক্সিক্ষত রাতের সন্ধান লাভ করতে পারেন। আর এটাই হল রমজানের নিবিড় এবাদতের মর্মকথা। নদীর জলের মাছগুলো যেমন জেলের ছড়ানো জালের শেষ প্রান্তে এসে জমা হয়, তেমনিভাবে রমজানের যতসব কল্যাণ তার সবটুকুই এ মাসের শেষ দশকে এসে সঞ্চিত হয়। আর সেই অংশের কোনো বেজোড় রাতেই আত্মগোপন করে থাকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম ওই রজনী, ঐশী জগতে যার নাম ‘লাইলাতুল কদর’।

অতএব ঐশী পুণ্যে পরিপূর্ণ এ রাতের সন্ধান লাভ করা কোনো সাধারণ বিষয় নয় এবং এটি কোনো সাধারণ কাজও নয়। যে মহাজন বছরের প্রতিটি দিবস ও রাত ইবাদত সাধনায় মশগুল থেকে পুণ্যতায় পূর্ণ হতে পারবেন কেবল তিনিই সন্ধান পাবেন মহিমান্বিত এ রাতের।

মহান আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘স্মরণ রেখ, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে’ (১৩:২৩)। মুমিন মাত্রই মাহে রমজানের পবিত্রতায় আল্লাহর স্মরণের মাত্রাকে বহুগুণে বাড়িয়ে নেন, এবাদতের একাগ্রতাকে আরও নিবিড় করে নেন। এমন কোনো পুণ্যের কাজ নেই যা কিনা সে হাতছাড়া করে। আল্লাহ-প্রেমিকের অন্বেষণ একটাই থাকে আর তা হল, লাইলাতুল কদর লাভ করা। এ প্রাপ্যতার মাঝেই তিনি অর্জন করেন আত্মার শান্তি।

হে রোজাদার আসুন! রমজানের এ শেষ দিনগুলোতে সবাই সিয়াম ইতেকাফে নিবেদিত হয়ে সেই মাহাত্ম্য আহরণে মত্ত হই। এই শেষ দশকেই আল্লাহতায়ালা আমাদের জন্য আত্মার নাজাতের প্রতিশ্রুতিসহ লাইলাতুল কদরের উপহার রেখেছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *