Monday, January 12সোনাগাজীর প্রথম অনলাইন পএিকা
Shadow

ভিখারিনী সেই মায়ের দায়িত্ব পালনে পুলিশ কর্মকর্তা সন্তানদের শপথ

সোনাগাজীর আলো ডেস্ক>> ২২ সেপ্টেম্বর ১৭।। ০৭:২০:১২ পিএম

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সেই বৃদ্ধ ভিখারি মায়ের দেখভাল করার জন্য পাঁচ ছেলেকে অঙ্গীকার করালেন রেঞ্জ ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে এই অঙ্গীকার করানো হয়।

বৃদ্ধ মা মনোয়ারা বেগমের (৭০) দায়িত্ব নিতে তিন পুলিশ সন্তানসহ পাঁচজনই প্রস্তুত রয়েছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে ডিআইজি তাদের একটি শর্তজুড়ে দিয়েছেন তিনি (ভিখারি) যার কাছে যাবেন সেই ছেলে দেখভাল করবেন।

এছাড়া বাকি ছেলেরাও তার নিয়মিত খোঁজখবর রাখবেন। এই বিষয়টি তদারকি করার জন্য বরিশাল জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দিয়েছেন ডিআইজি।

তবে বৃদ্ধা মায়ের স্কুলশিক্ষিকা কন্যা ডিআইজি অফিসে আসেননি।

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বৃদ্ধার ছেলেদের মুখ থেকে পুরো বিষয়টি শুনে পারিবারিক দ্বন্দ্বের আলামত পাওয়া গেছে। মূলত পৈত্রিক একটি সম্পত্তি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছে। যে কারণে মাকে অবহেলা বা অবজ্ঞা করা হয়েছে।

এই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

পরবর্তীতে দোষগুণ বিবেচনা করার পরে বৃদ্ধ মা অনুমতি দিলে পুলিশ ছেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হেডকোয়াটারে সুপারিশ রাখা হবে।”

উল্লেখ্য, বাবুগঞ্জ উপজেলার ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের মৃত আইয়ুব আলী সরদারের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম। আইয়ুব আলী কৃষক পরিবারের সন্তান হলেও নানা অভাব অনাটনের সংসারে ছয় সন্তানকে মানুষ করেছেন। সে দম্পতির ছয় সন্তানের মধ্যে তিন ছেলে- ফারুক হোসেন, নেছার এবং জসীম উদ্দিন পুলিশে কর্মরত। মেয়ে মরিয়ম সুলতানা শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। অন্য দুই ছেলে শাহাবউদ্দিন ব্যবসা এবং গিয়াস উদ্দিন নিজের ব্যবহৃত ইজিবাইক ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।

স্বামী মারা যাওয়ার পর ছেলে ও মেয়েদের অবহেলার কারণে ভিক্ষার থালা নিতে হয় বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগমকে। কয়েক মাস আগে ভিক্ষা করতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে তার কোমরের হাড় ভেঙে যায়। এরপর থেকেই তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারতেন না। ভিক্ষার পথও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে বিনা চিকিৎসায় অর্ধাহারে অনাহারে বাবুগঞ্জের স্টিল ব্রিজের পাশে একটি ঝুঁপড়ি ঘরে পড়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *