
আবুল হোসেন রিপন>> ১৯ জানুয়ারী ১৯।।শনিবার,০৬:৫৫:৪৩ পিএম
“আশ্রায়নের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার” এ শ্লোগানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্ধ আশ্রায়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় মাথা গোজার ঠাঁই পেলেন সোনাগাজী উপজেলার ৫০টি হতদরিদ্র ভুমিহীন গৃহহীন পরিবার।শ্রমজীবি এসব ভুমিহীন পরিবার এতদিন কেউ বাস করতেন পরের জমিতে,কেউ ছিলেন উদ্বাস্ত।জীবন নির্বাহ করছিলেন ‘পরগাছার’ মতো।উপকূলীয় অঞ্চলে প্রকৃতির সাথে লড়াই করা এসব পরিবার সরকারের সহযোগীতায় একটি করে পাকা ঘর, ঘরের সামনে শাকসবজিসহ প্রয়োজনীয় আবাদের জন্য একখন্ড জমি এবং মাছ চাষের জন্য পুকুর পেয়ে আনন্দে উদ্বেলিত তারা।পরিবারগুলো জানিয়েছে, ভুমিহীন থাকার যে অভিশাফ অন্তত মাথার উপর থেকে সেই অভিশাপ দুর হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলা চরদরবেশ ইউপির দক্ষিন চরদরবেশ আদর্শগ্রামে পরিবারগুলোর মাঝে বাড়ী হস্তান্তরের আয়োজন করে সোনাগাজী উপজেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হতদরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে বাড়ীর চাবি ও কম্বল তুলে দেন ফেনী জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজ্জান।এসময় উপস্থিত ছিলেন সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সোহেল পারভেজ,সহকারী কমিশনার(ভুমি) নাছরিন আক্তার,চরদরবেশ ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ভুট্টু,চরছান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন,বগাদানা ইউপি চেয়ারম্যান ইসহাক খোকন সহ বাড়ী বরাদ্ধ পাওয়া পরিবারগুলোর সদস্যবৃন্দ।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারে আমলে একটি পরিবারও গৃহহীন থাকবেনা। প্রত্যেক গৃহহীন পরিবারকে বাড়ী নির্মান করে মাথা গোজার ঠাঁই করে দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন,আগামী ১৫ দিরে মধ্যে যারা বাড়ী পেয়েছে তাদেরকে বাড়ীতে বসবাসের জন্য উঠতে হবে,কেউ না উঠলে তার বরাদ্ধ বাতিল করা হবে।সরকার পাকা বাড়ী করে দিয়ে দিয়েছে এবং আজীবনের জন্য ভুমি দিয়েছে তাই এসব সঠিকভাবে রক্ষনাবেক্ষন করতে হবে,প্রকল্প এলাকায় ফলজ গাছ লাগিয়ে সুন্দরভাবে সাজাতে হবে।আশ্রায়ন এলাকায় কোন প্রকার অসামাজিক কাজ,অপরাধ,মাদক সেবন,ক্রয় বিক্রি করা যাবেনা।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যানে আপনারা মাথা গোজার ঠাঁই পেয়েছেন তাই সবাই উনার জন্য দোয়া করবেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতর্কার বরাতে জানা গেছে,সরকারের বিশেষ প্রতিশ্রুতিতে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের আশ্রায়ন প্রকল্পের আিধনে চরদরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিন চরদরবেশ আদর্শগ্রামের উপকুলীয় এলাকায় ৪ একর ৪০ শতক খাস জমিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের তত্বাবধায়নে ১০টি পাকা ভবন নির্মান করা হয়।আশ্রায়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের জন্য ১০টি পাকা টয়লেট ৫টি গভীর নলকুপ স্থাপন ও একটি বড় দিঘী তৈরী করা হয়।প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের ভুমিহীন যাচাই বাচাই কমিটি সমগ্র উপজেলা থেকে ৫০টি পরিবারকে আশ্রায়ন প্রকল্পে ঘর বরাদ্ধ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে।যাচাই বাচাই কমিটি যাদের এক শতাংশ থেকে ১০ শতাং জমি রয়েছে কিন্তু ঘর নেই বা থাকলেও তা বসবাসের অনুপোযোগী এমন ব্যাক্তিদের বাচাই করেন। এছাড়াও দু:স্থ্য,অসহায় মুক্তিযোদ্ধা, বিধবা মহিলা,স্বামী পরিত্যাক্তা,প্রতিবন্ধি,উপার্জনে অক্ষম,অতি বার্ধক্য এবং পরিবারের আয় উপার্জনক্ষম সদস্য নেই তাদের প্রধান্য দেন।

প্রকল্পে ঘর বরাদ্ধ পেয়েছেন আদর্শংগ্রামের বাসিন্দা রিকসা চালক দেলোয়ারের স্ত্রী রোকেয়া বেগম।তিনি বলেন, পরিবারের ৪ সদস্য নিয়ে রাস্তার পাশে জরাজির্ন কুড়েঘরে বসবাস করেছি।এতেই কেটে গেছে দাম্পত্য জীবনের সিংহভাগ সময়।শেখ হাসিনা আমাদের দিকে নজর দেয়ায় একটি পাকা ঘর পেয়েছি।কাউকে একটি টাকা দিতে হয়নি।

