Tuesday, January 13সোনাগাজীর প্রথম অনলাইন পএিকা
Shadow

সোনাগাজীতে নির্বাচনী প্রচারণায় মহাজোট,মাঠে নেই বিএনপি

আবুল হোসেন রিপন>> ২২ ডিসেম্বর ১৮।।শনিবার,০৫:৩০:৪৫ পিএম
ফেনী-৩ ( সোনাগাজী-দাগনভুঞা) আসনের সোনাগাজীতে নির্বাচনী প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পার করছে মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।মহাজোটের প্রধান শরীক আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতা বাদে বাকি সবাই মাসুদ চৌধুরীর প্রচারনায় সক্রীয়ভাবে অংশগ্রহন করছে।অপরদিকে নির্বাচনের কিছুদিন বাকি থাকলেও মাঠে নেই ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।মাইকিং থেকে শুরু করে উপজেলার কোথাও ধানের শীষ প্রতিকের প্রচার প্রচারনা দেখা যাচ্ছেনা।মহাজোটের নেতাকর্মীরা নাঙ্গল প্রতীকের সরগরম প্রচারনা ও প্রার্থী মাঠে সভা সমাবেশ গনসংযোগে ব্যস্ত থাকলেও বিএনপির প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের দেখা মিলছেনা।প্রতীক বরাদ্ধের কয়েকদিন পর বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে মাইকিং হলেও গত ১১ ডিসেম্বর স্বদলীয়দের হাতে সোনাগাজী পৌরসভার হাসপাতাল গেইট এলাকায় বিএনপি প্রার্থী আকবর হোসেন লাঞ্চিত ও ১৭ ডিসেম্বর চরছান্দিয়া ইউপির সওদাগর হাট থেকে নির্বাচনী প্রচার শেষে দাগনভুঞা ফেরার পথে বগাদানা ইউপির তাকিয়া বাজারে দূর্বৃত্তদের হামলার শিকার হওয়ার পর সোনাগাজীর নির্বাচনী মাঠ থেকে পুরোপুরি উধাও হয়ে তাদের কর্মকান্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিমাবদ্ধ হয়ে গেছে ।
মহাজোট পৌরসদর সহ প্রতিটি ইউনয়নে নির্বাচনী অফিস স্থাপন করে তাদের প্রার্থীর পক্ষে মিছিল মিটিং সহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে উৎফুল্ল মনে কাজ করছে।অপরদিকে বিএনপি উপজেলার কোথাও নির্বাচনী কার্যলয় স্থাপন করতে পারেনি।পৌরসভার কেন্দ্রিক নির্বাচনী কার্যালয় না থাকায় পৌর এলাকায় তাদের প্রচার প্রচারনা তেমন দেখা যাচ্ছেনা।শুধু বিএনপি প্রার্থী নয় ,অন্যদের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখার প্রচার প্রচারনা ছাড়া অন্য কারো প্রচার প্রচারনা চোখে পড়ছেনা।আক্ষরিক অর্থে সব দল অংশগ্রহন করলেও আক্ষরিক অর্থে এবারের নির্বাচনে সোনাগাজীতে নির্বাচনী কোন আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা।


বিএনপি নেতারা তাদের নির্বাচনী মাঠে না থাকার কারন হিসেবে বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে কারনে অকারনে বিভিন্ন অভিযোগ এনে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ সরকার দলীয়রা।এসব মামলায় বহু নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে।আবার অজ্ঞাত পরিচয়ে অনেককে আসামী করা হয়েছে।গত কয়েকমাসে শতাধীক বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ,নাশকতা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে ২টি মামলা হয়েছে।এসব মামলায় গ্রেফতার এড়াতে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচনী মাঠ ও ঘরবাড়ী,এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সাবেক পৌরমেয়র জামাল উদ্দিন সেন্টুসহ ৩ সজন নেতাকর্মূকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
১৯৯১ সালে মাত্র আড়াই হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী মরহুম মাহবুবুল আলম তারা মিয়া আওয়ামীলীগের প্রার্থী তিন বারের এমপি তালেব আলীকে পরাজিত করার থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীরা প্রতিবারই জয়লাভ করে।২০১৪ সালে বিএনপি অংশগ্রহন না করলে স্বতন্ত্র এমপি নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা হাজী রহিম উল্যাহ।সে নির্বাচনের সময় পুরো সোনাগাজীতে বিএনপি নেতাকর্মীরা আধিপত্য বিস্তার করে আওয়ামীলীগ ও পুলিশের সাথে বহুবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।আওয়ামীলীগ সরকার দ্বীতিয় মেয়াদে সক্ষমতায় পর সংঘর্ষের ঘটনায় একাধিক মামলা দায়েরর পর বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে তাদের আধিপত্য হারায়।বিএনপির আসন হিসেবে পরিচিত সোনাগাজীতে দলীয় কোন্দল ও পুলিশি অভিযানে নেতাকর্মীরা দলের কেন্দ্রীয় কোন কর্মসুচি পালন করতে পারেনি।সোনাগাজীর রাজনৈতিক অঙ্গনে গুজব রয়েছে আওয়ামীলীগ নেতাদের সহায়তায় যুবদল ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সোনাগাজী পৌর শহরে কয়েকবার মিছিল মিটিং করলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় স্বদলীয় প্রতিপক্ষকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।এসব ঘটনায় রাজনৈতিক মাঠে কোনঠাসা বিএনপি চরম অন্তদ্বন্ধে জড়িয়ে পড়ে।
সরজমিনে ঘুরে উপজেলায় বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী অফিস,ক্যাম্প চোখে পড়েনি।গুটি কয়েক স্থানে পোষ্টার ব্যানার দেখা গেলেও প্রচারনায় লিপ্ত কোন কর্মী সমর্থকের দেখা মিলেনি।

নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় মাঠে বিএনপিকে না দেখা গেলেও মহজোটের নেতাকর্মীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। মহাজোট প্রার্থী মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থনের নেতাকর্রীরা উপজেলার সর্বত্র নাঙ্গল প্রতিকে ভোট চেয়ে প্রচার প্রচারণা করছে।শুরু থেকে আসটিতে আওয়ামীলীগের মনোনয়ণবঞ্চিত জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন নাঙ্গলের পক্ষে মাঠে রয়েছে।আওয়ামীলীগের অপর মনোনয়ণবঞ্চিত আবুল বাশার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে প্রথম কয়েকদিন প্রচার প্রচারণায় থাকলেও গত ১৯ ডিসেম্বর তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর নির্বাচন থেকে সওে গিয়ে নাঙ্গল প্রতিকে সমর্থন জানিয়েছে।গত কয়েকদিনে লিপটন ও মাসুদ চৌধুরী উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে উপজেলার প্রত্যক ইউনিয়নের বড় বড় হাট বাজারে প্রচার প্রচারনা করেছে।
সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির সভাপতির গিয়াস উদ্দিনের মোবাইল নম্বর বন্ধ ও সাধারন সম্পাদক জামাল উদ্দিন সেন্টু কারাগারে থাকায় তাদের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক খুরশিদ আলম ভুঞা বলেন,যুবদল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মামলা মাথায় নিয়েও দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।দলীয় প্রার্থী প্রতীক নিয়ে মাঠে আসলেও পুলিশ ও সরকার দলের মামলা হামলা হয়রানীর কারনে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় অংশ নিতে পারছেনা।
সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জয়নাল আবদীন বাবলু সমকাল কে বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদেও মাঝে কোন বিরোধ নেই।বর্তমানে সবাই ঐক্যবদ্ধ।পুলিশি হয়রানী ও মামলা হামলার কারনে নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে পারছেনা। ধানের শীষের প্রার্থী আকবর হোসেনের উপর হামলা চালিয়ে তাকে ও ২০ নেতাকর্মীদের আহত করার পর যারা হামলা মামলা হয়রানী উপেক্ষা করে এতদিন কাজ করেছিলো তারা অনেকে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা করা যাচ্ছেনা।নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পালিয়ে থাকা নেতাকর্মীরা ঘরমুখি হওয়ার চেষ্টা করেও গ্রেফতার আতংকে সাহস পাচ্ছেনা।
সোনাগাজী উপজেলা আওযামীলীগের সাধারন সম্পাদক পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন,বিএনপিতো সোনাগাজীতে কোন প্রচার প্রচারণা করছেনা.তারা দলীয় কোন্দলে মাঠে না থেকে দায় আওয়ামীলীগের উপর চাপানোর অপচেষ্টা করছে।আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা উপজেলার কোথাও বিএনপির প্রচার প্রচারণায় বাঁধা সৃষ্টি করছেনা।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,পুলিশ রাজনৈতিক কারনে কাউকে হয়না বা গ্রেফতার করছেনা।যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সুনিদিষ্ট অভিযোগে মামলা রয়েছে।বিএনপি প্রার্থী প্রথম দিন যখন সোনাগাজীতে প্রচারনায় আসে তখন তারা পুলিশ অবহিত করেনি।দ্বিতীয়বার সোনাগাজীতে আসার আগে তারা পুলিশকে অবহিত করার পর পুলিশ নিরাপত্তা দিয়ে সওদাগরহাটে তাদের নির্বাচনী জনসভা করতে সহায়তা করেছে।পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ হয়রানী বা গ্রেফতারের চেষ্টা করছেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *