Tuesday, January 13সোনাগাজীর প্রথম অনলাইন পএিকা
Shadow

সোনাগাজীতে শিক্ষকের বিকৃত লালশার শিকার দুই মাদ্রাসা ছাত্র

নিজস্ব প্রতিনিধি>> ১৬ আগষ্ট ১৮।।বৃহস্পতিবার, ০৩:০৫:১২ পিএম।
সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউপির সফরাবাদ গ্রামে “মাদরাসাতু ওসমান রা:”নামক কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষকের বিকৃত লালসার শিকার হয়েছে হাফেজি বিভাগে অধ্যয়নরত দুই ছাত্র।অভিযুক্ত মাওলানা মুহাম্মদ ফাত্তাহ বিন আমিন মাদ্রাসার মুহতামিম ও হাফেজি শাখার শিক্ষক।মাদ্রাসাটি তার পিতা মাওলানা রুহুল আমিন প্রতিষ্ঠা করলেও সে পরিচালনা করছে।ঘটনাটি জানাজানি হলে নির্যাতিত ছাত্রদের স্বজন ও এলাকাবাসী বুধবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসা ঘেরাও করলে গনরোষের ভয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সহ অপর শিক্ষকরা মাদ্রাসায় তালা মেরে পালিয়ে যায়।
জানা গেছে, মাদ্রাসার হাফেজি শাখায় ৭০ জনের মতো ছাত্র হোষ্টেলে থেকে পড়াশোনা করে।বুধবার দুপুরে যৌন নিপিড়নের শিকার এক ছাত্রের মা তার ছেলের সাথে সাক্ষাত করতে মাদ্রাসায় যায়।মাকে কাছে পেয়ে ছাত্রটি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে তার উপর নির্যাতনের বিষয়টি জানিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম প্রকাশ করে।ওই ছাত্রের মা অভিযুক্ত শিক্ষক কে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে সে অস্বীকার করলে উপস্থিত ছাত্ররা চিৎকার করে ঘটনা সত্য বলে জানায়।এসময় আরো কয়েকজন ছাত্র তাদের উপর যৌন নির্যাতন করা হয়েছে জানালে অবস্থা বেগতিক দেখে লম্পট শিক্ষক সটকে পড়ে।
বিষয়টি জানাজানি হলে মাদ্রাসা হোষ্টেলে থাকা ছাত্রদের অভিভাক ও এলাকাবাসী মাদ্রাসা ঘেরাও করলে অভিযুক্ত শিক্ষক সহ অন্য শিক্ষকরা পালিয়ে যায়।অভিভাবকরা হোষ্টেল থেকে তাদের সন্তানদের বাড়ীতে নিয়ে যায়।
যৌন নিপিডনের শিকার এক ছাত্রের পিতা গোবিন্দপুর গ্রামের ইমরান হোসেন জানিয়েছে,কোরআনে হাফেজ বানাতে ছেলেকে মাদ্রাসায় দিয়েছি কিন্তু ছেলের উপর যে নির্যাতন করা হয়েছে তাহা ভাষায় প্রকাশ করার মতে না,তিনি লম্পট শিক্ষকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করেন।
যৌন নিপিডনের শিকার এক ছাত্র জানান, গভীর রাতে পড়াবে বলে হুজুর তাকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়।একসময় মাথা টিপে দেওয়ার কথা বলে সে মাথা মালিশ করার সময় হুজুর তাকে ঝাপটে ধরে নির্যাতনের চেষ্টা চালায়।চিৎকার দিলে তিনি হুজুরের কথা না শুনলে আল্লাহ গুনাহ দিবে বলে তাকে বলৎকার করে।এভাবে অনেক ছাত্রকে হুজুর বলৎকার করেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য জানতে বৃহস্পতিবার দুপুরে তার ব্যবহ্নত মোবাইল ফোন ০১৮১১১১৫৬৪৬ নম্বরে দিলে সেটি বন্দ পাওয়া গেলে মাদ্রাসা ও তার বাড়ীতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক ঘটনাটি মিমাংশা করার জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অবস্থান করছে।সেখানে গিয়ে তাদের কে পাওয়া গেলেও অভিযুক্ত শিক্ষক কে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জানান,ঘটনা শুনে বুধবার সন্ধায় মাদ্রাসায় গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করেছি।ইউপি কার্যালয়ে অভিযুক্ত কে ডাকা হলেও সে না এসে তার পিতাকে পাঠিয়েছে।তিনি জানান,ঘটনা সত্য,তার বিরুদ্ধে এর পূর্বেও এ ধরনের অনেক অভিযোগ রয়েছে।কিন্তু ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা না করায় সে পার পেয়ে যায়।
সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক মোয়াজ্জেম হোসেন জানিয়েছে, ঘটনাটি জানার পর সরজমিনে তদন্ত করতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *