Tuesday, January 13সোনাগাজীর প্রথম অনলাইন পএিকা
Shadow

শুভর টাকায় চীন থেকে এসে তাকেই খুন

নিজস্ব প্রতিনিধি>> ১৭ আগষ্ট ১৮।।১১:৫৫:৪৩ পিএম
সুদূর চীনে বসেই সাবেক স্বামী মাঈনউদ্দিন ওরফে শাহরিয়ার শুভকে খুনের পরিকল্পনা করেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ডা. রোকসানা আক্তার (২২)। ১৫ আগস্ট দেশে এসে পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৬ আগস্ট শুভকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মাথাটি ফেলা হয় হোটেলের ডাস্টবিনে, আর দেহ তোষক মুড়িয়ে খাটের উপর ঢেকে রাখা হয়।
এরপর ফের বিদেশ পাড়ি দেয়ার প্রস্তুতি নেন ডা. রোকসানা আক্তার। তবে তার আগেই চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। ডা. রোকসানা আক্তার পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন ছুরি ও চাপাতি দিয়ে শুভকে গলাকেটে হত্যার পর দেহ থেকে মাথাটি পৃথক করেছেন তিনি।
চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ- সিএমপির খুলশী থানার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, খুনের কাজে ব্যবহৃত একটি ছুরি ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে রোকসানার মা নাছিমা আক্তারকেও সকাল আটটার দিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দিনগত রাত দুইটার দিকে ডা. রোকসানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরের ২ নম্বর গেইট আল ফালাহ গলির মুখ থেকে। শুক্রবার সকাল আটটার দিকে আটক করা হয় তার মা নাছিমা আক্তারকে।
তবে পুলিশ বলছে, তার মাকে আটক করা হয়নি, কিছু তথ্য জানার জন্য থানায় ডেকে আনা হয়েছে।
নগরের ফয়স লেক এলাকার লেকসিটি মোটেল ম্যানেরজার মো. ইলিয়াছ জানান, ডা. রোকসানা আক্তার ও মাঈন উদ্দিন ওরফে শাহরিয়ার শুভ ১৫ আগস্ট বুধবার দিনগত রাত দেড়টার সময় হোটেলে আসেন। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তারা একটি কক্ষ ভাড়া নেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে রোকসানা একা হোটেল থেকে বের হয়ে ঘণ্টা খানেক পর ফিরে আসেন। এরপর রাত নয়টা থেকে সাড়ে নয়টার দিকে ডা. রোকসানা আবার তড়িগড়ি করে বের হচ্ছিলেন। এসময় কোথায় যাচ্ছেন জিজ্ঞাসা করলে রোকসানা জানান, একটি টেইলার্সে কিছু ড্রেস সেলাই করতে দিয়েছি, সেগুলো আনতে যাচ্ছি। কাল শুক্রবার, কিছুক্ষণ পর দোকান বন্ধ করলে আর নিতে পারবো না।
মো. ইলিয়াছ জানান, রাত ১২টার দিকেও যখন ডা. রোকসানা ফিরেনি, তখনই পুলিশকে খবর দেই। আর পুলিশ এসে বাহির থেকে তালাবদ্ধ কক্ষটি খুলে লাশ উদ্ধার করে।
চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ- সিএমপির খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, রাতে খবর পেয়ে হোটেলে গিয়ে কক্ষটি খোলা হয়। এরপর সিআইডি, পিবিআই, ডিবি ও এসবিকে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে র্যাবও ঘটনাস্থলে আসে। এরপর সকল সংস্থার প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে তিনটার দিকে লাশ থানায় আনা হয়।
তিনি জানান, এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. জাফর উদ্দিন বাদী হয়ে রোকসানা আক্তার পপিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
নিহতের বড় ভাই মো. জাফর উদ্দিন বলেন, রোকসানা সম্পর্কে মামাতো বোন। তারা ভাড়া বাসা নিয়ে থাকে নগরের ২ নম্বর গেইট আল ফালাহ গলির রশিদ ভবনে। তবে গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জের মেহেদী নগর।
তিনি বলেন, আমাদের বাড়ি ছাগলনাইয়া জয়পুর বালুর চর এলাকায়। গ্রামের বাড়িতে যাওয়া আসার সুবাধে স্কুল জীবনেই শুভর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। ২০১২ সালে আমাদের কাউকে না জানিয়ে তারা দুইজন কোর্টে গিয়ে বিয়ে করে।
জাফর বলেন, বিয়ের খবর জানাজানি হওয়ার পর পথের কাটা হয়ে দাঁড়ায় রোকসানার মা নাছিমা বেগম। এরপর থেকে রোকসানার জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য শুভকে একের পর এক হুমকি দিতে থাকে। ২০১৪ সালে নাছিমা বেগম রোকসানাকে বাধ্য করে শুভকে তালাক দিতে। এরপর রোকসানাকে ডাক্তারি পড়তে পাঠিয়ে দেয়া হয় চীনে।
জাফর বলেন, গত দেড় থেকে দুই মাস আগে রোকসানা আবার শুভকে ফোন করা শুরু করে। পরে দেশে আসবে বলে টাকা চায়। শুভ দেশে আসা-যাওয়ার বিমান টিকেট ও তার কেনাকাটার জন্য দুই লাখ টাকা পাঠিয়ে দেয় শুভ। সে টাকা পেয়ে দেশে এসে মাত্র একদিনের মাথায় খুন করে শুধু তার জীবন থেকে নয়, পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
জাফর বলেন, শুভ জয়দেবপুর সরেজমিন উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পর্যন্ত পড়েছে। জয়দেবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিল শুভ।
থানায় দায়ের করা মামলায় মো. জাফর উদ্দিন উল্লেখ করেছেন, গত ১৫ আগস্ট হযরত শাহজাহালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে নামে রোকসানা। বিকেল তিনটার দিকে শুভ রোকসানাকে রিসিভ করে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরের খুলশীর ফয়স লেকসিটি মোটেল ফাইভের দ্বিতীয় তলার ২০৩নং কক্ষ ভাড়া নিয়ে উঠে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শুভকে ঘুমের কিছু খাইয়ে ঘুমের মধ্যেই ধারালো ছুরি ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে। এরপর মাথা হোটেল কক্ষের রক্ষিত ডাস্টবিনে এবং দেহ তোষক দিয়ে মুড়িয়ে খাটের উপর ঢেকে রাখে।
ডা. রোকসানা আক্তার পপি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বারৈয়ারহাট মেহেদী নগর গ্রামের আবু আহম্মদের মেয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *