
সোনাগাজী প্রতিনিধি>> ১৯ ডিসেম্বর ১৮।।বুধবার,০৪:২০:২৩ পিএম
ফেনী-৩(সোনাগাজী-দাগনভুঞা) আসনে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে সমর্থন করে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশার।বুধবার সকালে গনভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত শেষে তিনি নিকুঞ্জে নিজ বাসভবনে ম্সাুদ চৌধুরী কে সাথে নিয়ে ফটোশেষন করে এমন সিদ্ধান্তের বিষয়টি নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের অবহিত করেন।
আবুল বাশারের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক দাগনভুঞা পৌর কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান সবুজ সমকাল কে জানান, বুধবার সকালে মহাজোট প্রার্থী মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী,আবুল বাশার,এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সহসভাপতি নিজাম উদ্দিন চৌধুরী গনভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করেন।প্রধানমন্ত্রী আবুল বাশারকে দল তৃতয়িবারের মতো ক্ষমতায় গেলে মুল্যায়ন করা হবে আশ্বাস দিয়ে মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অনুরোধ জানালে তিনি তাহা মেনে নেন।২২ ডিসেম্বর দাগনভুঞাতে নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত থেকে আবুল বাশার আনুষ্ঠানিকভাবে মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ শুরু করবেন।
মহাজোট প্রার্থী মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী সমকাল কে বলেন,প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে আবুল বাশার নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে আমাকে সমর্থন করেছেন।ইনশাআল্লাহ সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে আসনটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেওয়া হবে।
আবুল বাশার ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী হয়ে আসনটিতে ৯৪ হাজার ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী মরহুম মোশারফ হোসেনের কাছে পরাজিত হয়েছেন।২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও তিনি আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী ছিলেন। আসনটি সেসময় মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিলে আবুল বাশার দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যান।এবারের নির্বাচনে আসনটিতে আবুল বাশারসহ ১৭ জন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।আওয়ামীলীগ গতবারের মতো এবারও আসনটি মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়।জাতীয় পার্টি আসনটিতে গতবারের প্রার্থী রিন্টু আনোয়ারকে মনোনয়ন না দিয়ে ওয়ান ইলিভেনের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মনোনয়ন প্রদান করে।মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে আওয়ামীলীগের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সরে দাড়ালেও আবুল বাশার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে থেকে যায়।তিনি আপেল প্রতিক নিয়ে আসনটিতে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা অব্যহত রাখে।নির্বাচনী মাঠে তার অবস্থানের কারনে আওয়ামীলীগের সমর্থকরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে।গত কয়েকদিন ধরে মাসুদ চৌধুরী নির্বাচনী মাঠ থেকে আবুল বাশারকে সরানোর জন্য দেনদরবার করে ব্যর্থ হয়ে আওয়ামীলীগের হাইকমান্ডের শরনাপন্ন হয়।
জানা গেছে আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার আবুল বাশার কে ঢাকা তলব করে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর আহবান জানান।মাসুদ চৌধুরীর ব্যপক তৎপরতায় অবশেষে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত শেষে আবুল বাশার নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে মহাজোট প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষনা দেন।এতদিন ত্রিমুখি প্রতিদ্বন্ধিতার আভাশ পাওয়া গেলেও নির্বাচনী মাঠ থেকে আবুল বাশারের সরে যাওয়ার ঘোষনায় আসনটিতে মূল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে মহাজোটের মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আকবর হোসেনের মধ্যে।
