Thursday, January 15সোনাগাজীর প্রথম অনলাইন পএিকা
Shadow

ত্বকের সোরিয়াসিস রোগ

ডা: দিদারুল আহসান>>০৫ নভেম্বর ২০১।।০৮:২৫:২৮ পিএম

সোরিয়াসিস একটি দীর্ঘস্থায়ী দুরারোগ্য চর্মরোগ। এই রোগ নারী-পুরুষ সবারই হতে দেখা যায়। এখনো পর্যন্ত এই রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। লিখেছেন ডা: দিদারুল আহসান

সোরিয়াসিস একটি দীর্ঘস্থায়ী দুরারোগ্য চর্মরোগ। এই রোগ নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই হতে দেখা যায়। এখনো পর্যন্ত এই রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এ ক্ষেত্রে ত্বকে প্রথমে প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং সে স্থানে লালচে ভাব দেখা যায়। একই সাথে ছোট ছোট গুটি যা চামড়া থেকে সামান্য উঁচুতে থাকে। ধীরে ধীরে এগুলো বড় হতে পারে। মাছের আঁশের মতো উজ্জ্বল সাদা শুকনো চটলা দ্বারা গুটিগুলো আচ্ছাদিত থাকে। এই আঁশগুলো ঘষে ঘষে তুললে আঁশের নিচের চামড়ায় লালচে ভাব দেখা যায় এবং তা থেকে রস-কষ ঝরতে পারে এবং সেখান থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রক্তক্ষরণও হতে থাকে।

সাধারণভাবে একজন সোরিয়াসিসের রোগীকে দেখলে অন্যরা ভয় পেয়ে যান এবং অনেকেরই ধারণা এটা বুঝি ছোঁয়াচে। আসলে এটা কোনোক্রমেই ছোঁয়াচে রোগ নয়। এটা কোনো জীবাণুজনিত রোগও নয়। তাই তার থেকে অন্য কারো হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই। এটা তেমন বড় কোনো শারীরিক সমস্যার সৃষ্টিও সাধারণত করে না।

কাদের হয় : নারী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই সমহারে হতে দেখা যায়। যেকোনো বয়সেই হতে পারে। তবে ১৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বেশি হতে দেখা যায়। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। এ ক্ষেত্রে জেনেটিক বা পারিবারিক প্রভাব অবশ্যই আছে বলে প্রমাণিত হয়েছে এবং অনেক কিছুরই প্রভাবে এটা বাড়তে দেখা গেছে। যেমন আঘাত, ইনফেকশন, দুশ্চিন্তা, আবহাওয়ার পরিবর্তন, নানাকরম ওষুধ যেমন- কোনো ম্যালেরিয়ার ওষুধ, ব্লাড প্রেসারের ওষুধ, হরমোন এবং কর্টিসেল জাতীয় ওষুধ সেবনে প্রাথমিকভাবে উপকার পেলেও পরে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

উপসর্গ : সোরিয়াসিসের উপসর্গ ত্বকের যেকোনো স্থানেই দেখা দিতে পারে। ত্বক ছাড়া নখেও দেখা দিতে পারে। ত্বকের যেসব এলাকা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়, তা হলো কনুই, হাঁটু, মাথার চামড়া, কোমড়ের নিচের মধ্যখানের স্থানে ইত্যাদি। তবে এটা শরীরের যেকোনো স্থানের যেকোনো চামড়ায়ই হতে পারে। সাধারণত এ রোগে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য উপাসর্গই থাকে না।

তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামান্য চুলকানিভাব থাকতে পারে। তবে যাদের এ রোগ হয় তারা লোকসমাজে যেতে ইতস্তত করেন, যাদের কাছে যান তারাও দেখলে ছোঁয়াচে ভেবে ভয়ে দূরে থাকতে চান। কারণ চামড়া উঠতে উঠতে এমন এক ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি হয় যা কি না রোগীর জন্য এক বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করে। আসলে কিন্তু এ রোগটি কোনো অবস্থাতেই ছোঁয়াচে নয়।

প্রথমে ত্বকে প্রদাহের সৃষ্টি হয়, তারপর লালচে ভাব ধারণ করে, সেখানে ছোট ছোট গুটি দেখা দেয়, ওপরের ত্বকে চলটার আকারে মাছের আঁশের মতো শুকনো চামড়া দেখা দেয় যা কি না টানলে চলটাসহ উঠে আসে। খুঁটে বা টেনে এই চামড়া তুললে নিচে লালচে চামড়া দেখা যায়। যা থেকে রস ঝরে এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রক্তক্ষরণ দেখা যায়। সোরিয়াসিসের ক্ষেত্রে ত্বকের উপসর্গের বাইরে সাধারণত কোনো শারীরিক উপসর্গ থাকে না। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন হাত ও পায়ের গিরায় গিরায় বাতব্যথার মতো ব্যথা দেখা দিতে পারে, যাকে বলা হয় সোরিয়াটিক আর্থোপ্যাথি।

এ ছাড়া হাত ও পায়ের তালুতে পুঁজ ভর্তি দানা দেখা দিতে পারে, যাকে বলা হয় প্যাস্টুলার সোরিয়াসিস। আবার ছোট ছোট দানার আকারে লালচে আঁশযুক্ত সোরিয়াসিস যা সারা দেহসহ হাত-পা পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে, যাকে বলা হয় গাটেট সোরিয়াসিস। সোরিয়াসিসে নখও আক্রান্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নখের রঙ হলদে হতে পারে এবং নখের গায়ে ছোট ছোট দানার আকারে দেখা যায়। নখ পুরো হতে যেতে পারে, নখের গায়ে ফাটা ফাটা দাগ দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া সোরিয়াসিসে আর একটি জটিলতা দেখা দিতে পারে যাকে বলা হয় সোরিয়াটিক এরিথ্রোডারমা, যাতে সারা শরীরের ত্বকে প্রদাহ দেখা দেয় এবং সারা শরীরের ত্বক লালচে হয়ে ফুলে ওঠে। তার সারা শরীর থেকে শুকনো আঁশ ঝরে ঝরে পড়তে থাকে। এ অবস্থায় রোগীর জীবন আশঙ্কাযুক্ত হয়ে পড়ে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সোরিয়াসিস যখন মাথায় দেখা দেয় তখন তাকে বলা হয় স্কালপ সোরিয়াসিস।

আমাদের দেশে কেন, পৃথিবীজুড়েই এটা ব্যাপক আকারে দেখা যায়। তবে অনেকেই এটাকে মাথার ত্বকের ছত্রাকজনিত চর্মরোগ (টিনিয়া ক্যাপিটিস) ভেবে ভুল করে থাকেন। এ ক্ষত্রে মাথার ত্বক থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি আঁশ উঠতে থাকে এবং আঁশের নিচের ত্বকে লালচে প্রদাহজনিতভাব দেখা যায়। তবে মাথায় তেমন কোনো চুলকানি থাকে না। অল্প সামান্য থাকলেও অনেকে আবার খুশকি ভেবেও ভুল করে থাকেন।

চিকিৎসা : চিকিৎসায় এটি সম্পূর্ণরূপে সেরে যাবে এ কথা বলা সঙ্গত হবে না। তবে বর্তমানে কিছু কিছু চিকিৎসাপদ্ধতি বেরিয়েছে যা প্রচুর সাফল্য আনতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে puva থেরাপি অন্যতম। মলমের মধ্যে ক্যালসিপট্রিয়ল ও ক্লোরেটাসল প্রপায়নেট অন্যতম।

লেখক : চর্ম, অ্যালার্জি ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ, আলরাজী হাসপাতাল, ১২ ফার্মগেট, ঢাকা।

ফোন : ০১৮১৯-২১৮৩৭৮

 

রিউম্যাটিক ফিবার –ডা: ফারহানা শর্মী

সাধারণত স্টেপটোকক্কাস এ নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা গলা সংক্রামিত হলে শরীরের ওই ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের এক রি-অ্যাকশন তৈরি করে। সেই রি-অ্যাকশনের ফলেই রিউম্যাটিক ফিভার হয়। এই ইনফেকশন গলা ছাড়া আর কোথায় হয়? গলা ছাড়া কানে বা চামড়াতে হতে পারে। তবে বেশির ভাগ গলাতেই হয়। কিভাবে বোঝা যাবে রিউম্যাটিক ফিবার হয়েছে? এর লক্ষণ যেটিকে আমরা ডাকেট জোনস ক্রাইটেরিয়া বলছি তাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত মূল প্রতিফলন। এরও কতগুলো ভাগ আছে। যেমন-

ক) রিউম্যাটিক কার্ডাইটিস (৪০%)

খ) রিউম্যাটিক আর্থ্রাইটিস (৭৫%)

গ) কোরিয়া (সিডেন হ্যাম ডান্স (১০%)

ঘ) সাবকিউটিনিয়াস নিডিউল (১০%-এর কম)।

ঙ) এরিথিমা মার্জিনেটাস (১০%-এর কম)। গৌণ কতগুলো লক্ষণ দেখা যায়। যেমন জ্বর হয় পালস এবং হাট বিট বেশি হয় (একে ট্যাকি কার্ডিয়া বলে) ঊঝজ ঈজচ খুব বেশি থাকে। এ ছাড়া স্টেপটোকক্কাল ইনফেকশনের হিসট্রি নেয়া হয়। মূল এবং গৌণ কারণগুলোর মধ্যে যদি একটা মূল দুটো গৌণ বা দুটো মূল লক্ষণ প্রকাশ পায় তবেই বোঝা যাবে যে, রিউম্যাটিক ফিবার হয়েছে। ল্যাবরেটরি টেস্টে যদি পজিটিভ হয় তবে বোঝা যাবে যে রিউম্যাটিক ফিভার হয়েছে।

সাধারণত কম বয়সীদের হার্টের অসুখের মূল কারণ এই রিউম্যাটিক ফিবার। সঠিক চিকিৎসা না হলে হার্টের জটিল রোগ হতে পারে।

কোন বয়সে এই রোগ বেশি হয়:-

পাঁচ থেকে পনেরো বছরের মধ্যেই এই রোগ বেশি হয়। তবে পরে এর মাত্রা কমে যায়। এর জন্য কী কী কারণ দায়ী হতে পারে? সামাজিক কারণ অল্প জায়গায় বেশি মানুষের থাকা যেমন, একই ঘরে পরিবারে সবাই একসাথে বা স্কুলের ছোট ছোট ঘরে অনেক বাচ্চার বসার জায়গা প্রভৃতি থেকেই এই ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হয়। এর জন্য কখন সতর্ক হওয়া উচিত? ছোটবেলা থেকেই। কারণ রোগের শুরুতে সঠিক চিকিৎসা না করালে পরে কঠিন হার্টের রোগে আক্রান্ত হয় রোগী।

এই রোগ নির্ণয়ের জন্য কী কী পরীক্ষা করা প্রয়োজন:-

ঞঈ, উঈ, ঊঝজ হিমোগ্লোবিন (ঈজচ) অ্যান্টি স্ট্রেপটোলাইসিন ও (অঝঙ) প্রভৃতি পরীক্ষা করাতে হয়। এই (অঝঙ) যদি বড়দের রক্তে ২০০-এর বেশি আর ছোটদের ৩০০-এর বেশি হয় তবে রিউম্যাটিক ফিভার হয়েছে বলে মনে করতে হবে। এ ছাড়া অ্যান্টি উঘঅঝ এবং অহঃর ঐুধষঁৎড়হরফবংব পরীক্ষা দুটো করা হয়। এই দুটো টেস্ট খুবই ব্যয়বহুল। এটি কি বংশগত রোগ? না। একবার হওয়ার পরে আবার হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু। এর থেকে অন্য রোগ হতে পারে কি? সঠিক চিকিৎসা করা হলে এই রোগের সম্ভাবনা কমে যায়। এর থেকে হার্টের ভালভের অসুখ হয়। এই রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজের চিকিৎসা খুব ব্যয়বহুল।

এই রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি কী ধরনের:-

অ্যাসপিরিন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। লং টার্ম পেনিসিলিন নিতে হয় ২৫-৩০ বছর পর্যন্ত এই পেনিডিওর ঘঋ-১২ ইনজেকশন মাসে তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে একবার নিলেই হয়, অথবা এরিথ্রোমাইসিন ট্যাবলেট প্রতিদিন খেতে হয়।

অনেক লোকের একসাথে বাস করা পরিহার করতে হবে। আর পুষ্টির দিকে নজর দিতে হবে। স্যাঁতসেঁতে ঘরে না থেকে আলো বাতাসযুক্ত ঘরে বসবাস করতে হবে। তবেই এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *