
সোনাগাজীর আলো ডেস্ক,০৪ জুলাই ২০১৭।।০৬:৫৮:৩২ অপরাহ্ন
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা দায়ের করেছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী রশিদা বেগম। মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর মূখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে (খ-অঞ্চল) হাজির হয়ে মামলাটি দায়ের করেন তিনি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন বলে জানিয়েছেন বাদীর আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বাবু।
তিনি জানান, শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মো. মাহবুবুর রহমান মামলাটি গ্রহন করেন। পরে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করে আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আতাউর রহমানকে আদালতে স্বশরীরে হাজির হওয়ার আদেশ দেন। মামলায় আসামি আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বাবু জানান।
রশিদা বেগম মামলায় অভিযোগ করেছেন, ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল আতাউর রহমানের সঙ্গে দুই লাখ টাকা দেনমোহরনা ধার্য করে বিয়ে হয়। তারা স্বামী-স্ত্রীর মত এক সঙ্গে বসবাসও করেন। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তিনি গোপন অবস্থা থেকে প্রকাশ্যে আসেন।
এ সময় তাকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করেন আতাউর। পরে কাবিননামা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে দেন-দরবারও করেন। কিন্তু উল্টো তাকে ভয়-ভীতি দেখানো হয়। এক পর্যায়ে তার সঙ্গে ঘর-সংসার করতে হলে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দিতে হবে বলে দাবি করেন আতাউর রহমান। কিন্তু তা দিতে না পারায় তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দেননি।
সর্বশেষ গত ২ জুন ভাইদেরকে নিয়ে রশিদা বেগম তার স্বামীর বাড়িতে যান। কিন্তু এর পরও জামায়াত নেতা আতাউর রহমান প্রভাব দেখিয়ে তাকে ঘরে তুলে নেননি। স্ত্রীর অধিকার চাইলে তার ক্ষতি হবে বলে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এর প্রেক্ষিতে তিনি মামলা দায়ের করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করে রাশেদা বেগম।
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির ও দলটির কেন্দ্রের কর্মপরিষদ সদস্য আতাউর রহমানের বয়স বর্তমানে ৬৫ বছর। তার বাড়ি রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানার তেরখাদিয়া এলাকায়। গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগে ও পরে বিভিন্ন মামলার আসামী হয়ে তিনি রশিদার বাড়িতে দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে ছিল। রশিদা বেগম ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লক্ষ্মীপুর শাখায় কর্মরত আয়া। তার বাড়ি নগরের রাজপাড়া থানার বসুয়া এলাকায়। স্বামী পরিত্যক্তা রশিদা দুই সন্তানের জননী। আত্মগোপনে থাকার সময় বৃদ্ধ বয়সে রশিদার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন আতাউর। পরে গোপনে রশিদাকে বিয়ে করে তিনি।
রশিদা বেগম জানান, ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল মহানগরীর রাজপাড়া থানার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিবাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী আবদুর সাত্তারের কাছে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে তাকে বিয়ে (কাবিননামা নম্বর ০৬/২০১৬) করেন আতাউর রহমান। কিন্তু বিয়ের এক বছর পার হয়ে গেলেও তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেয়া হয়নি। বিষয়টি তিনি ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জামায়াত নেতাদের জানানো হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জামায়াত নেতারা দুই দফায় তার সঙ্গে আলোচনা করে আমাকে স্ত্রীর অধিকার দেয়ার জন্য আতাউর রহমানকে বলেন। কিন্তু তিনি তাদের কথা মানেননি। ফলে মামলা করতে তিনি বাধা হয়েছেন বলে জানান রশিদা বেগম।
