
সাদ বিন কাদের>> ০১ ডিসেম্বর ২০
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এই দেশের কিছু তথাকথিত আলেম ফতোয়া দিয়ে বলেছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা মানে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা!
তাদের সেই কল্পিত ফতোয়াকে উপেক্ষা করে এদেশের মুক্তিপাগল জনতা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেয়!
এই দেশ কিসের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে সেটা ১৯৭১ সালে নির্ধারিত হয়েছে, নতুন করে নির্ধারণ করার প্রয়োজ নেই। যারা নতুনভাবে নির্ধারণ করতে আসবে তাদের রুখে দিতে হবে!
রাষ্ট্র পরিচালিত হতে হয় সব ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিতকল্পে। রাষ্ট্র যেমন মানুষের সার্বিক দিক বিবেচনা নিয়ে মদের লাইসেন্স দিয়ে মদের বার পরিচালনা করে, ঠিক একইভাবে অবৈধভাবে মদ বিক্রির দায়ে এবং মদ্যপানের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির শাস্তিও নিশ্চিত করে!
ভাস্কর্য নিয়ে গাত্রদাহ নতুন কোন ইস্যু নয়। যুগ যুগ ধরে এরা শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ এবং বঙ্গবন্ধুর ইস্যুতে বিরোধীতা করে আসছিল। কখনো রাজনৈতিক আবরণে, আবার কখনো ধর্মীয় লেবাসে!
অপারেজয় বাংলা ভাস্কর্য তৈরির সময় বার বার উপরে ফেলতে চেয়েছিল, উপরে ফেলা হয়েছিল এদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের অংশ অনেক ভাস্কর্য। বারবার ভেঙ্গে ফেলা হয়েছিল রাজাকার ঘৃণা স্তম্ব। এর মূল উদ্দেশ্য মানুষ যাতে এদেশের রাজাকার শ্রেণীকে ভুলে যায়। আর তাছাড়া এই ঘৃণা স্তম্ব ভাঙ্গার অন্যতম কারণ রাজাকারদের জুতা নিক্ষেপ করা হলে এদের গাত্রদাহ বেড়ে যায়, তাই এরা বীজগত ভাবে বিরোধী!
ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে আমরা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সাথেই থাকতাম, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রেরও প্রয়োজনীয় হত না। ধর্মীয় উগ্রতা কতটা ভয়ানক তার জলন্ত উদাহরণ পাকিস্তান!
রাষ্ট্র পরিচালিত হবে তার অর্জিত সংবিধান অনুযায়ী। রাষ্ট্র হবে সকল বর্ণের, সকল ধর্মের!
লেখক-সদ্য সাবেক স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক,ডাকসু
