
আবুল হোসেন রিপন>> ০৯ আগষ্ট ১৮।।বৃহস্পতিবার,০৪:১৮:৩৪ পিএম
সোনাগাজী সরকারী কলেজে শ্রেনী কক্ষে স্থান সংকুলান না হওয়াতে বাংলা,ইংরেজী ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বারান্দায় বসে শিক্ষকদের পাঠদান গ্রহনে করতে বাধ্য হচ্ছে।বেঞ্চ ও স্থান সংকটের কারনে বারান্দা তাদের ভরসা হয়ে উঠেছে।তবে কলেজ অধ্যক্ষ মহি উদ্দিন ছৌধুরীর ভাষ্য তিনটি বিভাগে শিক্ষার্থী আধিক্যের কারনে সাময়িক সমস্যা হলেও অচিরেই তাহা সমাধান করা হবে।
কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নেয়ামত উল্যা জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা শ্রেনী কক্ষের বাহিরে দাড়িয়ে বারান্দায় পাঠদান গ্রহন করছে দেখে তিনি বিকল্প উপায়ে বেঞ্চ সরবরাহ করে সমস্যার প্রাথমিক সমাধান করেন তবে এটা কোন সমাধান নয়।

চলিত বছরে এইসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জেলার ৬টি সরকারী কলেজের মধ্যে সোনাগাজী সরকারী কলেজের শিক্ষার্থীরা খারাপ ফলাফল করেছে।কলেজের শিক্ষক সংকট,শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় অনিহা,কলেজ কর্র্তৃপক্ষের উদাসিনতা ফলাফল বিপর্যয়ের কারন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, প্রথম বর্ষে এ বছর মানবিক বিভাগে ৩০৩ জন,কমার্সে ২৯৭ জন ও বিজ্ঞান ৬৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।আরো শতাধীক শিক্ষার্থী ভর্তির অপেক্ষায় রয়েছে।তিন বিভাগের বিপুল শিক্ষার্থী বাংলা,ইংরেজী ও আইসিটিতে একসাথে ক্লাস নিতে হয়।কলেজের একমাত্র অডিটোরিয়াম যেখানে আগে বাংলা,ইংরেজী ও আইসিটির ক্লাস নেয়া হতো গত কয়েক বছর বেঞ্চ সংকটের কারনে সেটি অব্যবহ্নত থাকার জরাঝির্ন হয়ে পড়েছে।বর্তমানে কলেজের যে শ্রেনী কক্ষটিতে ক্লাস নেয়া নিচ্ছে সেটি অনেক ছোট যার কারনে বিপুল শিক্ষার্থীর একসাথে বসার স্থান সংকুলান না হওয়াতে বারান্দায় বসতে বাধ্য হচ্ছে।শিক্ষক সংকটের কারনে একজন শিক্ষক প্রায় সাড়ে ৬শ শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছে।এতে শিক্ষার মান ও পরিবেশ নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে।

কলেজ অধ্যক্ষ মহি উদ্দিন ছৌধুরী স্থান সংকুলান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বারান্দায় বসতে বাধ্য হচ্ছে স্বীকার করে জানিয়েছে,কয়েক দিনের মধ্যে বাংলা,ইংরেজী,আইসিটিতে দুই শিফট করে ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।তখন আর শ্রেনী কক্ষে স্থান সংকুলান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সোনাগাজী সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ শিক্ষকের পদ রয়েছে ৪১টি। এর মধ্যে ইংরেজি শিক্ষকসহ ২২টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এতে কলেজের ১ হাজার ১০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক সংকটে পড়ে উপজেলার একমাত্র সরকারি কলেজটি মেধাবী শিক্ষার্থী টানতে ব্যর্থ হচ্ছে। ঘোষিত ফলাফলেও অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সোনাগাজী সরকারি কলেজের ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকের তিনটি পদই শূন্য। এ ছাড়া অর্থনীতি, পদার্থবিজ্ঞান, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রতিটিতে তিনজন করে শিক্ষকের পদ থাকলেও রয়েছেন মাত্র একজন করে শিক্ষক। একইভাবে রসায়ন, বাংলা ও সমাজকর্ম বিভাগের প্রতিটিতে তিনজন করে শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন দুজন করে। সাধারণ ইতিহাস, গণিত, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রানীবিদ্যা বিভাগের প্রতিটিতে দুজন করে শিক্ষকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন একজন করে। এ ছাড়া কম্পিপউটার বিভাগে কোনো শিক্ষকই নেই। ফলে এ বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম নেই বললেই চলে।
অন্যদিকে রসায়ন, পদার্থ ও জীববিজ্ঞানের ল্যাবে প্রদর্শকের (ডেমোনেস্ট্রেটর) তিনটি পদের মধ্যে কর্মরত মাত্র একজন প্রদর্শক। কলেজের কার্যালয় সহকারী পদে তিনজনের মধ্যে রয়েছেন একজন। চতুর্থ শ্রেণির (এমএলএসএস) কর্মচারীদের আটটি পদের মধ্যে কর্মরত চারজন। কলেজের প্রথম শ্রেনীর গ্রন্থাগারিক পদটি সৃষ্টির পর থেকেই শূন্য রয়েছে। শিক্ষক ও প্রদর্শক-স্বল্পতার কারণে কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া কর্মচারী সমস্যার কারণে কলেজের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজকর্মে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। কলেজ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মহীউদ্দিন চৌধুরী বলেন, শিক্ষকদের শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে একাধিকবার চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কলেজের শিক্ষার মান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষক-স্বল্পতার পরও শ্রেনী কার্যক্রমের তেমন কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। কারণ ওইসব বিষয়ে কিছু খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে শ্রেনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
